আপন পর চিনেন না, প্রতিপক্ষ মনে হলেই করেন মামলা

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: দূর্ণীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা আর ক্ষমতা আকঁড়ে থাকার চেষ্টা নিয়ে কথা বললেই গা জ্বালা ধরে যায় তার। ঠুকে দেন একের পর এক মামলা। সহযোগী সমর্থকদের দিয়ে চালান অপপ্রচার। হোক সে দলীয় নেতা-কর্মী বা সংবাদকর্মী। তার কর্মকান্ডের সমালোচনা, প্রতিবাদ বা বিরুদ্ধাচরণ করলেই ঠুকে দেন মামলা। গত কয়েক বছরে প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে এরকম ডজনেরও বেশী মামলা করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। এসব মামলায় বছরের পর বছর আদালতে চক্কর কাটছে দলীয় নেতা-কর্মীসহ অনেক ভূক্তভোগী। আর সচেতন নগরবাসী বলছেন, ‘সততা অভাব, সাহসের অভাব, নিজের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের জবাব দিতে ভীতু হয়ে ওমনটা করেন তিনি’।

এমনই ভূক্তভোগীর একজন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম সম্প্রতি দলীয় কর্মীসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছেন, ‘২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারী আমরা না থাকলে হকারদের হাতে মারা পড়তে পারতেন মেয়র আইভী। সেই ঘটনায় আমার এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে উল্টো মামলা দিয়ে হয়রানী করছে’।

একই ঘটনায় আরেক ভূক্তভোগী যুবলীগ নেতা নিয়াজুল ইসলাম খান বলেন, ‘সেদিন মেয়র আইভী ও তার লোকজন শহরে বড় ধরনের হাঙ্গামা করতে চেয়েছিলো। মেয়র আইভী নিজে হকারদের চৌকি লাথি মেরে ফেলে দিয়ে এর সূত্রপাত করেন। আমি সায়াম প্লাজার সামনে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই আমার উপর হামলা করে মেয়র আইভীর লোকজন। তখন আমি আমার লাইসেন্স করা পিস্তল বের করে তাদের নিবৃত করার চেষ্টা করলে আইভীর ঘনিষ্ঠ সুইপার গোবিন্দ’র ছেলে আমার কাছ থেকে পিস্তলটি ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং ফের হামলা করে। এক পর্যায়ে আশপাশেরন লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে। পরে সদর থানা পুলিশ আমার লাইসেন্স করা পিস্তলটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মেয়র আইভী তার লোক দিয়ে আমিসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে’।

এদিকে সিটি কর্পোরেশন ও মেয়র আইভীর ঘনিষ্ঠদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় জেলার বেশ কয়েকজন সংবাকর্মীর নামে একের পর মামলা দায়ের করান মেয়র আইভী। এসব মামলার বাদী মেয়র আইভী, তার ভাই আলী রেজা রিপন ও ঘনিষ্ঠরা। নারায়ণগঞ্জ আদালতের একজন আইনজীবী এসব মামলায় সহায়তা করে আসছেন মেয়রকে।

এদিকে মেয়র আইভী ও তার পরিবারের সদস্যদের দ্বারা হিন্দু সম্প্রদায়ের শত কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি দেওভোগ জিউস পুকুর জাল দলিলের মাধ্যমে দখল করে। এনিয়ে কঠোর আন্দোলনে নামে নারায়ণগঞ্জের হিন্দু সম্প্রদায়। তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করায় মহানগর আওয়ামী নলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহার বিরুদ্ধেও মেয়র আইভী নিজে বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন। শুধু তাই নয়, তাকে নিয়ে বিভিন্ন সভা সমাবেশে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করে বেড়ান মেয়র আইভী। এমন অভিযোগ নিজ দলের এ নেতার কর্মীদের।

এভাবেই যারা অনিয়ম-দূর্ণীতি ও দখলবাজীর সমালোচনা করেন তাদেরকে মামলা দিয়ে শায়েস্তা ও হয়রানীর অভিযোগ রয়েছে সিটি মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে। একারণে তিনি মামলাবাজ হিসেবেও পরিচিত। শুধু ব্যক্তি নয়, বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের জায়গা দখল করতে গিয়ে ঐসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও মামলা দিয়ে রেখেছেন। এমন অসংখ্য অভিযোগে অভিযুক্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী।

এব্যাপারে জানতে মেয়র আইভীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

0