উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা সৈয়দপুরের রবিনের

0

নারায়ণগঞ্জ সদর থানাধীন সৈয়দপুর এলাকার সন্ত্রাসী ৯ মামলার আসামী রবিন উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে। ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত রবিনকে সম্প্রতি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। পরে উচ্চ আদালত থেকে রবিন জামিনে বের হয়ে নিজেকে সাধু প্রমানের অপচেষ্টায় গণমাধ্যমের কাছে মিথ্যাচার করে চলেছে ব‌লে অ‌ভি‌যোগ পাওয়া গে‌ছে। স্থানীয়রা বল‌ছেন, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগান্ডা চালিয়ে সে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ফয়সল আতিক বিন কাদেরের আদালত সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু রবিনকে ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় থেকে রবিন পলাতক ছিল। ওই মামলায় রবিনের পক্ষে গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাক্ষি দিয়েছিল। কিন্তু এরপরেও রবিন সাজা থেকে রেহাই পায়নি। ওই মামলার রায় ঘোষণাকালে রবিনের ছোট ভাই রুবেল ও মৃত সাইজউদ্দিনের পুত্র শাওনকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ১ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছেন। দন্ডপ্রাপ্ত সন্ত্রাসী রবিন (৩৩) নারায়ণগঞ্জ সদর থানাধীন সৈয়দপুর টানা ব্রীজ এলাকার আব্দুল কাদিরের পুত্র।

জানা গেছে, সন্ত্রাসী রবিনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ৯টি মামলা রয়েছে। তার ছোট ভাই রুবেল ও শাওনও সন্ত্রাসী প্রকৃতির। তাদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের সকলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতাসহ নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। সন্ত্রাসী রবিনের বিরুদ্ধে মামলাগুলো হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার মামলা নং ১৯ (৭)১২, ৬(৩)১২, ২৪ (৬) ১২, ৩(৬)১২, ২(৭)০৯, ৫২ (১১) ১৭, ২২ (২)১৭, ৩(১)১৮। রবিনের ছোট ভাই রুবেল, আনছার আলী ও শাওনও এসকল মামলার আসামী।  মামলার সবগুলোই ভূমিদস্যু সংক্রান্ত বলে জানা গেছে।

গত ৭ জানুয়ারী সকালে নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সন্ত্রাসী রবিন আত্মসমর্পন করলে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। পরে আদালত থেকে ওই মামলায় সন্ত্রাসী রবিন জামিন পেলেও অপর একটি মামলার ওয়ারেন্টে ওইদিন রাতে জেলগেট থেকে তাকে গ্রেফতার করে সদর মডেল থানা পুলিশের এসআই রফিক। পরে কয়েকদিন কারাগারে থাকার পরে ১৩ জানুয়ারী আদালত থেকে জামিন লাভ করে সন্ত্রাসী রবিন।

এদিকে জামিন পাওয়ার পরে জেলহাজত থেকে বের হয়ে নিজেকে সাধু প্রমাণে রবিন গণমাধ্যমের কাছে মিথ্যাচার করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সন্ত্রাসী রবিন ও তার সহোদরদের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতার ৯টি মামলা থাকলেও সে প্রতিপক্ষ ব্যবসায়ীকে ভূমিদস্যু হিসেবে জাহির করছে। অথচ সন্ত্রাসী রবিন যার জমি দখল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল সে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি বাংলাদেশ হোসিয়ারী এসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। অথচ রবিন নিজেকে বাঁচাতে মামলাটিকে মিথ্যা মামলা হিসেবে দাবি করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের কাছে মিথ্যাচার করছে। তার এহেন মিথ্যাচারের কারণে সৈয়দপুরজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

0