এনসিসির ‘গতানুগতিক’ বাজেট, আরও ১ বছর ভুগবে নগরবাসী!

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: এক ঘন্টার বৃষ্টিতে প্রধান সড়কগুলোতেই হয় রবি ঠাকুরের ‘ছোট নদী’। মশার উপদ্রব বাড়লেও থাকে না নিধনের ব্যবস্থা। এর উপর, শহরতলীর বেশির ভাগ রাস্তা গুলোয় সন্ধ্যা নামলেই সৃষ্টি হয় ভুতুরে অবস্থা, নেই যথেষ্ট পরিমানে সড়ক বাতি। এছাড়া উন্নয়নের ভাবনা নিয়ে প্রতিটি কাউন্সিলরের রয়েছে বিশাল তালিকা।

এমন পরিস্থিতিতে গত ১৪ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ৮৭০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

তবে এ বাজেটকে ‘গতানুগতিক’ বলছেন বিশিষ্ট জনরা। আর কিছু কাউন্সিলররা চাইছেন পরিবর্তন। তাদের মতে, ‘আগামী একটি বছরও নগরবাসীকে এ বাজেটের দূর্ভোগ ভোগ করেতে হবে।’

এনসিসির ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি বলেন, এখন মশার উপদ্রবটি একটু কম। যখন বাড়ে তখনও দেখা যায়, মাসে ১ দিন আমাদের এখানে মশা নিধনের কাজ করা হয়। এক স্থান দিয়ে ওষুধ ছিটিয়ে গেলে, কয়েক ঘন্টা পরেই অন্য স্থানের মশা এসে পরিস্থিতি আগের মতো হয়। এবারও মশা নিধনের ব্যাপারে বাজেটে তেমন কোন পরিবর্তন আনা হয় নি। তাই আমরা মেয়র মহোদয়ের সাথে কথা বলে দেখি, বাজেটে পরিবর্তন আনা যায় কি না।

৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা বলেন, আমার ওয়ার্ডের সড়কগুলোতে ২৫০ থেকে ৩০০ টির মতো লাইট আছে, যেখানে চাহিদা আছে প্রায় ১৫০০ লাইটের। নতুন বাজেটে আমার মনে হয় না এ চাহিদা পূরণ হবে।

তবে ১৩ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, সড়কে পানি জমে হকার ও নগরবাসীর রাস্তায় ময়লার কারণে। আর মশাও একই কারণে হয়। নগরবাসী সচেতন হলে কাজগুলোকে সুন্দর ভাবে করা যেত।

বিষয়টি নিয়ে আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মাহবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, বাজেটের আকার বাড়ে, একই সাথে ট্যাক্সের আকারও বাড়ে। কিন্তু জনসাধারণের সেবার মান বৃদ্ধি পায় না। অন্যান্য সিটি করপোরেশনে দেশের যে সামগ্রীক উন্নয়ন হয়, সেই তুলনায় আমরা ২৫ গুণ পিছিয়ে আছি। আমরা শুধু এখন তর্ক-বির্তক নিয়েই আছি। বাজেটে নতুন কিছু নেই। এ বাজেটকে গতানুগতিক বাজেট হিসেবেই দেখছি।

কমিউনিস্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, ১৪ জুলাই এনসিসির সর্ববৃহৎ বাজেট ঘোষণা হয়েছে ৮৭০ কোটি টাকা। তবে এ বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য তো কিছুই নাই; বরং নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য ভাবার অবকাশ নেই- অনেক কিছু আছে। নারায়ণগঞ্জে রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু ড্রেনেজ ব্যবস্থা যতটুকু আধুনিক হওয়ার কথা সেটা হচ্ছে না। বৃষ্টি যদি ১ ঘন্টা হয়, ১৩ ঘন্টা থাকে জলাবদ্ধতা। এছাড়া সন্ধ্যার পরে শহর যেন ভূতুরে নগরী হয়ে যায়। বেশির ভাগ সড়কেই লাইট নেই। পাশাপাশি মশা নিধনতো করেই না, উল্টো মনে হয় চাষ করে। যখন সিটি করপোরেশন ছিলো না, তখনও এই অবস্থা ছিলো না। এখন তার চেয়ে ভয়াবহ অবস্থা।

0