আতঙ্কের ভোট গ্রহণ সকালে, নেই উৎসাহ-উৎসবের আমেজ

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ভোট বয়কট করছে বিএনপিপন্থী পুরো প্যানেল। নির্বাচনের মাঠ ছেড়েছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী দুই প্রার্থীও। এখন ১৭টি পদের বিপরীতে শুধুই ওসমান পরিবার সমর্থীত আওয়ামীলীগপন্থী ১৭ প্রার্থী। তবুও আজ নিয়ম রক্ষার নির্বাচন।

আজ বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ করা হবে আইনজীবী সমিতির কার্যকরী পরিষদের নির্বাচনে। তাই সমিতির ৯২২ জন ভোটারের অনেকে না চাইলেও আগামী এক বছরের জন্য আইনজীবী সমিতির অভিভাবক হচ্ছেন ওসমান পরিবার সমর্থীত মোহসীন-মাহবুব প্যানেল। তাই শেষ মুর্হুতে এসে আইনজীবীদের অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচন ঘিরে চিরাচরিত উৎসাহ-উৎসবের আমেজ নেই। আছে ক্ষোভ ও শঙ্কা!

গত ১২ জানুয়ারি নির্বাচনটির তফসিল ঘোষণা করা হয়। ১৬ জানুয়ারি ছিল বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশের দিন। তখন ১৭ পদের বিপরীতে বৈধ হয়েছিল তিন প্যানেলের ৫১ প্রার্থী। কিন্তু মনোনয়ন প্রত্যাতারের শেষ দিন চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি থেকে ১৭টি করে ৩৪ প্রার্থী ও বিদ্রোহী আরো ২ প্রার্থীর নাম। কিন্তু ভোট গ্রহণের একদিন আগে আওয়ামীলীগের ১৭ প্রার্থী ছাড়া বাকি সকলেই সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বয়কট করলো।

সাধারণ আইনজীবীরা বলছেন, ভোট গ্রহণের দিন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।

অন্যদিকে, বিএনপিন্থী আইনজীবীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ। ইতোমধ্যেই দাবি না মানায় নির্বাচন কমিশনের কুশপুতুল বানিয়ে তা প্রকাশ্য আদালতপাড়ায় দাহ করেছে।

নির্বাচনের কয়েক ঘন্টা আগে বয়কট করার ব্যাপারে অ্যাডভোটেক সাখাওয়াত হোসন খান বলেন, গত নির্বাচনেও বর্তমান ইসি কমিশন বিতর্কিত অবস্থান নিয়েছিলো। সে সময়ে আমাদের প্রার্থীদের ভোট ডাকাতি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এবারও একই ব্যক্তিদের ইসি কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়ায় বিএনপির পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের আইনজীবীরাও এর প্রতিবাদ করেছে। সুতরাং এই কমিশনের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর এক বেয়াইনি কাজ করে যাচ্ছে। সবশেষ নির্বাচনের ২ দিন পূর্বে ভেন্যু পরিবর্তন করেছে কমিশন। তাই সকল দিক বিবেচনায় আমরা এই নির্বাচন থেকে সরে যাবার সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি।

আর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মজিদ ও রোমেল জানান, ‘আমরা নির্বাচনের মাঠে নেই। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি না। আমরা যদি জয়ই হই। তারপরেও দায়িত্ব নিবো না।’

এদিকে, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও মোহসীন মাহাবুব প্যানেলের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য মো. হাসান ফেরদৌস জুয়েল বলেন, ‘তারা মুখেমুখে নির্বাচন বয়কট করলেও কাগজে কলমে নির্বাচন প্রত্যাহারের ব্যাপারটি কমিশনের কাছে জমা দেয়নি। তা ছাড়া সকালে এসে আবার দেখা যাবে, নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তাই এটাকে বয়কট বলা যাবে না।’

এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সভাপতি পদপ্রার্থী মো. মোহসীন মিয়া বলেন, আমরা জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

0