এনসিসিতে বর্জ্য সমস্যা প্রকট: ফেলা হচ্ছে সড়কের দুপাশে, নদী ও খালে

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নগরীর বাজারগুলোয় শুধু পরিবহন প্রক্রিয়াতেই নষ্ট হচ্ছে প্রচুর সবজি ও দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্য। অবিক্রীত অবস্থায়ও নষ্ট হচ্ছে অনেক পণ্য। কাঁচাবাজারে নষ্ট হওয়া এসব কৃষিপণ্যের একাংশ যাচ্ছে রাস্তার ওপরই। অথবা নিক্ষিপ্ত হচ্ছে আশপাশে অননুমোদিতভাবে গড়ে ওঠা ময়লার স্তূপে। এসব সবজি ও দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্যের আবর্জনা শেষ পর্যন্ত নাগরিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বাইরেই থেকে যাচ্ছে, যা পরিবেশদূষণের পাশাপাশি বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে জনস্বাস্থ্যে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাঁচাবাজারগুলোয় প্রতিদিন যে পরিমাণ সবজি ও কৃষিপণ্য নষ্ট হচ্ছে, তা জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থারও (এফএও) দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় জরিপের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ওই সংস্থাটি বলেছে, ‘এসব এলাকার কাঁচাবাজারগুলোয় উৎপন্ন খাদ্য ও কৃষিপণ্যের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দ্রুত বিকল্প সমাধান প্রয়োজন। অন্যথায় এসব এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট আরো প্রকট হয়ে ওঠার পাশাপাশি, জনস্বাস্থ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব দিন দিন বাড়বে’।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নেই নিজস্ব ল্যান্ডফিল বা ময়লা ফেলার ভাগাড়। ফলে এখানকার অবস্থা ভয়ংকর। সেখানে মূল সড়কের দুপাশে, স্থানীয় নদী ও খালে ফেলা হচ্ছে এসব বর্জ্য। সাধারণ লোকজন তো ফেলছেই, খোদ সিটি করপোরেশনও একই কাজ করছে।

পরিসংখ্যানমতে, বিপুল এ বর্জ্যের ৯০ শতাংশই পুনঃচক্রায়নযোগ্য। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, দিগুবাবুর বাজার থেকে আসা বর্জ্যের ৯০ শতাংশই পচনশীল। এছাড়াও বন্দর বাজারের ৮০ শতাংশ খাদ্যবর্জ্যই পুনঃচক্রায়নযোগ্য। এসব বর্জ্য থেকে জ্বালানি, বায়োগ্যাস, জৈব সার ও পশুখাদ্য তৈরি করা যায়, যা অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরির পাশাপাশি পরিবেশদূষণ রোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ বিষয়ে এফএও বলছে, সংশ্লিষ্ট বাজার কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা গেলে ব্যবসায়ীরা লাভবান হতে পারেন। তাই সংকট কাটিয়ে উঠতে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বাজারগুলোকে নিজস্ব উদ্যোগে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পরামর্শও দেয়া হয়েছে।

0