আজকে বঙ্গবন্ধু’র জন্য কোটি মানুষ, সেদিন কেউ ছিল না: আব্দুস সালাম

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ১৯৭৬ সালের ১৫ই আগস্টে বঙ্গবন্ধুর জন্য নারায়ণগঞ্জের ৪টি মসজিদে কোরআন খতম দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। চারটির একটি মসজিদের দায়িত্ব ছিল আমাদের। সেদিন পানির ট্যাঙ্কি মসজিদের ইমামকে বললাম ‘সারারাত মসজিদের কোরআন তেলাওয়াত করতে হবে’। ইমাম রাজি হলেন। কিন্তু শর্ত জুড়ে দিলেন। শর্তটা হলো- ফজরের নামাজ শেষে মোনাজাত মাইকে করবে না, মন থেকে নির্জনে মোনাজাত করা হবে। তারপর সারারাত তেলওয়াত শেষে ফজরের সময় ইমাম মাইকে মোনাজাত না করে মন থেকে মোনাজাত করলেন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকালে চাষাঢ়ায় বঙ্গবন্ধু নিহতের এক বছর পরের পরিস্থিতি এভাবেই তুলে ধরেন নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের জেলা সভাপতি আব্দুস সালাম। নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের আয়োজনে বিকালে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

আরও একটি ঘটনা স্মরণ করে আব্দুস সালাম বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে ডিআইটি এলাকায় চিকা মারার (দেয়ালে লিখন) দায়িত্ব দেওয়া হয় আমাদের। তখন ছিল করফিউ। সেদিন রাতে চিকা মারার এক পর্যায়ে সেনাবাহিনীর গাড়ি এসে হাজির হয় আমাদের পিছনে। তখন পাশ দিয়ে হিন্দু এক ব্যক্তির লাশ নিয়ে যাচ্ছিল কিছু লোক। জীবন বাঁচাতে তাদের সাথে মিশে শ্মশানে গিয়ে ছিলাম। সারারাত সেখানে কাটিয়ে সকালে ফিরেছি।

তাঁর ভাষ্য মতে, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুতে সেদিন যারা ট্রাক নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় আনন্দ মিছিল করেছে, তারাও আজ বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের পক্ষের লোক হয়ে গেছে। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে এখন বঙ্গবন্ধুর নীতি কথা শুনায়। আজকে বঙ্গবন্ধু’র জন্য প্রতিবাদ করার জন্য কোটি কোটি মানুষ রয়েছে। কিন্তু সেদিন বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে তার জন্য দোয়া চাওয়ারও কেউ ছিল না। আর বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে যারা প্রতিবাদ করেছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই আজ বেঁচে নেই। আমরা ভাগ্যক্রমে এখনো বেঁচে আছি। বেঁচে আছে রোকন ভাই ও আনোয়ার ভাই। যারা বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে প্রতিবাদ করে ছিলেন। প্রচুর কঠোর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়েও আমরা নারায়ণগঞ্জে প্রথম স্লোগান করে ছিলাম- বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার চাই।

এ সময় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আমির হুসাইন স্মিথ দাবি তুলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। কিন্তু এ হত্যাকান্ড কেন হলো? সাথে কারা কারা ঝড়িত? সে প্রশ্নে উত্তর জাতির সামনে তুলে ধরা হয়নি। আমরা জড়িতদের তালিকা দেখতে চাই।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছে বাংলার মাটিতে তাদের বিচার হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পেছনে ষড়যন্ত্র করে যারা কলকাঠি নেড়েছে, যারা বেনিফিসিয়ারি, এসব যড়যন্ত্রকারীদের চিহিৃত করার জন্য কমিশন গঠন করা এখন সময়ের দাবি। যাতে আগামী প্রজন্ম জানতে পারে বঙ্গবন্ধুর হত্যার পেছনের ষড়যন্ত্রকারীরা কারা। কারা আমাদের শত্রু। তাদের চিহিৃত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। নারায়ণগঞ্জের সাথে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু; অনেক কিছুই ঝড়িত। বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের কথা বলতে গেলে নারায়ণগঞ্জের কথা বলতেই হবে। আমরা আপনাদের (সাংবাদিক) কাছে যেটা বলতে চাই। আপনারা আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস তুলে ধরুন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের (এনইউজে) সভাপতি আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আমির হুসাইন স্মিথের সঞ্চালয়ন অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর উপর আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রুমন রেজা, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি নাফিজ আশরাফ, সাবেক সভাপতি খন্দকার শাহআলম।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজে’র কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যানির্বাহী সদস্য আনিসুর রহমান জুয়েল, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ইমামুল হাসান স্বপন, যুগ্ম সম্পাদক শওকত এ সৈকত, অর্থ সম্পাদক প্রবণ কৃষ্ণ রায়,নিবার্হী কমিটির সদস্য মোঃ খলিলুর রহমান, আহসান সাদিক শাওনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

0