আইভীকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবীতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সচেতন নাগরিক সমাজের স্মারকলিপি

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: দেশব্যাপী বহুল আলোচিত সাগর-রুনি ও তনু হত্যাকান্ড নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবী জানিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন নারায়ণগঞ্জ সচেতন নাগরিক সমাজ।

মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়ার কাছে সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল এবং জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ-সংগঠন জেলা আইনজীবি সমিতি, জাতীয়ভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠন, জেলা শিক্ষক সমিতি, স্বাচিপ, বিএমএ, জেলা ও বিভিন্ন থানা পূজা উদযাপন কমিটি, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব, নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাব, ব্যাংক এ্যামপ্লয়ীজ সমিতি, জেলা পরিষদ সদস্য, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, বিভিন্ন মসজিদের ইমাম সংগঠন, জেরার বিভিন্ন প্রেসক্লাব ও জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ নারায়ণগঞ্জের ২১টি নাগরিক সংগঠনের পক্ষ থেকে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপির সাথে এসব সংগঠনের কর্মকর্তা ও সদস্যদের গণস্বাক্ষরের অনুলিপিও প্রদান করা হয়। পাশাপাশি মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন অডিও ভিডিও ফুটেজ তথ্য প্রমাণাদি হিসেবে সংযুক্ত করা হয়।

এ সময় তাদের সাথে জেলা প্রশাসকের কার্য্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা, যুগ্ন-সম্পাদক শাহ্ নিজাম, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনু, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ শিরিন বেগম সহ ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাও আওয়ামীলীগের নেতারা সহ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ।

স্মরকলিপি প্রদানের পর জেলা আইনজাীবি সমিতির সভাপতি এডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল সাংবাদিকদের জানান, গত ৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভী একটি সমাবেশে বক্তৃতায় বলেন, সাগর-রুনি ও তনু হত্যার বিচার কেন হচ্ছে তা তিনি জানেন। তাই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আইন শৃংখলা বাহিনী এই চাঞ্চল্যকর তিনটি হত্যাকান্ডের তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। এছাড়া বিভিন্ন সময় নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট রাজনৈতিক পরিবার ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে মেয়র আইভী অপ্রাসংঙ্গিক বিষয় নিয়ে সমালোচনা করে নারায়ণগঞ্জের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অশান্ত করে তুলছেন। এটা বন্ধ হওয়া দরকার। দেশের যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াত-শিবিরের সাথে মেয়র আইভীর সম্পৃক্ত থাকারও অভিযোগ করা হয় স্মারকলিপিতে।

