আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের বিদ্রোহ যেভাবে শুরু ও শেষ. . .

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের বিদ্রোহী গ্রুপের কারণে শুরু থেকে মনোয়ন প্রত্যাহার এর শেষ দিন পযর্ন্ত ছিল ব্যপক উত্তেজনা ও নানা সমীকরণ। রবিবার (১৯ জানুয়ারি) প্রভাবশালী সংসদস সদস্য শামীম ওসমানের উপস্থিতে দুই গ্রুপের মিলন ঘটে। কিন্তু দ্বন্দ্ব সূত্রপাত আর কোন যাদুতে অবসান তা রহস্যই রয়ে গেল।

তবে, আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ পায় ৯ জানুয়ারি বার্ষিক সাধারণ সভায়। ওই দিন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মুহাম্মদ মোহসীন মিয়া নির্বাচন কমিশন হিসেবে একজনের নাম ঘোষনা করার পর ওই সভায় শুরু হয় হইচই। অনেকে অভিযোগ করেন বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে আনিছুর রহমান দিপু।

এর পর ওই নির্বাচন কমিশনারকে প্রত্যাহার করতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচী থেকে শুরু করে মিছিল মিটিং করা হয়। চলমান আন্দোলনের মধ্যেই আওয়ামী লীগের সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ ও বিএনপির জাতীয়তাবাদী আইনজীবী পরিষদ ঘোষনা হয়। আওয়ামীপন্থী বিদ্রোহী গ্রুপও তাদের পরিষদ ঘোষনা করেন। প্রকাশ পায় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। ১৫ জানুয়ারি ঘোষণা করেন পূনাঙ্গ প্যানেলের। সেই দিন থেকেই শুরু হয় গণসংযোগ ও প্রচারণা।

আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের একটি অংশ মোহসীন-মাহবুব পরিষদ ও অপরটি দিপু-পলু পরিষদ অংশে ভাগ হয়ে যায়। তাদের এই দ্বন্দ্বে বেশ প্যাঁচে পরেন সাধারণ আইনজীবী থেকে শুরু করে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা। বিষয়টি আদালতপাড়া ছেড়ে জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের কৌশল চালাচালিতে চলে যায়। শুরু হয় আরেক রাজনীতি। ভিতরে বাহিরে চলতে থাকে খেলা।

রবিবার (১৯ জানুয়ারি) জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের মনোয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। এর একদিন আগে (১৮ জানুয়ারী) দিপু-পলু পরিষদের দুই প্রার্থীকে লা‌ঞ্ছিত করার খবর ছড়িয়ে পরে।

রবিবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল থেকেই আদালত পাড়ায় গুঞ্জন শোনা যায় যে, দিপু-পলু প্যানেলের ৩ জন প্রার্থীকে লাঞ্চিত করা হয়েছে। একটি সূত্রে জানায়, নগরীর একটি ক্লাবে দিপু-পলু পরিষদের সহ-সভাপতি প্রার্থী জসিম উদ্দিন, লাইব্রেরী সম্পাদক প্রার্থী নজরুল ইসলাম ও কার্যকরী পরিষদের সদস্য প্রার্থী মো. ওয়ালী উল্লাহ অলিকে শার‌রিক লাঞ্ছনাসহ হুমকী প্রদান করা হয়।
যদিও ওই ঘটনার কোন সত্যতা বা স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি। তবে, ব্যাপারটি অস্বীকার করে লাইব্রেরী সম্পাদক প্রার্থী নজরুল ইসলাম বলেন, বড় ধরণের একটি নিউজ রয়েছে। দুপুরে ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতারা আসবেন। তারা সিদ্ধান্ত নিবেন। বিকালে সকল প্রশ্নে উত্তর পাবেন।

অপর দিকে এ বিষ‌য়ে জান‌তে চাইলে দুপুর বেলায় অ্যাড. আ‌নিসুর রহমান দিপু ব‌লেন, প‌রে কথা বল‌বো, সব প্রেস‌কে একসা‌থে জানা‌বো।

দিনভর নানা নাটকিয়তা শেষে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের বিদ্রোহীগ্রুপ দিপু-পলু পরিষদ তাদের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেন। গুঞ্জন আছে প্রত্যাহের আগে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই. সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা একত্রে অ্যাড. আনিছুর রহমানের সাথে বসেন। দীর্ঘ আলাপলের পর বিকালে প্রত্যাহের ঘোষনা আসে। যদি ওই বিষয়ে কেউ মুখ খুলেন নি।

আর শেষ বিকেলে আদালত পাড়ায় বিদ্রোহের অবসান শেষে শুরু হয় মিলন পর্ব। আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের দুটি গ্রুপের প্যানেল প্রার্থীরা এক সাথে জড়ো হয়। দিপু-পলু প্যানেলের আনিসুর রহমান দিপু এসে মোহসীন-মাহবুব প্যানেলের মোহসীনকে গালে আদর করেন। আ্যাড. মোহসীনও বুকে জড়িয়ে বরণ করে নেন অ্যাড. দিপুকে। সে সময় পাশে ছিলেন নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। আইনজীবী অনেকেই বলছেন, ‘ পুরো দৃশ্যে বটবৃক্ষের মতো আছেন শামীম ওসমান’।

মিলন পর্বের আগে (বিকালে) অ্যাড. আনিসুর রহমান দিপু বলেন, কোন রকম চাপ বা কারও হুমকী‌তে নয়, দ‌লের বৃহৎ স্বা‌র্থে নিজ প্যা‌নে‌লের প্রার্থীতা প্রত্যাহার ক‌রে‌ছি।

0