এত টাকা ব্যয়, তবু দুর্ভোগের অন্ত নেই নগরবাসীর

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: এক দশকে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের বিশাল অংশ সড়কে ব্যয় করেছে সিটি করপোরেশন। এরপরও শহরে যানবাহন চলছে হাতের ইশারায়, সংকেতবাতি নেই । নাজুক গণপরিবহনব্যবস্থায় নগরবাসীর দুর্ভোগের অন্ত নেই। নারায়ণগঞ্জ মানেই যানজট, সড়কে মৃত্যু, দূষণ আর জলাবদ্ধ সড়কের শহর।

এই পরিস্থিতির জন্য নগরবাসী সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্টদের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও নীতিকে দায়ী করছেন।

২০১৩-১৪ অর্থ বছরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৫ বছর মেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে, নগরীর যানজট নিরসনে নতুন বাস টার্মিনাল, ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণসহ সিটি সার্ভিস চালু করা হবে। এ হিসেবে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিকল্পনা অনুসারে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থায় অগ্রাধিকার দেয়নি। পরিকল্পনাবাদ দিয়ে সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্টরা বিপুল ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশের অপ্রয়োজনীয় রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।

এরপরও ২০২১-২২ অর্থবছরের ৫ বছর মেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনায় পুরানো প্রতিশ্রুতি আবারও তুলে ধরে বলা হয়, ‘যানজট নিরসণে নতুন বাস টার্মিনাল, ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণসহ সিটি সার্ভিস চালু করা হবে’। একই সাথে ‘নারায়ণগঞ্জ নগরীর রেল স্টেশন, বাসটার্মিনাল ও লঞ্চ টার্মিনালের সমন্বয়ে মাল্টিমোডাল হাব নির্মাণ’ করার কথা জানানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী, রাস্তা, ড্রেন নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ এবং বৃক্ষরোপন খাতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ও নিজস্ব তহবিলের আওতায় প্রায় ১৬৬ কোটি ও অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন খাতে ৪৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, ফুটপাত ও ড্রেন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ টিপু জানান, ‘নগরবাসীর ট্যাক্সের টাকা ও সরকারের অনুদানে সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন হয়। কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে ঠিকই কিন্তু অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও নীতির জন্য নগরবাসীর দুর্ভোগ শেষ হয়নি। বন্দরের অপ্রয়োজনিয় রাস্তা চৌরা হয়েছে, অথচ শহরের রাস্তা গুলোকে সুপরিকল্পিত পরিকল্পনায় আনা হয়নি। নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে নগরবাসী। মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী যানজট নিরসণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও বাস্তবায়ন না করে প্রতারণা করে গেছেন। চাষাঢ়া, ২নং রেল গেইট এলাকায় ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ করতে পারতো, চিটাগাং রোডে মোড়ের যানজট নিরসণ করতে পারলেও করা হয়নি।’

এ ব্যাপারে নগরীর যানজট নিরষণের দায়িত্বে থাকা নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পুলিশের টিআই কামরুল বলেন, ‘এক রাস্তার শহর। তার উপর অবৈধ স্ট্যান্ড, অবৈধ রিকশা ও অটোরিকশা প্রবেশ, সড়কে গাড়ির পার্কিং, ফুটপাত অবৈধ দখলের কারণে নগরীতে যানজটের তীব্রতা বাড়ছে। আমরা যানজট নিরসণে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছি।’

এরশাদ সরকার রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু সড়ক প্রসস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এরপর দীর্ঘ ১৮ বছর পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে আ‌ছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। এই নগরীর উন্নয়নে দায়িত্ব পালন করলেও সড়ক গুলোর ব্যবস্থাপনায় তেমন কোন পরিবর্তন আনতে পারেনি। সড়কের দুই পাশের বাসা-বাড়ি গুলোর নিচে পার্কিয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফুটপাত হকারদের দখলে, খোদ সিটি করপোরেশনও ফুটপাত দখল করে ভবন নির্মাণ করেছেন।

বঙ্গবন্ধু সড়ক, নবাব সলিমুল্লাহ সড়ক, সিরাজুদৌলা সড়কসহ শহরের বেশ কিছু প্রধান সড়কে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যানজট নিরসনে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যালের কোন কিছুই দেখা যায়নি। সড়‌কের অ‌নেক স্থা‌নে নেই জেব্রা ক্রসিংও। তার উপর শহরের মধ্যে বাস টার্মিনাল, ট্রাক টার্মিনাল। মোড়ে মোড়ে অবৈধ স্ট্যান্ড, অবৈধ রিকশা ও অটোরিকশা প্রবেশ, সড়কে গাড়ির পার্কিং, ফুটপাত অবৈধ দখলতো রয়েছেই।

0