আর কতো সেই একঘেয়েমী?

0

দলীয় প্রার্থী যে-ই হোক, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নেতৃত্বে পরিবর্তন চান অধিকাংশ নগরবাসী। আওয়ামী লীগের তৃনমূলও চায় নতুন নেতৃত্ব আসুক। তাদের ভাষ্য, আর কতো একঘেয়েমী। ছাত্র ও যুব সমাজের পক্ষ থেকেও পরিবর্তনের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো ঝড় উঠেছে। সবাই চায় পরিবর্তন।

সম্প্রতি নগরীর ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আয়োজিত কর্মী সভায় তৃনমুল আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা এ দাবির সাথে একমত পোষন করে বলেছেন, দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকেই নৌকা দেন আপত্তি নাই, কিন্তু পরিবর্তন চাই। তারা বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া আওয়ামী লীগ সর্বসময়ে দেশের সবচে বৃহত্তম জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। ১৮ বছর একটানা নগর ভবনের চেয়ারে বসে যে অহংকার, অহমিকা তৈরী হয়েছে বর্তমান মেয়রের, তাতে পুনরায় তাকে দলীয় মনোনয়ন দিলে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ ধ্বংস হবে। কেননা, এতো বছর ধরে ক্ষমতায় থেকেও এই মেয়র আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের জন্য কিছুই করেননি। না পেরেছেন একজন কর্মী তৈরী করতে। কিছু দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার আর লুটপাট করা আত্মীয়-স্বজনের বলয়ের বাইরে বের হতে পারেননি মেয়র আইভী। তাই সারা নারায়ণগঞ্জে রব উঠেছে, এইবার পরিবর্তন চাই।

তাদেও ভাষ্য, আওয়ামী লীগে মেয়রের দায়িত্ব পালন করার মতো যোগ্য অভিজ্ঞ বহু নেতা রয়েছে। তাদের মধ্য থেকে যাকে খুশী নৌকা দেয়া হোক। তারাই সরকারের উন্নয়ণের ধারাকে অনেকদুর এগিয়ে নিতে পারবে। বিশ্বাসঘাতক মোস্তাকদের থেকে দলকে রক্ষা করতে পারবে।

জানা গেছে, ২০০৩ সালে নিউজিল্যান্ড থেকে উড়ে এসে আওয়ামী লীগের সমর্থণে প্রার্থী হন বর্তমান সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। তখন ছিলো বিএনপি-জামায়াতের শাসন। জোট সরকার ছিলো ক্ষমতায়। অভিযোগ রয়েছে, শুরু থেকেই বিএনপি-জামায়াতের সাথে আঁতাত করে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা পরিচালনা করেছেন আইভী। বিএনপির কাউন্সিলরদের প্যানেল মেয়র পদে বসানো থেকে শুরু করে প্রতিটি কর্মকান্ডে বিএনপি জামায়াতের একটি পক্ষকে কাছে টেনেছেন। ২০০৫ সালে স্বৈরাচারী কর্মকান্ডের কারণে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার অধিকাংশ কাউন্সিলরগণ একযোগে অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন চেয়ারম্যান আইভীর বিরুদ্ধে। সেসময় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও বিআরটিসির চেয়ারম্যান তৈমূর আলম খন্দকারের হাতে-পায়ে ধরে সে যাত্রায় রক্ষা পান আইভী। কয়েক বছর পরই সেই তৈমূরকে ল্যাং মারেন। ২০১১ সালে তৈমূরের বসে যাওয়ার কারণেই সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হওয়ার সৌভাগ্য হয় সেলিনা হায়াৎ আইভীর। মেয়র হয়েই সেই তৈমূরের ভাই খোরশেদকে প্যানেল মেয়র পদে পরাজিত করতে আদা জল খেয়ে নামেন আইভী। পরাজিত হয় খোরশেদ।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজামের একটি ফেইজবুক পোষ্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়, যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘২০০৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে যুবক ও তরুণদের শ্লোগান ছিলো রাজাকার হঠাও দেশ বাঁচাও। এটা ছিলো মুক্তিযুদ্বের প্রতি তাদের আস্থা, চেতনা, দেশপ্রেম ও সন্মানবোধ। তাই শত ষড়যন্ত্রের মধ্যেও বিজয় হয়েছিল স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির। তাই আমি বিশ্বাস করি বর্তমান তরুণ ও যুবসমাজ নিজেদের অধিকার সম্পর্কে অনেক সচেতন ও বাস্তববাদী। গত ১৮ বছর যিনি সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বে ছিলেন বর্তমান তরুন ও যুবসমাজের দৃস্টিতে নারায়নগঞ্জের মৌলিক নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তাই আমার বিশ্বাস এই তরুন ও যুবসমাজ আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জবাসীর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করবে। কারন ভাষা-আন্দোলন, স্বাধীনতাযুদ্ব সহ সকল মৌলিক আন্দোলনে এই তরুণ ও যুবসমাজরাই নিজেদের রক্ত দিয়ে অধিকার নিশ্চিত করেছেন আগামীতেও করবেন ইনশাআল্লাহ। জয় হউক অবহেলিত নারায়ণগঞ্জবাসীর’।

0