অর্থ আত্মসাতের প্রতারণায় কুতুববাগের পীর, স্বাক্ষী আপন ভাই!

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ : প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কুতুববাগ পীরের বিরুদ্ধে। নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট্য ব্যবসায়ী ফজর আলীর দায়েরকৃত মামলায় পীরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ক অঞ্চল) আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার বাদী ফজর আলী নগরীর ‘ফজর আলী ট্রেড সেন্টার’ ও ‘টকিও প্লাজার’র মালিক।

বাদীর পক্ষের মামলাটিতে সাক্ষী হয়েছেন খোদ আসামি জাকির শাহ’র ভাই সবির আহমেদ জামান।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, পারস্পরিক সুসম্পর্কের সুবাদে যৌথ ব্যবসা করার জন্য পীর জাকির শাহ ব্যবসায়ী ফজর আলীকে ৮ কোটি টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ২০১৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ব্যবসার উদ্দেশে সেই ৮ কোটি টাকা দেয়ার বিপরীতে ব্যবসায়ী ফজর আলীর কাছ থেকে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে একটি অঙ্গীকারনামা এবং ৬টি চেক গ্রহণ করেন।

অঙ্গীকারনামা ও চেকের বিপরীতে বিভিন্ন সময়ে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা প্রদান করেন পীর জাকির শাহ। পরবর্তীকালে আর টাকা দিতে পারবে না বলে জানালে ফজর আলী টাকা ফেরত দেয়।

ওই সময় স্ট্যাম্প ও ৩টি চেক ফেরত দিলেও বাকি ৩টি চেক খুঁজে পাচ্ছেন না বলে জানান পীর জাকির শাহ। ওই সময়ে স্ট্যাম্পের পেছনে চেক নম্বর উল্লেখ করে হারানো ৩টি চেক বাবদ কোনো দাবি-দাওয়া নেই মর্মে লিখিত অঙ্গীকার করেন এবং পরবর্তীকালে খুঁজে পেলে ফেরত দিবেন বলে অঙ্গীকার করেন তিনি।

কিন্তু কিছুদিন পর ব্যবসায়ী ফজর আলী জানতে পারেন ওই চেক হারানো যায়নি এবং এগুলো নিয়ে পীর জাকির শাহ টাকা দাবি করার ষড়যন্ত্র করছেন।

গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে পীর জাকির শাহ এবং সহযোগী ইসমাইল হোসেন বাবুকে খাওয়ানোর পর চেক ফেরতের বিষয়ে কথা বললে পীর জাকির শাহ ও সহযোগী বাবু ৫ কোটি টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ক্ষতি হবে বলে হুমকি দেয়া হয়।

এ ঘটনায় চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি ব্যবসায়ী ফজর আলী বাদী হয়ে কুতুববাগ দরবারের পীর জাকির শাহ ও তার সহযোগী ইসমাইল হোসেন বাবুর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ক অঞ্চল) আদালতে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।

২৬ জানুয়ারি রোববার আদালত পীর জাকির শাহ’র নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এ দিকে জাকির শাহ’র নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি আদালত থেকে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে শহর ও বন্দর এলাকায় চলে আলোচনা সমালোচনার ঝড়।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী ফজর আলী জানান, একজন পীর হিসেবে আমি তাকে যথেষ্ট বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা করতাম। সরল বিশ্বাসে আমি কোনো টাকা না পেয়েই ৮ কোটি টাকার স্ট্যাম্প ও চেক ওনাকে দিয়েছি। পরে উনি ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা দিয়ে আর দিতে পারবে না বলে জানায়। তখন এই টাকায় ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য সফল হবে না বলে টাকা ফেরত দেই। উনিও আমাকে স্ট্যাম্প ও ৩ কোটি টাকার ৩টি চেক ফেরত দিয়ে বাকি ৫ কোটি টাকার ৩টি চেক খুঁজে পাচ্ছেন না বলে জানায়।

উল্লেখ্য এর আগেও ২০১২ সালে প্রতারণার মাধ্যমে জোর করে সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে দরবার শরিফের খাদেম সৈয়দ শরীফুল হক চিশতীর মামলায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত পীর মো. জাকির শাহকে তলব করে। সেই মামলায়ও আসামি ছিলেন ইসমাইল হোসেন বাবু।

বাদির অভিযোগ ছিল দরবার শরিফে আটক রেখে আমমোক্তারনামার কথা বলে কিছু স্ট্যাম্পসহ কার্টিজ পেপারে আসামিরা স্বাক্ষর নেয়। পরবর্তীতে বাদি জানতে পারেন, পীর জাকির শাহ ডেসটিনি চেয়ারম্যান রফিকুল আমিনের কাছে বাদির পৈত্রিক সম্পত্তি (৩২৪৭ অযুতাংশ জমি) ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। বাদি তার পীরের কাছে এই ঘটনার ব্যাখ্যা চাইলে পীর উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং ভাড়াটে গুণ্ডাবাহিনী দিয়ে বাদিকে হত্যার হুমকি দেন।

0