এবার আনোয়ার হোসেনের আক্ষেপ দূর হবে!

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবীন নেতা আনোয়ার হোসেনের একটি অতৃপ্ত ইচ্ছা রয়েই গেছে। আর সেটি হলো সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। বিভিন্ন সভা সমাবেশে তিনি প্রায়ই বলে থাকেন, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হতে চেয়েছিলাম, নেত্রী দিয়েছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

সম্প্রতি তিনি সেই স্মৃতি চারণ করে বলেছেন, জেলা ও মহানগর থেকে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে আমার নাম প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিলো কেন্দ্রে। আমিও আশায় ছিলাম, যেহেতু মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সিটি মেয়র পদটা আমিই পাবো। যখন সিটি মেয়র পদে আমাকে দেয়া হলো না, তখন রাগে ক্ষোভে অসুস্থ্য হয়ে গেলাম। হাসপাতালের বিছানায় শুয়েছিলাম। আমার নেত্রী আমাকে ফোন করে বললেন, আনোয়ার তোমাকে একটা খুশীর খবর দিতে চাই। বললাম, কি আর খুশীর খবর দিবেন নেত্রী। দলের জন্য এতোকিছু করলাম, বিনিময়ে কি পেলাম? তখন নেত্রী বললেন, তোমাকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দিলাম। জনপ্রতিনিধি হয়ে মানুষের সেবা করো। আনোয়ার হোসেনের স্মৃতিচারণে বারবার উঠে এসেছে সেই আক্ষেপের সুর। চেয়েছিলাম মেয়র হতে, নেত্রী দিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদ।

নেতা-কর্মীরা জানায়, আনোয়ার হোসেন ছাত্রলীগ থেকে আওয়ামী লীগে দীর্ঘ পথ নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন। ৭৫’র পর বর্তমান প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর এক সমাবেশে আনোয়ার হোসেন হলুদ পাঞ্জাবী পড়া ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিশাল মিছিল নিয়ে যান। তখন নেত্রী বলেছিলেন, আমার হলুদ পাখি এসে গেছে। ৭৫’এ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর নারায়ণগঞ্জে প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন আনোয়ার হোসেন। এরপর সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন আনোয়ার হোসেন। এরপর দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হন।
দেওভোগসহ নগরীর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দাবি, দলের প্রবীন ত্যাগী এ নেতার শেষ ইচ্ছেটুকু পূরণ হওয়া উচিত। আনোয়ার ভাইয়ের অতৃপ্ত বাসনা শেষ বয়সে মূল্যায়ন করা দরকার।

তাদের দাবি, সোনারগাঁ উপজেলা উপনির্বাচনে প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা এড. সামছুল ইসলাম ভূইঁয়াকে দল যেভাবে শেষ বয়সে সম্মানীত করেছে, এবার হয়ত দল আনোয়ার হোসেনের আক্ষেপ দূর করবে।

0