ফিল্মী স্টাইল: ভাইকে অপহরণ করে পিতার কাছে অর্ধকোটি টাকা দাবী!

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: আপন ছোট ভাইকে অপহরণ করে বাবা-মার কাছে মোটা অঙ্কের মু্ক্তিপণ চাইতে গিয়ে ২সহযোগিসহ এখন শ্রী ঘরে। অপহৃত অপহৃত ছোট ভাইকে উদ্ধারসহ ৩জনকে আটক করেছে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ র‌্যাবের সহযোগিতায় । বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে অভিযান চালিয়ে ওই উদ্ধার ও অপরাধীদের আটক করা হয়।

উদ্ধার হওয়া ছাত্রটি ফাহাদ জামিল। সে শহরের ভুঁইয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন এর ছেলে। নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেনীতে পড়ালেখা করছে। অন্যদিকে আটক হওয়াদের মধ্যে অপহৃত ফাহাদ জামিল এর বড় ভাই মারুফ জামিল (৩০) রয়েছে। সেই সাথে আটক করা হয়েছে বড় ভাই মারুফ জামিলের দুই সহযোগি সোহান (২৬) ও জিসানক (৩০)।

নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র ফাহাদ জামিল। তার বাবা শহরের ভুঁইয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন। আর বাবার কাছে ৬০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য তাকে অপহরন করে তারই আপন বড় ভাই বড় ভাই মারুফ জামিল।

১৭ এপ্রিল(বুধবার) সকালে স্কুলের উদ্দেশ্য বাসা থেকে বের হয় ফাহাদ জামিল। সন্ধ্যা হলেও স্কুল থেকে বাসায় ফেরেনি। এ ঘটনায় আরেক বড় ভাই মাসুম জামিল বুধবার রাতেই বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশকে জানায়। সে সময় অপহরণকারী আরেক ভাই মারুফ জামিলও সাথে ছিল। অনেকটা ফিল্মী স্টাইল। যেন কেউ তারে সন্দেহ করতে না পারে।

পুলিশ অভিযোগের পর তৎপর হয়ে র‌্যাবের সহায়তায় ১৮এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) রাতে ওই স্কুল ছাত্র ফাহাদ জামিলকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক মিজানুর রহমান জানান, শহরের ভূইয়াপাড়া এলাকার মো: মনির হোসেনের ছেলে ফাহাদ জামিল নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল এন্ড কলেজের ৭ম শ্রেণির ছাত্র। ১৭ এপ্রিল সকালে স্কুলের উদ্দেশ্য বাসা থেকে বের হয় ফাহাদ জামিল। সন্ধ্যা হলেও স্কুল থেকে বাসায় ফেরেনি। পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে অপরিচিত একটি মুঠোফোন নম্বর থেকে ফাহাদ জামিলের অপহরণের বিষয়টি জানিয়ে, তার বাবা মনির হোসেনের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ৬০ লাখ টাকা দাবি করে। রাত ৯টার মধ্যে মুক্তিপণের ৬০ লাখ টাকা দেয়া না হলে ফাহাদকে হত্যার করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেয় তারা। এরপর অপহরণকারীরা তাদের মুঠোফোন নম্বর বন্ধ করে দেয়।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর থানার পরিদর্শক মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল র‌্যাবের সাহায্যে প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান জানার চেষ্টা করে।

অপহরণকারীরা প্রথমে স্কুল ছাত্র ফাহাদ জামিলকে অপহরণ করে সদর উপজেলার ফতুল্লার লালপুর ও পরে মুন্সীগঞ্জ এলাকায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে র‌্যাবের সহায়তায় মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটের সামনে থেকে অপহৃত স্কুল ছাত্র ফাহাদ জামিলকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে আটক করা হয় অপহৃত স্কুল ছাত্র ফাহাদ জামিলের বড় ভাই মারুফ জামিল ও তার দুই সহযোগী সোহান ও জিসানকে।

ওসি কামরুল ইসলাম আরো জানান, মারুফ জামিল পেশায় হোসিয়ারী ব্যবসায়ী। কী কারণে তার আপন ছোট ভাইকে অপহরণ করলো তা জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

0