অবশ করে নারীকে ধর্ষণ করলো খানপুরের ডাক্তার, এখন সন্তান সম্ভবা

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ইনজেকশন নিতেই অবশ হয়ে যায় পুরো শরীর। আর এ সুযোগে অমানুষিক ভাবে ধর্ষণ করেন চিকিৎসক। সব কিছুই দেখছিলেন, বুঝতেও পাড়ছিলেন। শুধু পারছিলেন না প্রতিবাদ করতে। এরপর আরও একদিন ওই নারীকে ব্লাকমেইল করে ধর্ষণ করা হয়েছে। এখন ওই নারী সন্তান সম্ভবা।

গত ১২ জানুয়ারি (বুধবার) নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে এক নারী খানপুর হাসপাতালের চিকিৎসক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠান। তবে, অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেছেন, ঘটনাস্থল খাঁনপুরের জোড়ার টাংকি এলাকা।

ওই নারী আদালতের অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন যাবত থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত। চিকিৎসার জন্য ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই ওই ক্লিনিকে যান। ডাক্তার আমিনুল ইসলামের দেওয়া ওষুধপত্র নিয়মিতই খাচ্ছিলেন। পরে ওই বছরের ২০ আগস্ট গিয়ে আবারো আমিনুল ইসলামের কাছে তার শরীরের অবস্থার বিতরণ দেন। পরে ডাক্তার রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ইনজেকশন দিতেই সে অভস হয়ে যায়। এ সুযোগে অমানুষিক ভাবে ধর্ষণ করেন চিকিৎসক। সব কিছুই দেখছিলেন, বুঝতেও পাড়ছিলেন। শুধু পারছিলেন না প্রতিবাদ করতে। ধর্ষণের পর ঘুমিয়ে পড়েন, ৩ ঘন্টা পর জেগে উঠে চিৎকার করলে ধারণ করা ধর্ষণের ভিডিও দেখিয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিদেন। নির্দেশদেন প্রতি সপ্তাহে চেম্বারে আসার। না আসায় নারীর স্বামীর কাছে পিয়ন দিয়ে খবর পাঠায়। স্বামীও না বুঝে বোনের সাথে চেম্বারে পাঠায়।

গত ২০১৯ সালের ১৩ জুলাই ওই নারীকে আমিনুল চেম্বারের নিজ কক্ষে ডেকে পাঠান। কৌশলে বোনকে বাহিরে পাঠিয়ে চেম্বার আটকেদেন। এ সময় বোনের সাথে বেড় হওয়ার চেষ্টা করলেই ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে বলেন, ‘তোরে অনেক দিন পর পাইছি’। এরপর জোড় করেই করেন ধর্ষণ।

এ ঘটনা স্বামীকে না জানিয়েই নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অভিযোগদেন ওই নারী। কিন্তু পুলিশ চিকিৎসক আমিনুল ইসলামের নাম দেখে মামলা নেয়নি। এরপর আরও মানষিক ভাবে ভেঙ্গে পরেন। ৩ দিন পর স্বামী ঘটনা সর্ম্পকে জানতে পারে। নারীকে ভুল বুঝে বাপের বাড়ী পাঠিয়ে দিয়েছে। এখন তিনি সন্তান সম্ভবা।

এ দিকে, আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শাহীন উদ্দীন মামলাটি আমলে নিয়ে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা নিরুপন এবং মামলা গ্রহণে থানা কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে কি না? ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন পিবিআইকে।

এ ব্যাপারে খানপুর ৩‘শ শয্যা হাসপাতাল ও ইউনিক ক্লিনিকের চিকিৎসক আমিনুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেনি।

0