আইনজীবীকে মারধরের ঘটনায় সেই পুলিশ কর্মকর্তার জামিন

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: এপিপি জাসমীন আহমেদকে আদালতে মারধর করার মামলায় জামিন পেলো পুলিশ কর্মকর্তা স্বামী আবু নকিব ও দেবর আবু নেছার।
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সকালে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফতাবুজ্জামান এর আদালত এ জামিন মঞ্জুর করেন।
এবিষয়ে এপিপি জাসমীন আহমেদ বলেন, আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের জন্য আবেদন করলে আমিসহ আমার আইনজীবীরা জামিন না মঞ্জুরের জন্য বিজ্ঞ আদালতের নিকট প্রার্থনা করেছি। কিন্তু বিজ্ঞ আদালত জামিন মঞ্জুর করেছেন। এছাড়াও তিনি বলেন, আবু নকিব পুলিশ কর্মকর্তা হলোও সে বর্তমানে একজন আসামি। আসামি হয়েও সে কঠোর পুলিশ প্রহরায় কোর্টে আসে এবং যায় কিভাবে? একজন এপিপি হয়ে নিজ কোর্টেই আমাকে অত্যাচারের স্বীকার হতে হয়। আর সে কোর্ট থেকেই সে পুলিশের নিরাপত্তায় আশা যাওয়া করে। কোন বাধাঁ বাধ্যগতা নেই।
প্রসঙ্গত, গত ২২ মে দুপুর ১২টার আইনজীবী জাসমীন আহমেদ এর দায়ের করা যৌতুক মামলায় জামিন নিয়ে বের হয়ে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দরজার সামনে এলোপাতাড়ি মারধর করেন আবু নকীব তার ছোট ভাই নিপুন। তখন আশপাশের আইনজীবীরা এসে জাসমীনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ পরিদর্শক স্বামী ও দেবরকে আসামি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৪৬৬/১৯।
এর আগে ৫০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে দুই দফায় মারধর করার অভিযোগে আদালতে একটি যৌতুক মামলা দায়ের করেন। দায়েরকৃত এহাজারে আবু নকীব প্রথম স্ত্রীর কথা গোপন রেখে প্রতারণা করে তাকে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে একাধিকবার তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছে যৌতুক হিসেবে। যৌতুক না পেয়ে প্রায় সময় আবু নকীব ঘুমের মধ্যে তার গলা টিপে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করতেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে কোমরের বেল্ট ও পায়ের বুট জুতা দিয়ে আমাকে মারধর করতো। এ ছাড়াও আবু নকিব গোপনে আরও দুটি বিয়ে করেছে। সম্প্রতি তাকে মারধর করে পাঁচ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার লুটে নিয়েছে বলে বিভিন্ন অভিযোগ তোলে ধরেছেন।
এপিপি জাসমীন আহমেদ পক্ষে আইনজীবী সমিতি পরিষদের সভাপতি অ্যাড. হাসান মাহামুদ জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মহসিন মিয়া, সিনিয়র অ্যাড. এমএ রশিদ ভূঁইয়া, অ্যাড. সাখাওয়াত, অ্যাড. আব্দুল বারী, অ্যাড. হুমায়ূন কবিরসহ শতাধিক আইনজীবী।

0