উত্তপ্ত সারাদেশ, প্রশাসনের সাথে শামীম ওসমান মাঠে: শান্ত নারায়ণগঞ্জ

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: কুমিল্লার ঘটনার জেরে সারাদেশ যখন উত্তপ্ত, তখন পুলিশ-প্রশাসন আর আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদদের হস্তক্ষেপে অনেকটাই শান্ত রয়েছে নারায়ণগঞ্জের ধর্ম ও সামাজিক পরিবেশ। কিছু কিছু মন্ডপে আবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব পালনে মসজিদের মুসল্লিরা গিয়ে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। একই সাথে কুমিল্লার ঘটনার জড়িতদের বিচারেরও দাবি করা হয়েছে।

এই নারায়ণগঞ্জ অসাম্প্রদায়িক গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের পরিবেশ আবারও প্রমাণ করেছে মানুষ। অসাম্প্রদায়িক ব্যবস্থা দেখে বিভিন্ন স্থান বা দেশ থেকে আগত ব্যক্তিগণের কাছে নারায়ণগঞ্জের মানুষের প্রতি পারস্পারিক শ্রদ্ধা বেড়েছে।

কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে কোরআন পাওয়া এবং সেটিকে কেন্দ্র করে সহিংসতার জের ধরে ১৩ অক্টোবর রাতে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, নোয়াখালীর হাতিয়া এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী ব্যাপক উত্তাপ ছিল। সর্বশেষ রাজধানী ঢাকাতে পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারিদের সংঘর্ষ হয়। দেশের অনেক মন্ডপে পূজাও বন্ধ ছিল। কুমিল্লার কিছু মন্ডপের প্রতিমা আগেই বিসর্জন দেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

ঘটনার শুরু থেকেই নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা জোড়দার করেছে। পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির সদস্যরা কয়েক স্তরে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমানের নির্দেশনায় খোকন সাহা, শাহ্ নিজামসহ নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ মন্ডপে মন্ডপে গিয়ে পরিবেশ পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়েছে। এছাড়া ১৫ অক্টোবর (শুক্রবার) এমপি শামীম ওসমান নিজেও শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে নেমেছেন রাস্তায়। সনাতন ধর্মালম্বীদের পাশাপাশি মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের সাথেও যোগাযোগ রেখেছেন।

জানা গেছে, শামীম ওসমান ও পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতায় জেলার ইসলামীক সংগঠন বা দল গুলো সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছে। আর তাই, প্রতিমা বির্জসন পর্যন্ত পুরো নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ শান্ত থাকার খবর মিলেছে।

নারায়ণগঞ্জে এবার ২১৪টি পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় চলছিল প্রতিটি মন্ডপেই বিসর্জনের প্রস্তুতি।

এ ব্যাপারে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন বলেন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সরকারি সকল গোয়েন্দা সংস্থা সবসময়ই খোঁজখবর ও নজরদারীর মধ্যে রেখে ছিলেন। রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের নির্দেশনায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ গত দু’দিন যাবত সারারাত মন্দির পাহারা দিয়েছে। শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান এমপি মহদোয় আমার মাধ্যমে সনাতন ধর্মালম্বীদের খোঁজ খবর রেখেছেন। এছাড়াও জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন প্রতিনিয়ত খোঁজখবর নিয়েছেন। সবকিছু মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ ছিল চমৎকার। কোন ধরণের অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটেনি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, শান্তিপূর্ণ ভাবে পূজা উদযাপন হয়েছে। এটা নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগীতার কারণে। বিশেষ করে সংবাদ মাধ্যম, সেই সাথে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দ, ধর্মীয় নেতা ও সুশিল সমাজসহ সকলের সাথে টিম ওয়ার্ক করার কারণে আমরা ভালো অবস্থায় ছিলাম। এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে পূজা উৎযাপন সম্পন্ন হয়েছে। সাধারণত পুলিশের পক্ষ থেকে ৩ স্তরের নিরাপত্তা দেওয়া হয়ে থাকে। তবে, এবার কুমিল্লার ঘটনার পর থেকে আরও বেশি নিরাপত্তা জোড়দার করেছি। প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও যে স্থান গুলো থেকে অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটতে পারে, এমন স্থানে নজরদারী বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে দুষ্কৃতিকারী ও সুযোগ সন্ধানীরা কোন সুযোগ নিতে পারেনি। এ জন্য জেলা পুলিশের ১৮০০ সদস্যকেই গত ৭২ ঘন্টা কঠর পরিশ্রম করতে হয়েছে।

এদিকে, শুক্রবার জম্মার নামাজের পর নগরীর ডিআইটি মসজিদ থেকে কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে কোরআন পাওয়ার ঘটনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা শান্তিপূর্ণ ভাবে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। তারপরেও মিছিলকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থায় ছিল।

0