অর্ধশত কিশোর গ্যাং হাসানের নিয়ন্ত্রণে: গ্রেপ্তারে পুলিশের প্রশংসা, আইভীতে সমালোচনা

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: শীর্ষ সন্ত্রাসী হাসান গ্রেফতার হওয়ায় স্বস্তি নেমে এসেছে শহরের দক্ষিনাঞ্চলখ্যাত দেওভোগ, বাবুরাইল, কাশিপুরসহ আশপাশের এলাকায়। শনিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ জামানের নেতৃত্বে পুলিশ ফোর্স তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর প্রথমে তাকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নেয়া হয়। সেখান থেকে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন আদালত।

এলাকাবাসী জানায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের দক্ষিনাঞ্চল তথা বৃহত্তর দেওভোগ, বাবুরাইল, কাশিপুর ভোলাইল, মন্ডলপাড়া. ডিআইটি এলাকার সমস্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতো শীর্ষ সন্ত্রাসী হাসান। বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ শহর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তথা বিএনপির এই সন্ত্রাসীর নিজর স্ত্রী কাউন্সিলর আফরোজা হাসান বিভার মাধ্যমে দেওভোগের বাসিন্দা সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর সাথে পারিবারিক সখ্যতা গড়ে তুলে শহরের দক্ষিণাঞ্চলকে সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে গড়ে তোলে। এখানে হাসান বাহিনী মানে এক আতংকের নাম। বিগত বিএনপি সরকারের আমলে জেলার তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী হাসান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও সমান প্রভাব নিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছিলো। এজন্য তার শেল্টারে রয়েছে ৫ শতাধিক সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং বাহিনী। বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশত কিশোর সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জমি দখল, চাঁদাবাজী, অটোস্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ, মাদক ব্যবসার বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলে সে। এসব কর্মকান্ডে তার অন্যতম সহায়তাকারী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ আফসানা আফরোজ বিভা। যিনি বিভা হাসান নামে পরিচিত। এই বিভা হাসান আবার নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভীর অত্যিন্ত ঘনিষ্ট সহচর। তাকে সার্বক্ষনিক মেয়র আইভীর পাশে দেখা যায়।

বিভার অন্যতম সহযোগী গালকাটা জাকিরের গ্রেফতারের একদিন পর সন্ত্রাসী হাসান গ্রেফতারে স্থানীয়দের মধ্যে যেমন স্বস্তি দেখা গেছে, তেমনী তারা পুলিশ প্রশাসনকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছে। একই সময়ে এমন সন্ত্রাসী পরিবারের সাথে সখ্যতা রেখে তথাকথিত সন্ত্রাস বিরোধী বক্তব্য বা প্রতিবাদি সাজায় মেয়র আইভীরও ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।

তারা আরও জানায়, ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর রাতে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে কাশিপুরের হোসাইনি নগর এলাকায় একটি রিকশার গ্যারেজে সশস্ত্র হামলাকারীরা কুপিয়ে তুহিন হাওলাদার মিল্টন (৪০) ও পারভেজ আহমেদ (৩৫) নামে দুজনকে হত্যা করে। হত্যাকারীরা দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হাসানের সহযোগী হওয়ায় ভয়ে নিহতদের পরিবার মামলা করতে সাহস পায়নি। পরিবারগুলোর পক্ষে মামলা না হওয়ায় পরে ১৪ অক্টোবর দুপুরে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মাজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে জোড়া খুনের ঘটনায় মামলা করেন। মামলায় প্যানেল মেয়র বিভার স্বামী বিএনপি ক্যাডার হাসান ও তার ভাই এম এ মজীদকে হুকুমের আসামী করা হয়। ৪ বছরেও কাশিপুরের জোড়া খুনের মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ার পেছনে সিটি মেয়র আইভীর হাত রয়েছে বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন।