ঈদের আগে গুমের শিকার ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেয়ার আহবান

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ:
গুম বন্ধ কর, গুমের শিকার ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দাও, ‘মায়ের ডাক’ এর ব্যানারে আলোচনা সভা করেছে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স নেটওয়ার্ক নারায়ণগঞ্জ জেলা। মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সমন্বয়ক সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন রবিনের সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদের নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, গণসংগতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের যুগ্ন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জীবন, সিদ্ধিরগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, কলামিষ্ট এম এ মাসুদ বাদল, মানবাধিকারকর্মী শিক্ষাবিদ এম কবীর ইউ চৌধুরী।
উপস্থিত ছিলেন, মানবাধিকারকর্মী এনামুল হক প্রিন্স, কবি জাহাঙ্গীর ডালিম, মানবাধিকার কর্মী রাজিয়া সুলতানা শিশির, এস কে দুপুর, তাসলিমা আক্তার আখি, পিয়াল, সাইফুল ইসলাম সায়েম, আহসান হাবিব সোহাগ, অনিক, নাজিমুর রহমান প্রমুখ।
সভায় হাফিজুল ইসলাম বলেন, আমরা জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস ও মাদককে কোনভাবেই সমর্থন করি না। কিন্তু আইনশৃংখলা বাহিনী অপরাধীদের আইনের আওতায় না এনে বিচার বহিভুর্ত হত্যাকান্ড সংগঠিত করছে। এটা দীর্ঘস্থায়ী কোন সমাধান নয়। গুম, খুন, ধর্ষণ, নির্যাতন দিন দিন বেড়েই চলছে। গুমের শিকার কেউ কেউ ফিরে এসেছে। অনেকে নিখোঁজ রয়েছে। আবার কারো কারো লাশ পাওয়া গেছে। কিন্তু যারা ফিরে এসেছে তাদের মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তারা কোন কথা বলছে না। তাদের ভেতর এমন এক আতঙ্ক ঢকিয়ে দেয়া হয়েছে যার কারণে ফিরে আসা ব্যক্তি কারা কেন তাকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, কিছু সে বলে না। অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছে। তাদের স্বজনরা জানে নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিটি জীবত আছে না মৃত?
নিখিল দাস বলেন, একটি স্বাধীন দেশে মানুষ নিখোঁজ হয়ে যাবে। দিনের পর দিন তার খোঁজ থাকবে না। এটা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তিনি বলেন, গুম হয়তো কমেছে তবে কথা বলাও কমেছে। কারণ কথা বললেই, প্রতিবাদ করলেই গুম হতে হয়। যারা গুম হয়েছে তাদের মতো আমি আপনিও গুম হতে পারি। তবে তাই বলে চুপ করে বসে থাকলে চলবে না। গুম খুনের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবন্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানাতে হবে।
তরিকুল সুজন বলেন, আমরা যতটা সম্ভব কথা বলবো। মানুষের পক্ষে দাঁড়াবো। তাহলে আপনার আমার মাধ্যমে অন্য মানুষরা শক্তি পাবে কথা বলার, প্রতিবাদ করার। কথা বলার শক্তি অর্জন করা আমাদের অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি বলেন, রাষ্ট্র বিপরীত মত, বিপরীত শক্তিকে ধারণ ও গ্রহন করতে পারছে না বলেই গুম-খুনের ঘটনা ঘটছে। তবে আমি আশাবাদি, বাংলাদেশের বিদ্যমান এই ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে। এবং হতাশ না হয়ে আশাবাদী হতে হবে, মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার তৈরী করতে হবে।
নজরুল ইসলাম বাবুল বলেন, মানুষ তার মৌলিক অধিকারের কথাও বলতে পারছে না। কথা বললেই সমস্যা, এটা গণতান্ত্রিক পন্থা হতে পারে না। তিনি বলেন, গুমের শিখার ব্যক্তিদের স্বজনদের চোখে পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। তারা জানতেও পারছে না, তাদের প্রিয় মানুষটির অবস্থান।
এম এ মাসুদ বাদল বলেন, দু:খি, অসহায় ও কন্দনরত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে আমরা খুব একটা আগ্রহী হই না। এটা জাতির জন্য লজ্জা। তিনি বলেন, ৪৫ বছর আগে নির্মল দা লিখেছিলেন স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই। যদিও তিনি শেষ বয়সে গ্রামে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি পেয়েছেন কিন্তু জাতি স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি পায়নি। তেমনি গুমের মৃত্যুও অস্বাভাবিক মৃত্যু, স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। মানুষ আজ তার স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চায়।
রফিকুল ইসলাম জীবন বলেন, কথার বলার অধিকারই গুম হয়ে গেছে। আজকে আমি আপনি এখানে কথা বলছি এটাই অনেক বেশি। এমন পরিস্থিতি কতদিন চলবে, আল্লাহ জানে। আমাদের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। কথা বলতে ভয় পাচ্ছি, পরিবার থেকেও বলা হচ্ছে কম কথা বলতে। কিন্তু আমাদের তো কথা বলতে হবে। এভাবে একটা দেশ চলতে পারে না।
সভাপতির বক্তব্যে বিল্লাল হোসেন রবিন বলেন, সবশেষ চলতি বছরের ৯ এপ্রিল ঢাকায় যাওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মাইকেল চাকমা এবং ১০ এপ্রিল এশার নামাজের পর সিদ্ধিরগঞ্জের নিমাইকাশারী থেকে জাহেদুর রহমান ও ইকবাল হোসেন নামে দুই ব্যক্তি গুম হয়। তাদের এখন পর্যন্ত কোন খোঁজ নেই।
তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনরা তাদের প্রিয়জনের জন্য পথ চেয়ে বসে আছে। তাদের চোখে পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। তাদের কান্নায় প্রতিদিনই পরিবেশ ভারি হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, স্বজন হারানোর বেদনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি নিজেও বোঝেন। যে স্বজন হানারোর বেদনা কতটা কস্টের। ঠিক আজকে যারা বাবা হারিয়েছে, সন্তান হারিয়েছে, স্বামী হারিয়েছে তারা উপলিব্দ করছে যে স্বজন হারানোর বেদনা কতটুকু।
তাই আমরা আজকের এই অনুষ্ঠান থেকে সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাবো যেন ঈদের আগে গুম হওয়া নিখোঁজ ব্যক্তিদের তাদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়। আর যেন কাউকে চোখের পানি ফেলতে না হয়।

0