‘আগামীর মেয়র খোরশেদ’!, স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আরও ২ বছর বাকি। কিন্তু এরই মধ্যে ‘নগরবাসীর আগামীর অভিভাবক’, এ নিয়ে ট্রল শুরু হয়ে গেছে। আজ বিকেল থেকেই চলছে এনিয়ে হুলস্থুল কান্ড। এনসিসির মেয়রের একটি বক্তব্যের অংশ বিশেষ স্যোশাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে যাওয়ার পরেই ঘটনার সূত্রপাত।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর প্রেস ব্রিফিংয়ের পরপরই ‘আগামীর মেয়র খোরশেদ’ স্যোশাল মিডিয়ায় টপিকস নিয়ে ভাইরাল হতে থাকে।

অনেকেই কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খোন্দকার খোরশেদকে এখন রাজনীতির উর্ধ্বে দেখছেন। তার দলের লোকজনের পাশাপাশি অন্য দলের লোকজনও তার নামের পাশে ‘বীর বাহাদুর কিংবা সুপার হিরোর’ মতো খেতাব। ঠিক একই ভাবে বর্তমান মেয়রকে সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ মানুষ কটুক্তি ও তিরস্কার করতে ছাড়ছেন না।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশের প্রথম করোনা রোগী পাওয়া যায় নারায়ণগঞ্জ জেলায়। ৩০ মার্চ বন্দরের এক নারী নারায়ণগঞ্জে করোনায় প্রথম মৃত্যু বরণ করেন। বিষয়টি ২ এপ্রিল রাতে প্রকাশ পাওয়ার পরপরই নগরবাসীর মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। এরপর কাশিপুরে আরও একজনের মৃত্যু হয় করোনায়। এক পর্যায়ে স্বাভাবিক মৃত্যু গুলোও হয়ে উঠতে থাকে অস্বাভাবিক। লাশের পাশে যেতে চাইছিলেন না আত্মীয়, স্বজন থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যরাও। শুরু হয় মানবিক সংকট। জীবন-মৃত্যু উর্দ্ধে এসে মানবিক বীর এনসিসি’র ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর খোরশেদ এগিয়ে আসেন। আইনগত জটিলতা পেরিয়ে করোনাভাইরাসে কিংবা নানা উপসর্গে, এমনকি স্বাভাবিক মৃত্যুর লাশও কেউ যখন ধরছিলেন না, খোরশেদ।ও তার টিম পরম মমতায় মৃতদের সম্মানের সহিত দাফন-সৎকার করেছেন। জাত-ধর্মের বিচার না করেই। নগরীর এ এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে, ছুটেছেন রাত-দিন। কোন কোন দিন ৬টির অধীক মরদেহ দাফন কিংবা সৎকার করেছেন। বুধবার পর্যন্ত দাফন বা দাহ করেছেন এমন লাশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬টিতে। তার মানবিকতায় ছড়িয়ে পরতে থাকে সারা দেশে, দেশের বাইরে। খোরশেদ হয়ে উঠে পরম আত্নার নাম।

যখন চারদিকে, দল-মত ধর্ম নির্বিশেষে ভালোবাসায় খোরশেদকে নানা উপধী দিতে থাকে, যখন অধীকাংশ ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের বলতে শোনা যায় “আমাদের কাউন্সিলর যদি খোরশেদ ভাই হতো”। এমন পরিস্থিতিতে মেয়রকে নারায়ণগঞ্জের মানুষ দীর্ঘদিন খুঁজে পায়নি। আজ হঠাৎই বের হয়ে বিশেষ ওএমএস এর কার্যক্রমে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে বসলেন, ‘আমাদের (এনসিসির) কিন্তু কবরস্থানে নিজেস্ব কমিটি আছে। গোর কমিটি আছে, দাফন কাফন করার জন্যও কমিটি আছে। শশ্মানেও আমাদের নিজেস্ব কমিটি আছে। যত লাশ দাহ করা হচ্ছে, তারাও কিন্তু ওই খানে আমাদের নির্ধারিত ডুমরাই করছে। আর কাউন্সিলররা সহযোগীতা করছে|’

এরপর পরই নারায়ণগঞ্জের সবর্ত্র শুরু হয় নানা সমালোচনা। কেউ কেই বলেন, তাহলে খোরশেদ ও তার দল যা করছে তা কি মিথ্যা। কেউবা বলেন, মেয়র খোরদের প্রতি হিংসায় জ্বলছেন। অনেকের মতে, খোরশেদের দেশ-বিদেশের খ্যাতি সহ্য করতে পারলেন। এমন হাজারে আলোচনা-সমালোচনা ছাপিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে থাকে- “মেয়র কী খোরশেদকে প্রতিদ্বন্দ্বি ভাবছেন? “, “আগামীর মেয়র খোরশেদ”!

তবে, স্যোশাল মিডিয়াতে সমালোচনার জবাবে অনেকেই বলেছেন- “এমন পরিস্থিতিতেও মেয়রের বিরুদ্ধে বলতে হবে“, কেউ কেউ বলেছেন “আইভী যা বলে তাতেই কী দোষ”।

 

আরও পড়ুন>>>

দাফন-দাহ এনসিসির লোকেরা করছে, কাউন্সিলররা সহযোগীতা: মেয়র আইভী

0
,