আ.লীগ বিএনপির পরষ্পর বিরোধীতায় আদালত পাড়ায় উত্তাপ

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট: আসন্ন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির (২০২১-২২ইং) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপি পন্থী সিনিয়র আইনজীবীদের পরষ্পর বিরোধী বক্তব্যে ক্রমশই নির্বাচনী উত্তাপ ছড়াচ্ছে আদালতপাড়াতে।

সাধারন আইনজীবীদের অভিমত, `নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী সিনিয়র আইনজীবী নেতারা যেভাবে পরপষ্পর বিরোধী উস্কানী, হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন, এতে করে আদালতপাড়া বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে। এছাড়াও আওয়ামী আইনজীবী হিসেবে পরিচিত জসীম উদ্দিন সাধারন সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করায় কিছুটা উদ্বিগ্ন আছেন আওয়ামীলীগ সমর্থিত সাধারন সম্পাদক প্রার্থী এড. মাহবুবুর রহমান!’

তবে সরেজমিন দেখাগেছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষে দলীয় সিনিয়র আইনজীবী নেতারা পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য প্রদান করলেও নির্বাচিত হলে বার ভবনসহ আইনজীবীদের উন্নয়ণের স্বার্থে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থণা করে যাচ্ছেন প্রার্থীরা।

অপরদিকে, গত বছর নির্বাচনে সহ-সভাপতি প্রার্থী হয়েও শেষতক মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করায় সেসময় নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারেননি এড. জসীম উদ্দিন। কিন্তু এবছর তিনি সাহসিকতার সাথেই পিছুপা না হটে সাধারন সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। নির্দ্বিধায় চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণা। তবে নির্বাচনী পরিবেশে পরষ্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে উত্তাপ ছাড়াচ্ছেন উভয় দলেরই সিনিয়র আইনজীবী নেতারা।

গত ১৯ জানুয়ারী ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণাকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা বিএনপিপন্থী আইনজীবী প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী এড. হুমায়ুন কবিরকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘বিএনপি সমর্থিত সভাপতি প্রার্থী দুই লাখ হিসেবে পরিচিত। এই দুই লাখ টাকা আমার বন্ধু ওয়াজেদ আলী খোকন (পিপি) হুমায়ুনের হাতে তুলে দিয়েছিল তাকে বসিয়ে দেয়ার জন্য।’

তিনি আরও বলেছেন, `এই ডিজিটাল বার এমপি সেলিম ওসমানের টাকায় আর শামীম ওসমানের সহযোগিতায় হয়েছে। এই বারের উন্নয়ন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা কখনও করে নাই। বরং তারা বারের টাকা আত্মসাত করেছেন।’

তাই আগামীতেও উন্নয়ণের ধারা অব্যাহত রাখতে খোকন সাহা অতীতে যারা বার লুটপাট করেছে তাদের ভোট না দিয়ে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ সমর্থিত মোহসীন-মাহবুব প্যানেলকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহবান জানান সাধারন আইনজীবীদের প্রতি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েলও ডিজিটাল বার ভবনের উন্নয়ণ অব্যাহত রাখতে মোহসীন-মাহবুব প্যানেলের প্রার্থীদের নির্বাচিত করার অনুরোধ করেন।

আর আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী এড. মুহাম্মদ মোহসীন মিয়া দাবী করে বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীদের জন্য আমাদের সময়েই সবকিছু হয়েছে। আমরা বলেছিলাম আইনজীবীদের জন্য ডিজিটাল বার ভবন নির্মানের, যা ইতিমধ্যেই একতলা সম্পন্ন করা হয়েছে। এই ভবন করার জন্য সমিতি থেকে একটি টাকাও খরচ করি নাই। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমানের অনুদানে ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের সহযোগিতায় এই বার ভবন নির্মান করা হচ্ছে। এবারও আমরা নির্বাচিত হলে এই বার ভবনের কাজ দ্রæত সম্পন্ন করা হবে।’