স্মরাকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সংবিধানের বাহক সেজে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবিরের সাথে আাঁতাত করা ক্ষমতার জন্য লালায়িতকিছু বড় বড় ডক্টর সাহবেদের প্রেসক্রিপশনে রাজধানী থেকে তথাকথিক সুশীল সমাজ ঘন ঘন নারায়ণগঞ্জে আসছেন। তারা প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান সরকারের কুৎসা রটনার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকেন। অত্যন্ত দু:খের বিষয়, যার আহবান ও সমর্থনে এই সুশীল সমাজ নারায়ণগঞ্জের আসছেন এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষণ করছেন , তিনি হলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জেরা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভী। শুধু তাই নয়, মেয়র আইবীর উপস্থিতিতে ভাড়া করে আনা সুশীল ও তার সাথে থাকা জনবিচ্ছিন্ন গুটিকয়েক লোক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সেব মিথ্যাচার ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন তাতে নারায়ণগঞ্জবাসী বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। নারায়ণগঞ্জের সর্বমহলের একটাই প্রশ্ন, জেলা আওয়ামীলীগের নেত্রী ও দলীয় মেয়র আইভীর এমন বক্তব্য ও সুশীলদের প্রতি তার এতোটা নগ্ন সমর্থন কিসের ইঙ্গিত বহন করে ?
স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, যুদ্ধাপরাধী আলবদর প্রধান আলী আহসান মুজাহিদের ঘনিষ্ঠ সহচর জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মঈনুদ্দিন গত ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতরা হওয়ার পর একটি জবানবন্দি দিয়েছেন। সেই জবানবন্দিতে জামায়াতের আমীর মাওলানা মাঈনুদ্দিন স্বীকার করেছেন যে প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে পারিবারিকভাবে আইভীর সাথে জামায়াতের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও বেগম জিয়ার সাথে সরাসরি যোগাযোগের কথা। জবানবন্দিকে জামায়াতের আমির আরো বলেছেন, “বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সমঝোতা ছিল, নির্বাচনের পর আইভী বিএনপিতে যোগ দিবেন। এই শর্তেই বিএনপি প্রার্থী এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে নির্বাচন থেকে বসিয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলাম চেয়েছিল আইভী যেন আওয়ামীলীগেই থাকে। বিএনপি-জামাতের পক্ষে শামীম ওসমানকে ঠেকানো সম্ভব নয়, তাই আইভীকে আওয়ামীলীগেই থাকতে হবে। তাকে আওয়ামীলীগে রাখলেই জামায়াত শিবিরে জন্য ভালো। এতে বিএনপি-জমায়াত সবার জন্যই সুবিধা হবে। রিলেশনটা ওপেন হলে সমস্যা”। জামায়াতের আমীর মাওলানা মাঈনুদ্দিনের এই জবানবন্দির অডিও রেকর্ড সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, জামায়াতের আমীরের এই জবানবন্দি এবং আইভীর সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রমান করে দলে জামায়াতের এজেন্ট কে বা কারা। জামায়াতের আমীরের দেযা জবানবিন্দর প্রতিটি কথাই মিলে যাচ্ছে আইভীর কর্মকান্ডে। এতে আশংকা করা হচ্ছে, নারায়ণগঞ্জে আবারো অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করা হচ্ছে। ২০০১ সালের ১৬ জুনের ভয়াবহ বোমা হামলার মতো আবারো কোন পৈশাচিক ঘটনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে কিনা সেই প্রশ্নও রাখা হয়। বলা হয়, সাগর-রুনি ও তনু হত্যাকান্ড নিয়ে বক্তব্যের পাশাপাশি ওসমান পরিবারকে খুনী পরিবার আখ্যা দেয়ার নেপথ্যে যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াত এবং ক্ষমতার জন্য লালায়িত ডক্টর সাহেবদের প্রেসক্রিপশন রয়েছে তা অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে গেছে।

স্মারকলিপির শেষাংশে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলা হয়, “ কিছু সংখ্যক লোক যখন আপনাকে ও দলকে সরাসরি আক্রমন করে বক্তব্য দিচ্ছেন এবং আওয়ামীলীগ দলীয় মেয়র ওইসব বক্তব্য শুনে তাতে সমর্থন দিয়ে নিজেও বক্তব্য দিচ্ছেন। একই সাথেঐতিহ্যবাহি এই পরিবারকে আঘাত করে স্বাধীনতার চেতনায় আঘাত করা হচ্ছে, আপনার দলের ক্ষতি সাধন করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন কামনা করার পাশাপাশি শান্তি বজায় রাখতে এ ব্যাপারে আপনার সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি”।

এদিকে জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, সেটি তিনি যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করবেন। তিনি বলেন, স্মারকলিপিটি আমি গ্রহণ করেছি। এটা আমি নিজেও পড়ে দেখব এবং এর সাথে সংযুক্ত গণস্বাক্ষরের কপি ও পেইন ড্রাইভের অডিও ভিডিও বক্তব্য স্মারকলিপির সাথে সামঞ্জস্য আছে কিনা সেট্ওা পর্যবেক্ষণ করে দেখব। পরে যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী সেটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পোঁছানোর ব্যবস্থা করব।

0