অনিয়ম দূর্নীতি করতে করতে শিক্ষকের চর্বী জমে গেছে: জেলা প্রশাসক

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই অসংখ্য দূর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।
রোববার বিকেলে স্কুল মিলনায়তনে অভিভাবকদের সাথে জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিনের মতবিনিময় সভায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের ক্ষোভের মুখে পড়েন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম মোস্তফাসহ শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
এসময় তিনজন অভিভাবক শিক্ষকদের পক্ষ নিয়ে কথা বলার ও শিক্ষকরা অভিভাকদের বিরুদ্ধে বলার চেষ্টা করলেও জেলা প্রশাসক তাদের সে সূযোগ দেননি। তিনি অভিভাবকদের অভিযোগ মনযোগ দিয়ে শুনে গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। উপসংহারে তিনি বলেন, সরকারের বেতন খাবেন আর বাচ্চাদের শিক্ষা দেবেননা, অভিভাবকদের হয়রানী করবেন তা হবেনা।
তিনি বলেন, জাতির জনক সাধারন মানুষের সুবিধার জন্য স্কুল-কলেজ সরকারিকরন করেছিলো যার ধারা অব্যহত রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনিয়ম দূর্নীতি করতে করতে কোনো কোনো শিক্ষকের চর্বী হয়ে গেছে। এই চর্বী জমা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলায় হয় আমি জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন থাকবো নয়তো এই সব চর্বি জমা শিক্ষক থাকবে – দুইজন এক সাথে থাকতে পারেনা। আর ভালো শিক্ষকদের পুরস্কৃত করা হবে।


বিকেল সোয়া তিনটায় এ মতবিনিময় সভা শুরু হয়। চলে পাঁচটা পর্যন্ত। জেলা প্রশাসক ছাড়াও এসময় উপস্থিত ছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম মোস্তফা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা-আইসিটি) রেহানা আক্তার, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সালাম, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সবুজ, এডভোকেট রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ।
অভিভাবকরা বলেন, এ স্কুলে জানুয়ারী মাসে তিনশজন ভর্তী করা হয়েছে জানুয়ারী মাসে। এরপরে আরো সত্তরজনকে কিভাবে ভর্তী করা হলো, এমনকি জুলাই মাসেও ভর্তী কিভাবে হলো, সেখানে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছে কিনা তা তদন্ত করা হোক। তারা বলেন, শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রতিটি ক্লাসেই দেরী করে আসেন। এমনকি বিশ মিনিট পরেও তারা আসেন। প্রধান শিক্ষককে স্কুলে পাওয়া যায়না। মাসিক বেতন ক্লাসে নেয়া হয় ঐদিন ক্লাস হয়না। স্কুলের টয়লেটের এত খারাপ অবস্থা যে সেখানে যাওয়ার উপায় থাকেনা। স্কুলের টিফিনের মান খারাপ। ছাত্রীরা স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে কেউ খবর নেয়না।
একজন অভিভাবক উদাহরন দিয়ে বলেন, স্কুল থেকে যে ডাইরি দেয়া হয়েছে ২০১৮ সালে সে ডাইরি মেইনটেন হয়েছে মাত্র ১৬ বার আর ২০১৯ সালে আট মাস চলতে থাকলেও ডাইরি মেইনটেন হয়েছে মাত্র দুইবার। শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজস্ব কোচিং ক্লাস নিয়ে ব্যাস্ত থাকেন। অনেক শিক্ষক ক্লাসেই পরীক্ষার খাতা দেখেন। স্কুলে পর্দা লাগানো হয়েছে সে টাকাও ছাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে। সাদাকালো রুটিনের বদলে রঙিন রুটিন দেয়া হয়েছে এজন্য ৫০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। অভিভাবকদের ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়না। তাই অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের কাছে কোনো অভিযোগ করতে পারেনা। টিচারদের সাথে কথা বলা খুব দূরের বিষয়।
খুটিয়ে খুটিয়ে জেলা প্রশাসক অভিযোগের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। কোনো শিক্ষক সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কোচিং করতে পারবেনা বলে তিনি নির্দেশ দেন। বিকেল পাঁচটার পরে অন্য স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াতে পারবে নিজ স্কুলের কাউকে পড়াতে পারবে না। প্রধান শিক্ষককে তার সকল আয় ব্যায়ের হিসাব নিয়ে তার সাথে বসার জন্য তিনি নির্দেশ দেন। কোনো অনিয়ম দূর্নীতির প্রমান পেলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান। তিনি তার মোবাইল ফোন নাম্বার সকলকে দিয়ে যেকোনো অভিযোগ এসএমএস এর মাধ্যমে জানানোর জন্য বলেন।
এসময় স্কুলের সকালের শিফটের ইনচার্জ বলেন, মহিলা অভিভাবকরা সন্ধার পরে ষ্টার প্লাস দেখে মেয়েদের যত্ন নেয়না। মেয়েদের ঠিকমতো স্কুলে পাঠায় না। তিনি দাবী করেন, তার এক মেয়ে পাইলট ও আরেক মেয়ে সংবাদ পাঠিকা। এসময় জেলা প্রশাসক বলেন, মা হিসেবে আপনি সফল। কিন্তু শিক্ষক হিসেবে আপনি ব্যার্থ। কারন আপনার বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ।
আরেক শিক্ষক ফারুকও ছাত্রীরা স্কুলে আসেনা বলে অভিযোগ করার চেষ্টা করলে জেলা প্রশাসক বলেন, এপস বানিয়ে নেন। কেউ অনুপস্থিত থাকলে মোবাইলে এসএমএস চলে যাবে। বেসরকারি স্কুলে এসব হতে পারলে আপনাদের এখানে হবেনা কেন ? আপনাদের জন্য দেশটা এগুতে পারছেনা।

0