অপরদিকে, নির্বাচনী পরিবেশ উত্তপ্ত রাখতে কোন অংশে কমও বক্তব্য ঝাড়ছেন না বিএনপির সিনিয়র আইনজীবীরা। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ মনোনীত হুমায়ুন-কামাল পরিষদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তব্যকালে আওয়ামী প্যানেলের প্রতি হুমকি স্বরূপ অভিযোগ তুলে বক্তব্য রাখেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, `ক্ষমতাসীন দলের আইনজীবীরা সমিতির ভবনকে মূলো হিসেবে ঝুলিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে চাচ্ছে। বর্তমানে আইনজীবী সমিতিকে ছেলের হাতের মোয়া হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কুক্ষিগত করেছে ক্ষমতাসীনরা। আইনজীবীদের ভোটকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলে আইনজীবী সমিতিকে কলঙ্কিত করেছে। তাই আমরা এবারের নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দীতায় মাঠে থাকবো।’

মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. জাকির হোসেন হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেছেন, `গত কয়েক বছর অনুষ্ঠিত আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে তামাশায় পরিণত করেছে। কিন্তু এবারের নির্বাচনকে আর তামাশায় পরিণত হতে দিব না। যদি এবারের নির্বাচনকে কেউ বানচাল করতে চায় তাহলে তাদের হাত পা ভেঙ্গে দেয়া হবে।’

আর বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী এড. হুমায়ুন কবির বলেছেন, `শরীরে শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়াবো না।’

উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ মনোনীত মোহসীন-মাহাবুব প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন- সভাপতি পদে এড. মুহাম্মদ মোহসীন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক এড. মাহবুবুর রহমান, সিনিয়র সহ সভাপতি পদে এড. বিদ্যুৎ কুমার সাহা, সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী বরুণ চন্দ্র দে, যুগ্ম সম্পাদক পদে এড. রবিউল আমিন রনি, কোষাধ্যক্ষ পদে এড. মনিরুজ্জামান কাজল, আপ্যায়ণ বিষয়ক সম্পাদক পদে এড. মোহাম্মদ স্বপন ভূঁইয়া, লাইব্রেরী বিষয়ক সম্পাদক পদে এড. মাহমুদুল হক মমিন, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক পদে এড. সাজ্জাদুল হক সুমন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে এড. আসাদুর রহমান বিপ্লব, সমাজ সেবা বিষয়ক সম্পাদক পদে এড. ইসরাত জাহান ইনা, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক পদে এড. নুসরাত জাহান তানিয়া।

আর কার্যকরী সদস্য পদপ্রার্থীরা হলেন- এড. রোমানা আক্তার, এড. আবু তাহের তালুকদার, এড. কামরুল হাসান, এড. সিরাজুল হক মিলন ও এড. শরীফুল ইসলাম।

অপরদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির এবছরের নির্বাচনে বিরোধীদল বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী ঐক্য পরিষদ মনোনীত হুমায়ুন-কামাল পরিষদের প্রার্থীরা হলেন- সভাপতি পদে এড. সরকার হুমায়ুন কবির, সাধারণ সম্পাদক পদে এড. কামাল হোসেন মোল্লা, সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রার্থী এড. মানিক মিয়া, সহ-সভাপতি পদে এড. আনোয়ারুল আলম রিপন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে এড. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া সবুজ, কোষাধ্যক্ষ পদে এড. জাহিদুল ইসলাম মুক্তা, আপ্যায়ণ বিষয়ক সম্পাদক পদে এড. জাহিদুর রহমান, লাইব্রেরী বিষয়ক সম্পাদক পদে এড. মোহসীন শেখ, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক পদে এড. গোলাম সারোয়ার, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে এড. সারোয়ার জাহান, সমাজ সেবা বিষয়ক সম্পাদক পদে এড. আসমা হেলেন বিথি, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী এড. আমিনুল ইসলাম।

এছাড়া কার্যকরী সদস্য পদপ্রার্থীরা হলেন- এড. মোস্তাফিজুর রহমান শুক্কুর মাহামুদ, এড. হাফিজুর রহমান মাসুদ, এড. হাবিবুর রহমান ও এড. জামান হোসেন।

আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাধারন সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দীতা করছেন, এড. জসীম উদ্দিন।

0