ঈদের আমেজে ছিনতাইকারীদের উৎসব, পুলিশের নজরদারীতে পন্ড!

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: দর কষাকষির এক পর্যায়ে নির্ধারিত হলো পণ্যের মূল্য। এরই মধ্যে বিক্রেতাও পণ্যটি প্যাকেট করে ফেলেছেন। কিন্তু দাম মেটাতে পকেটে হাত দিতেই কপালে ভাঁজ! এরপর উল্টে-পাল্টে খোঁজা-খুঁজি। কিন্তু কোথাও টাকা নেই।
স্বামী, সন্তান ও আত্মীয়দের জন্য ঈদের কেনাকাটা করতে এসে ২০১৮ সালের ৭ জুন নগরীর সমবায় মার্কেটে এমনই অভিজ্ঞতা হয়েছিলো বন্দরের রিমা বেগম নামের এক নারীর।
এর দুই দিন পূর্বে হক প্লাজায় কলি আক্তার নামের আরো এক নারীর ব্যাগ থেকে ১০ হাজার টাকা চুরি হয়। সন্দেহ করে দুই জনকে আটক করা হলে প্রথমে তারা অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে মার্কেটের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখালে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
শুধু রিমা বেগম কিংবা কলি আক্তারই নয়, প্রতি বছরই ঈদের আগে নগরীতে বেড়ে যায় চুরি-ছিনতাইয়ের মত অপ্রীতিকর ঘটনা। কখনও কারও মোবাইল, কখনও কারও মানিব্যাগ, এমনকি গায়ের গহণা পর্যন্ত ভেনিস হয়ে যায়। তাই এবার রমজান ও ঈদে প্রতিদিনই অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে গত ১৩ মে চাষাঢ়া থেকে ৭ জন, ১৪ মে আরও ৩ জন ও ১৬ মে নগরীর খানপুর থেকে আরও ১৩ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৮ মে সকালে মাসদাইরে ছিনতাই করতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে ২ ছিনতাইকারী। এদের মধ্যে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।

অপরদিকে, সদর মডেল থানা ১৮ মে পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আইন শৃঙ্খলা নিয়ে দুই দফা মত বিনিয়ম সভা করেছেন। প্রথমে ব্যাংক কর্মকর্তা, পরে মার্কেট, দোকান মালিক সমিতি ও স্বর্ণ মার্কেট ব্যবসায়ীদের নিয়ে ওই মত বিনিময় সভায় সকলেই ক্রেতা ও গ্রাহকের অর্থ সম্পদ ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
সভায় বাংলাদেশ হোসিয়ারি এসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল আলম সজল বলেন, ‘মফস্বল থেকে নারী ও মেয়েরা টাকা পয়সা নিয়ে আসে মার্কেট করতে। কিন্তু এসে সর্বস্ব ক্ষুইয়ে যান কিছু ছিনতাইকারি ও মলম পার্টিদের জন্য। তাই ঈদ মৌসুমে এ দুই কারণে ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকে ব্যবসায়ীরা। পুলিশ চাইলে সব পারে। আমি আশা করবো, প্রশাসন জনগণের নিরাপত্তায় কঠোর হবেন।’

এসময় ওই সভার সভাপতি নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কামরুল ইসলাম বলেন, নগরীর আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিত সুন্দর ও স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি। মটর সাইকেলে ৪টি মোবাইল টিম দ্রুত নিরাপত্তা দিতে ব্যবস্থা নিবে। অতীতে ঈদ মৌসুমে যত নিরাপত্তা দিয়েছি, এবার তার চেয়ে বেশি নিরাপত্তা পাবে নগরবাসী। মানুষের প্রত্যাশার শতভাগ নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করবো।

0