আইভীর বিরুদ্ধে পুলিশকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগ

0

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে বিএনপি নেতা কাউন্সিলর ইকবাল একজন নাশকতাকারী হলেও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও এনসিসির মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে তিনি অত্যন্ত ভালো মানুষ। তাকে ব্যক্তিগত ভাবে আইভী চিনেন এবং জানেন।বিএনপি নেতাকে নিয়ে আওয়ামী লীগের মেয়রের এমন মন্তব্য বেশ সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে নগর জুড়ে। বিশেষ করে তার মুখে ‘বিএনপি বন্দনা’ শুনে রীতিমত সমালোচনার ঝড় উঠেছে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। একই সাথে পুলিশ প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন বোদ্ধা মহল।
বিভিন্ন সময় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মেয়রকে জামাত-বিএনপি’র পৃষ্ঠপোষক অখ্যা দিতেন। এবার মেয়রের এমন মন্তব্যকে প্রমাণ হিসেবেই দাঁড় করাচ্ছেন যুক্তিতর্কে।

মিজমিজি বড়বাড়ি পশ্চিমপাড়া এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন।

গত ২৮ মার্চ হেফাজত ইসলামের ডাকা দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মৌচাক, সানারপাড়, শিমরাইল ও চিটাগং রোড এলাকায় গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে জনমনে ভীতি সঞ্চারসহ সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় র‌্যাব ও পুলিশ বাদী হয়ে ছয়টি ও পরিবহন মালিক বাদি হয়ে আরও ২টি মামলা করে। এসব মামলার অন্যতম এজহার নামীয় আসামি ইকবাল।
গত ৬ এপ্রিল রাত ১টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখনও তিনি কারাগারে রয়েছেন।

অথচ, সেই নাশকতা মামলার আসামী ইকবাল হোসেনকে ‘ভালো’ সম্বধন করে মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘ইকবাল অত্যন্ত ভালো মানুষ। তাকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনি এবং জানি। এমন কাজ সে করতে পারেনা বলেই বিশ্বাস করি। আশা করবো ইকবাল যেন দ্রæত মুক্ত হয়।’

এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, আমাদের কাছে তথ্য প্রমান আছে। মামলার অন্যতম এজহার নামীয় আসামি কাউন্সিলর ইকবাল। তাই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মেয়র যে বক্তব্য রখেছেন, সেটা তার ব্যাপার। তার সেই মন্তব্য নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই।

এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানও।

তবে, সরকার দলীয় একাধিক শীর্ষ নেতার দাবি, ‘পুলিশকে তাদের মতোই কাজ করতে দেয়া উচিত। বিচার কার্য শেষ হওয়ার আগে দলের দায়িত্বশীল নেতার মুখে এমন কথা মানায় না। পুলিশ প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে গভীর ষড়যন্ত্র বলে মনে হচ্ছে’।

এ বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল বলেন, ‘পুলিশের তদন্তাধীন বা আদালতে চলমান বিচার কার্য সম্পর্কে করো কোন মন্তব্য উচিত নয়। পুলিশেল কাজে বিঘ্ন ঘটে, এমন কথা মেয়রের মতো দলীয় দায়িত্বশীল নেত্রীর মুখে মানায় না। অবশ্য এমন কান্ড, পুলিশ প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।’

0