অরাজকতা সৃষ্টি করার সুযোগ নেই: এসপি হারুন

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এই দেশে ইসলামের নাম ব্যবহার করে ধর্মের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করতে চেয়েছিল একটি কুচক্রি মহল। ধর্মে ধর্মে মারামারি সৃষ্টি, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি নির্যাতন করা হয়েছিল। আজকে কিন্তু সেই অবস্থা নাই। প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে এই দেশ উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ধর্মের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করার কোন সুযোগ এখন নেই। ধর্মের নামে মসজিদ, মন্দির, গীর্জায়, ক্লাবে হামলা করবেন? সেটা করতে দেওয়া হবে না। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।
শনিবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. নূরে আলম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) সুবাস সাহা।


অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার বলেন, আপনি এতোদিন চোখ বুজে ছিলেন, গোপনে কান্না করেছেন, সন্ত্রাসীদের ভয়ে কথা বলতে পারেন নাই। আপনাদের আমরা সেই নির্ভয়টুকু দিচ্ছি। ভয় পাবেন না, ভয় পাওয়ার দিন শেষ। কেউ আপনার বাড়ি দখল, সন্ত্রাসী ও পাশের বাড়িতে কেউ মাদক ব্যবসা করলে নির্দ্বিধায় আমার কাছে চলে আসবেন। কোন সমস্যাই থাকবে না।
তিনি বলেন, আমরা এক এক করে জেলার সকল পূজা মন্ডপ গুলো পরিদর্শন করবো। আমাদের কাজ হচ্ছে মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা দেওয়া। আমাদের কাজ হচ্ছে সকল ধর্মের মানুষের সমান সুযোগ-সম্মান প্রদর্শন করা। তাই গত দুইটি ঈদে যে নিরাপত্তা প্রদর্শন করেছি, ঠিক তেমনি নিরাপত্তার ব্যবস্থা এই পূজা মন্ডপ গুলোর জন্যও করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, আমরা এক সময় দেখেছি মানুষের কষ্ট। দু’বেলা খাবার খেয়ে বাচঁতো। এখন সকলের তিন বেলা খাবার খেতে পারে। বর্তমানে ১ হাজার টাকা রোজ দিয়েও বাসা-বাড়ীতে কাজের মানুষ খোজে পাওয়া যায় না। আগে ১’শ টাকা দিলেই পাওয়া যেত। মানুষের জীবন-যাত্রার মান পরিবর্তন হয়েছে। মানুষের কাছে টাকা এসেছে। ১৯৭১ সালে সকল শিল্প-কারকানার মালিক ছিলো পাকিস্তানীরা। আমরা ছিলাম কামলা। এখন আমাদের দেশের মানুষ মালিক হয়েছে। আমরা আমাদের দেশে কাজ করছি।
আরো উপস্থিত ছিলেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান, বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ফারুক, ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাসানুজ্জামান, পরিদর্শক (অপারেশন) মো. শাহাদাত হোসেন, জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা (ডিআইও-২) মো. সাজ্জাদ রোমন, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপক কুমার সাহা ও সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন প্রমুখ।

0