অবশেষে না.গঞ্জ লিংক রোড হচ্ছে ৬ লেনের, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: অবশেষে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডকে ৬ লেনে উন্নতি করনের অনুমতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘নারায়ণগঞ্জ লিংক সড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ’ নামে প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৪৪৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) শেরে বাংলা নগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেকের সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান সংবাদ ব্রিফিংয়ে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন।

গামেন্টস, হোসিয়ারি সিমেন্ট, লবনসহ ১৯টি শিল্প পন্য পরিবহন ছাড়াও যাত্রীবাহি বাস, পিকআপ মালাবাহি ট্রাক এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। চাষাড়া থেকে ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়কের সংযোগ সড়কে দুরত্ব সোয়া ৮কিলোমিটার। গুরুত্বর্পূণ এ সড়কটির প্রস্থ খুবই ক্ষীন। সড়কটি যে পরিমানের তার চাইতে ৩০গুন বেশী যানবাহন চলাচল করে এ সড়কে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে,‘প্রকল্পটির প্রস্তাব পাওয়ার পর ২০১৯ সালের ৮ জুলাই প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুর্নগঠন করা হয়েছে। ফলে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) কাল মঙ্গলবার সভায় উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর।’

সূত্র জানায়, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের দ্রুত, নিরাপদ, সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ী সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এছাড়া প্রকল্প এলাকার জনগণের সার্বিক আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত সড়কটি একটি আঞ্চলিক মহাসড়ক যার দৈর্ঘ্য ৮.১৫ কিলোমিটার। এটি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক নামেও পরিচিত। সড়কটি নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এই সড়কের পাশেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, সিভিল সার্জন অফিস, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা কারাগার, গণপূর্ত অধিদফতর, পাসপোর্ট অফিস, বি আরটিএ অফিস, বিজিবি-৬২, পিবিআই অফিস, পরিবেশ অধিদফতর, মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদফতর, জেলা পরিষদ, যুব উন্নয়ন অধিদফতর,বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অবস্থিত।

এছাড়া সড়কের ৬ কিলোমিটারে রয়েছে খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক খেলা বিশেষ করে ক্রিকেট খেলার ভেন্যু হিসাবে সমাদৃত। ঢাকার পাশের এই অঞ্চলে সম্প্রতি অসংখ্য শিল্প-কারখানা ও নতুন বসতি গড়ে উঠেছে। ফলে বিদ্যমান সড়কে যানবাহন সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দর উপজেলার একাংশ নিয়ে এরআগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত কয়েক বছরে নারায়ণগঞ্জ জেলা সদরে বেসরকারি হাসপাতাল, বেসরকারি ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানসহ বড় আকারের বেসরকারি আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠেছে।

এসব কারণে নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মানে উন্নীত করার জন্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে ডিপিপি প্রণয়ন করে প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। ওই সভার সুপারিশ অনুযায়ীই ডিপিপি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে- সড়কবাঁধ-পেভমেন্ট প্রশস্ত, বিদ্যমান পেভমেন্ট মজবুত করা, সার্ভিস সড়ক, হার্ড সোল্ডার, রিজিড পেভমেন্ট মজবুত-প্রশস্ত করা ও সার্ভিস লেন, কংক্রিট রোড ডিভাইডার, আরসিসি বক্স কালভার্ট সম্প্রসারণ, ফুটওভার ব্রিজ এবং ভূমি অধিগ্রহণ।

0