একজন ত্যাগী নেতাকে পেলেন সোনারগাঁবাসী

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে কারাবরণ দিয়ে রাজনৈতিক জীবনের শুরু। এরপর ১৯৬৯-এর গণঅভ্যূত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ করা বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. সামসুল ইসলাম ভূঁইয়াকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে পেল সোনারগাঁবাসী।


সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এড. সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

জানা গেছে, সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে এড. সামসুল ইসলাম ভূঁইয়াকে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেন দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। একজন বর্ষীয়ান পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে গোটা উপজেলায় খ্যাতি থাকার ফলে উপনির্বাচনে অন্যান্য দলের কোনো প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেননি। এতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এড. সামসুল ইসলাম। একজন নিষ্ঠাবান, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদকে অভিভাবক হিসেবে পেয়ে আনন্দিত সোনারগাঁবাসী।


সোনারগাঁয়ের একজন ব্যবসায়ী মো. লিয়াকত আলী বলেন, ‘আমার ছোটবেলা থেকে আমি সামসুল চাচাকে দেখেছি রাজনীতি করতে এবং এলাকাবাসীর পাশে থেকে সমাজসেবা করতে। একজন বর্ষীয়ান নেতা হিসেবে তিনি আমাদের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করবেন, এটা অনেক আনন্দের।’

মুক্তিযোদ্ধা এড. সামসুল ইসলামের ব্যক্তি জীবন সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছাত্র জীবন থেকেই তিনি একজন সংগঠক হিসেবে কাজ করে আসছেন। তিনি ১৯৭২ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন করেন, একই সময় ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৬ পর্যন্ত তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার সময় এড. সামসুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি প্রিয় নেতার হত্যার বিচারের দাবিতে ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে প্রতিবাদ করেন। এ ঘটনায় তিনি কারাবারণ করেন। পরবর্তীতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের হয়রানি ও অমানবিক নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছিল।

একজন সংগঠক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে এড. সামসুল ইসলাম ১৯৮৭ সালে সোনারগাঁও উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রায় ২০ বছর সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা আওয়ালী লীগের আহ্বায়ক এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তিনি নারায়ণগঞ্জ টাউন কো অপারেটিভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও রেডক্রিসেন্টের আজীবন সদস্য।

নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা এড. সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি কখনো পদ-পদবীর জন্য রাজনীতি করিনি। এরপরও নেত্রী আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমার এই সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যেভাবে নেতাকর্মীদের পাশে পেয়েছি এবং তাদের পাশে থাকতে পেরেছি, আমি মনে করি এটাই আমার জীবনের সফলতা। এখন নতুন একটি দায়িত্ব বেড়েছে, আশা করি আমার প্রাণপ্রিয় এলাকাবাসী তাদের ভালোবাসা দিয়ে আমার এই দায়িত্বেও আমাকে সফল করে তুলবেন।’

বর্ণীল জীবনের অধিকারী এড. সামসুল ইসলাম ব্যক্তি জীবনের পাশাপাশি পারিবারিক জীবনেও সফল। তাঁর সহধর্মীণী অধ্যাপক ড. শিরিন বেগম। তিনি বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সভাপতি। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সদস্য। তাঁর প্রতিষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ কমার্স কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তাঁদের দুই সপ্তান নিজ নিজ অবস্থানে সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।

0