ঈদের ছুটিতে ফতুল্লায় ফাঁকা বাড়িতে বাড়ছে চুরি-ডাকাতি

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: এবার ঈদের ছুটির সাথে যুক্ত হয়েছে লকডাউন। লম্বা ছুটি পেয়ে অনেকেই গ্রামের বাড়িতে গিয়েছেন। আর এই সুযোগটাই নিচ্ছে চোর-ডাকাতরা। ঈদের এই ছুটিতে গত কয়েক দিন যাবত ফতুল্লায় তক্কারমাঠ এলাকার আশপাশে চুরি-ডাকাতি বেড়ে গেছে। ঈদের কারণে পুলিশ সদস্যদের একটি বড় অংশ ছুটিতে থাকায় সন্দেহবাজনরা প্রকাশে ঘুরে বেড়ালোও আসছে না আইনের আওতায়, এমনটাই জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। তবে, পুলিশ বলছে ‘অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে’।
পূর্ব শিয়াচর নূর কিন্ডারগার্ডেনের পার্শ্বে মৃত গফুর গাড়ীর ছেলে মো.  মন্নফ গাজী গত ১৮ জুলাই বাড়িতে একাই ছিলেন। এই সুযোগে তাকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে পাশ্ববর্তী ঘরের আলমারী ভেঙ্গে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

১৮ জুলাই ফতুল্লা মডেল থানায় দায়ের করা অভিযোগে, মন্নফ গাজীর ধারণা করেন একই এলাকার দেলোয়ার মোল্লার নাতী অয়ন (২২), ফজলার ছেলে ইব্রাহীম (২৭) ও রাতুল (২৬)সহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন এই ডাকাতির সাথে ঝড়িত।

মন্নফ গাজীর ছেলে মো. ইকবাল বলেন, অভিযুক্ত আসামিরা প্রকাশ্য দিবালোকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা আইনের আশ্রয় নেওয়ায় আসামীদের পরিবারের সদস্যরা উল্টো বাড়ির নিচে এসে গাল-মন্দ করছে। এখন আমরা নিরাপত্তা হীনতায় রয়েছি।

এ ব্যাপারে ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম জানান, তদন্ত করে ডাকাতির প্রমান পাওয়া গেছে। কিন্তু আমি ঈদের ছুটিতে রয়েছি। ফিরে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই এলাকার আরও এক ব্যক্তি নামপ্রকাশ না করার শর্তে জানান, ১৭ জুলাই আমাদের ঘরেও বাহির থেকে আটকে দিয়ে কে বা কারা লুট করার চেষ্টা করেছে। টের পেয়ে যাওয়ায় পালিয়ে যায়।

স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, অয়ন, ইব্রাহীম ও রাতুলদের বিশাল একটি কিশোর গ্যাং রয়েছে। ওই গ্যাং এর সদস্যদের নিয়ে তক্কারমাঠ ও আশপাশের এলাকায় চুরি, ছিনতাই, অপহরণ, ডাকাতি ও ইভটিজিং করে বেড়ান।

গত ২০২০ সালে ঈদুল ফিতরের ৩ দিন পরে এক কিশোরকে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের সময় ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের কাছে হাতেনাতে গ্রেপ্তার অয়ন, ইব্রাহীমসহ এই গ্যাংয়ের ৮ সদস্য। এ ঘটনায় বেশিরভাগ অভিযুক্ত কিশোর হওয়ার অল্পদিনেই জামিনে বেড়িয়ে যায়। এখন তাদের অপরাধ কার্যক্রম আরও বেড়ে গেছে। তবে, বেশির ভাগ ঘটনা মহল্লার গলিতেই চাপা পড়ে যায়।

এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রকিবুজ্জামান বলেন, ঈদের মধ্যে আমাদের পুলিশ যথেষ্ঠ পরিশ্রম করছে। চুরি-ডাকাতির মতো কোনো খবর এখনো পাইনি। যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, আর আমাদের কাছে অভিযোগ করে তাহলে অবশ্যই ব্যবস্তা নিবো।

0