অটো নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ, মানেই খুন!

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বন্দরে নিখোঁজের ৪ দিন পর গত ১ অক্টোবর হাত, পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় কায়েস নামের এক ব্যাটারী চালিত রিকশা চালকের লাশ পাওয়া গেছে। একদিন পর পুলিশ ৩ যুবক জড়িত দাবি করে জানান, ‘অটো ছিনতাইয়ের জন্য হত্যা করা হয় কায়েসকে’। একই থানায় অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে গত ৫ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে রবিন নামের আরও এক অটোচালক। নিখোঁজ অটো রিকশা চালক রবিনের ভাগ্যে কি ঘটেছে? এমন প্রশ্নের উত্তর এখন পর্যন্ত কেউ না দিতে পারলেও গত ১০ মাসে নারায়ণগঞ্জে অন্তত ৬ জন অটোরিকশা চালক ছিনতাইকারীদের হাতে খুনের শিকার হয়েছে।  যাদের অধিকাংশ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। খুনের শিকার অনেকেই আবার ঋণ নিয়ে কিনেছিলেন অটোরিক্সা। ফলে পরিবারগুলোকে স্বজন হারানোর শোকের সঙ্গে বয়ে বেড়াতে হয়েছে ঋণের বোঝাও।

পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের তথ্য বলছে, গত ২৫ এপ্রিল রাতে সৈয়দপুর কাঠপট্টি এলাকার ছিনতাই কারীদের হাতে খুন হন অটোচালক আপন। এরপর ১৩ মে আলীরটেকের গঞ্জকুমারিয়ায় এলাকায় খুন হন সিয়াম, ২৯ আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জে রোপন, ১২ সেপ্টেম্বর বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কান্দিপাড়া এলাকায় খুন হন ফেরদৌস। আর সবশেষ কলাগাছিয়া ইউনিয়নে খুন হয়েছে কায়েস। তারা অধিকাংশই অটো নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ ছিলেন, এরপর লাশ মিলেছে।


অন্তত ১০ জন অটো চালকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মূলত অর্থনৈতিক কারণে ঘটছে এসব হত্যাকাÐ। অটোরিকশা ও ইজিবাইকে সাধারণত কোন নাম্বার প্লেট থাকে না। এ গুলো সহজেই চুরি করে অন্য জায়গায় বিক্রি করা যায়। তাছাড়া ইজিবাইকের প্রতিটি যন্ত্রাংশ আলাদাভাবে খুব সহজেই বিক্রি করা যায় বলেই এসব যানবাহন ছিনতাইয়ে আগ্রহ বেশি ছিনতাইকারীদের। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও পুরান ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকায় পুরোনো ব্যাটারির দোকানে ইজিবাইকের ব্যাটারি বিক্রি হয়।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে চোরাইকৃত কয়েকটি ইজিবাইক মুন্সিগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের পাশের জেলা হওয়ায় অল্প সময়ে কোন কাগজ পত্রের জামেলা ছাড়াই সেখানে নিয়ে অটো বিক্রি করা হচ্ছে। তাদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরিবহন ছিনতাই করতে গিয়ে খুন করেন ছিনতাইকারীরা। এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির হয়তো ঘাটতি রয়েছে। যেসব রুটে বা স্থানে ছোটখাটো অপরাধ হয় সেটা চিহ্নিত করতে হবে। প্রয়োজনে সেখানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বাড়াতে হবে। এছাড়া কী কারণে এ ধরনের অপরাধ হচ্ছে সেগুলো চিহ্নিত করে তার সমাধান করা দরকার।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেছেন, এ ধরণের ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে অটো বা ইজিবাইক চালকদের আরও সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে যাত্রী উঠানোর বিষয়ে। এ ক্ষেক্রে যাত্রীর মোবাইল থেকে নিজের নাম্বারে একটি কল নিলে ভালো হয়। এটা কিন্তু খুবি গুরুত্বপূর্ন একটা বিষয়। কারণ, যখন জিডি হয়েছিলো তখন সহজভাবে আমরা বুঝতে পারতাম। যে সব শেষ কে তাকে কল দিয়েছিলো বা যে যাত্রী উঠেছে তার মাধ্যমে সে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমরা যদি সাথে সাথে যানতে বা বুঝতে পারতাম তা হলে হয়তোবা এ হত্যাকান্ড থেকে তাকে রক্ষা করা যেত। তাই চালকদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই, অবশ্যই রাত্রে যে যাত্রী তুলবেন তাদের মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করবেন। যাত্রীকে বলবেন, আমাদের এখানে পুলিশ প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে- আমাদের ফোনে কল দিতে হবে। তখন কোন চালক মিসিং হলে কল লিস্ট পর্যালোচনা করে আমরা তাকে সহজে বের করতে পারবো।
মিশুক বা অটোরিক্সা ছিনতাই চক্রের সদস্যদের ধরতে পুলিশের আলাদা কোন উদ্যোগ আছে কী না এমন প্রশ্নের জবাবে এসপি বলেন, আসলে আমরা এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি এবং আমি এই জেলায় যোগদান করার পরপর আপনাদের (সাংবাদিক) সাথে মতবিনিময় করেছিলাম। তখন আমি বার বার বলেছিলাম আমাদের স্পেশাল অভিযান চলমান আছে এবং সঙ্গবদ্ধ এমন কোন চক্রের সন্ধান পেলে অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

,