আইভীর বিকল্প নেই, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের কী দৈন্যদশা?

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ : ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধিকার আন্দোলনের সুতিকাগার নারায়ণগঞ্জ জেলা। এ নারয়ণগঞ্জে রয়েছে অসংখ্যা বরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ইতিহাস। এ জেলার সূর্য্য সন্তানরা মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য পেয়েছেন নানা খেতাব। শুধু রাজনীতিই নয়, ব্যবসা-বানিজ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিতে এ জেলার সন্তানদের দোর্দন্ড প্রতাব সারা দেশেই। বলা হয়ে থাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ এর আতুর ঘর নারায়ণগঞ্জ। জন্ম লগ্ন থেকে এ দলটির সাথে জড়িত নেতাদের সংখ্যা তাই নারায়ণগঞ্জে বেশি। রাজনৈতিক প্রজ্ঞায়, দলের জন্য ত্যাগী, নির্যাতিত যোগ্যতা সম্পন্ন নেতার তালিকাটা নারায়ণগঞ্জে বিশাল। অথচ, জেলার এক নেত্রীর আত্নীয়-অতিঘনিষ্ঠ ও ঠিকাদার বেষ্টিত গুটিক’জনা প্রচারনা চালায়, ‘তিনি’ ছাড়া কোন বিকল্প নেই!

এই ‘তিনি’টা হলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। যিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তার এক ভাই মহানগর যুবলীগের সহ-সভাপতি আলী রেজা রিপন। আরেক ভাই মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জ্বল। জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কাদির মেয়র আইভীর বোন জামাই। জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সূফিয়ান সিটি করপোরেশনের সবচে প্রভাবশালী ঠিকাদার ও মেয়রের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।

‘নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিকল্প নেই’ এমন কথা যখন বার বার প্রচার করা হয়, তখন প্রশ্ন আসে- ঐতিহ্যের দল ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ এর নারায়ণগঞ্জে কী দৈন্যদশা চলছে?

বিষয়টি মানতে নারাজ নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তারা পাল্টা প্রশ্ন রাখেন, ‘কে বা কারা কিসের ভিত্তিতে এ কথা বলেন? কাদের স্বার্থে, কোন চক্রান্তকারী গোষ্ঠির ইশারায় নারায়ণগঞ্জের ত্যাগী, নির্যাতিত, পরীক্ষিত নেতাদের অবজ্ঞা করে এমন প্রচারণা চালায়?’

অবশ্য জেলা ও মহানগরের প্রবীন একাধীক নেতা জানালেন ভিন্ন কথা। তারা বলেন, হ্যাঁ আইভীর বিকল্প নেই। কথা সত্যি! কারণ, তার মতো মোশতাক মার্কা আওয়ামী লীগ কেউ করেন না। তিনি তার স্বার্থে আওয়ামী লীগের সাইন বোর্ড ব্যবহার করেন, জামাত-বিএনপির কাঁেধ ভর দিয়ে বাম দলকে সাথে নিয়ে চলেন।

নেতারা দাবি করেন, আইভী তো সরকার বিরোধীদের সাথে সুরে সুর মিলিয়ে কথা বলেন। বক্তব্য রাখতে গিয়ে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও কথা বলতে দেরি করেন না। তাহলে, আইভীর বিকল্প পাবেন কি করে?

নেতারা স্মরণ করিয়ে দেন মেয়র আইভীর দেয়া নানা সময়ে সমালোচিত বক্তব্য- ‘বর্তমান সরকার নারায়ণগঞ্জে খুনীদের পৃষ্ঠপোষক’ (২০১৩সালের ২ মে), ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গডফাদাররা খুন করে বেড়াচ্ছে’ (২০১৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর)।

নেতাদের দাবি আইভী তো প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘একটি দুটি পরিবারের পাশে থাকলে হবেনা। জনগনের পাশে থাকতে হবে। ৬৪ জেলায় ৬৪জন গডফাদার থাকলেই তাদের কাজ হয়ে যাবে। সাধারন মানুষ জেগেছে, যেকোন সময় বিস্ফোরন ঘটবে’।

মহানগরের প্রবীন এক নেতা বলেন, আইভী সাথে জামাতের যে কানেশন রয়েছে তার একটি অডিও কিন্তু ফাঁস হয়েছিল। সমাবেশ করতে না দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদেরও কিন্তু অপমান করেছিলেন তিনি। এ আইভীর জন্যই নাকি বিএনপি নিজেদেও মেয়র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারকে কোরবানি দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের বিরোধী শক্তিসহ ডা. কামালদের সভায় উপস্থিত ছিলেন। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য কওে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। এতো কিছু যার দ্বারা সম্ভব, তার বিকল্প কে হবে?

তিনি বলেন, ‘এমন বিকল্প মেয়র কোথায় পাওয়া যাবে, যে নিজের স্বার্থে দলীয় নেত্রীকে খাটো করাসহ মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী দল ‘জামাত’ কানেকশন নিয়ে ওপেন চলতে পারবে?

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিশে^র বুকে ঠাঁই করে নিয়েছে ‘বাংলাদেশে’ নামক মানচিত্র। এ দলটির প্রধান হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী শেখ মুজিবুর রহমান উপাধী পেয়েছেন ‘জাতির জনক’। সেই দল ৭৫’র পর নানা চড়াই উৎরাই পাড় হয়ে, খন্দকার মোশতাকদের হটিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশকে নতুন রূপে গড়ে তুলছেন। বর্তমানে বাংলাদেশকে উন্নত রাস্ট্রের মর্যাদায় নিতে এই আওয়ামী লীগ সরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাত-দিন কাজ করছেন।

সেই দলের নারায়ণগঞ্জে এমন পরিস্থিতি সৃস্টিকারীদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে যুবলীগ-ছাত্রলীগের প্রতিভাবান তরুন নেতারা বলেন, আইভী আসলে কোন দলের না। তার স্বার্থের জন্য তিনি সবই পারেন। তার বিকল্প তিনি নিজেই।

0