আকাশের ‘জোস’ গাড়িতে অয়ন ওসমান

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ইতালির বিখ্যাত গাড়ি প্রতিষ্ঠান ল্যাম্বোরগিনির আদলে বানানো আকাশের গাড়িতে চড়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমান।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) আকাশের সঙ্গে দেখা করেন অয়ন ওসমান। সেই সাথে আকাশের বানানো গাড়িতে চড়েন। একইদিন আকাশের গাড়িতে চড়ার ছবি ‘জোস’ কমেন্ট দিয়ে নিজের ফেসবুক আইডি দিয়ে স্ট্যাটাস দেন অয়ন ওসমান।

এর আগে, আকাশ আহামেদের প্রশংসনীয় এই কাজে অনুপ্রেরণা দিতে আর্থিক সহযোগীতা করেছেন অয়ন ওসমান।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাতে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগ নেতা শাহরিয়া রেজা হিমেলের মাধ্যমে অয়ন ওসমানের এক লক্ষ টাকা আকাশ আহমেদের হাতে তুলে দেন।

শাহরিয়া রেজা হিমেল জানান, আকাশের কাজে আরো উৎসাহ যোগাতে সাংসদ পুত্র অয়ন ওসমান আর্থিক সহযোগীতা করেছেন। আর এই অর্থ দিয়ে আকাশ তার মেধাকে আরো বিকশিত করার সুযোগ পাবে। এদিকে, অয়ন ওসমানের অর্থ পেয়ে আনন্দিত আকাশ। অয়ন ওসমানের এই অর্থ দিয়ে নিজের কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের জন্য কিছু করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন আকাশ আহমেদ। উল্লেখ্য, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে অবস্থিত অটোরিকশা ওয়ার্কশপে তৈরি হয়েছে (ল্যাম্বোরগিনি) এর আদলে একটি গাড়ি।

গাড়ি নির্মাতা আকাশ আহমেদ ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তারা বাবার নাম নবী হোসেন। ইতোমধ্যে দেশীয় প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব এই গাড়িটি দেখিয়ে ২৫টি গাড়ি তৈরির অর্ডার পেয়েছেন তিনি।

আকাশের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ছোট বেলা থেকেই নিজের তৈরি গাড়িতে চড়ার শখ ছিল আকাশের। স্বপ্নের শুরু দেড় বছর আগে। অটোরিকশা নির্মাণের গ্যারেজ থেকে বডি তৈরি করতে করতে এক সময় আকাশ বাবার কাছে প্রস্তাব দিলো গাড়ি বানানোর। বাবা নবী হোসেন ছেলেকে অনুমতি দিলেন গাড়ি নির্মাণের জন্য। আর সেই থেকেই যাত্রা শুরু আকাশের। ক্যালেন্ডারের পাতায় ইতালির বিখ্যাত গাড়ি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ল্যাম্বোরগিনি গাড়ির মডেল দেখেই সেটিকে অনুসরণ করে সামনে এগোতে থাকেন তিনি। বাবার কাছ থেকে প্রতিদিন ১০০/২০০ করে টাকা নিয়েই অল্প অল্প করে কাজ শুরু করেন আকাশ। ইউটিউবে টিউটোরিয়াল দেখে ও জাহাজ কাটার অভিজ্ঞতা থেকে ইস্পাতের পাত কেটে কেটে গাড়ির বডির শেপ তৈরি করেন। ল্যাম্বোরগিনির আদলে গাড়ির নকশা প্রণয়ন, নির্মাণ, জোড়াতালি সবই নিজের হাতে তৈরি করেন।

আকাশের বাবা নবী হোসেন বলেন, আমার ছেলে এই গাড়ি বানিয়েছে এটা এখনও এলাকার অনেকেই বিশ্বাস করতে চায় না। আমি তাদের বলিওনা তারা বিশ্বাস করুক। কিন্তু আমার ছেলের ওপর হিংসা করে তার ক্ষতি যাতে না করে এই অনুরোধ রাখি সবার কাছে। অনেকেই এসে বিরক্ত করে ছেলেকে। সম্প্রতি একজন গাড়ি জোড় করে চালাতে গিয়ে এক্সিডেন্ট করে সামনে কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলেছে।

৮০২
0