এবার না.গঞ্জের ২০৯ মন্ডপে দুর্গাপূজা, সবচেয়ে বেশি সদরে

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: এবার নারায়ণগঞ্জ জেলায় ২০৯টি পূজা মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আগামী ১০ অক্টোবর থেকে পূজা শুরু হবে। গতবারের মতো এবারও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ২৬ নির্দেশনা মেনে উৎসবটি পালন করা হবে।  


চাষাঢ়ায় শ্রী শ্রী গোপাল জিউর মন্দিরে (প্রয়াত কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপিনাথ দাসের বাড়ি) শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর কমিটি এমন সিদ্ধান্ত জানান।

এবার জেলায় সবচেয়ে বেশি পূজা মন্ডব হবে নারায়ণগঞ্জ সদর ও ফতুল্লা মিলিয়ে ৬৯টি মন্ডপে। এরপরই রয়েছে ৪১টি রূপগঞ্জে, ৩৪টি সোনারগাঁয়ে, ৩০টি আড়াইহাজারে, ২৭টি বন্দর উপজেলায় ও ৮টি সিদ্ধিরগঞ্জে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি বাবু দীপক কুমার সাহার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন, মহানগর কমিটির সভাপতি অরুন দাস, সাধারণ সম্পাদক উত্তম সাহা, নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক উত্তম সাহা।

পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটির সভাপতি অরুন দাস বলেন, ‘আমাদের দেশে কিছু ভুঁইফোড় সংগঠন হয়েছে, হিন্দু ধর্মের বিশেষ ব্যাক্তিত্ব যারা আমাদের নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের নিয়ে কটাক্ষ করা হচ্ছে। রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিদ্যা সাগরকে নিয়েও কটাক্ষ করেছে। আমরা নারায়ণগঞ্জে বিশেষ এক আন্দোলন গড়েছি। আমাদের দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করা হচ্ছে। আপনারা ইতিমধ্যে জানেন এই দেবোত্তর সম্পত্তির জন্য এড. খোকন সাহার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছেলো। আমি মাননীয় মেয়র মহোদয়কে এখনো বলছি, আপনি নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ণ করেন কিন্তু ওই এলাকার কোনো উন্নয়ন হয় না। আমাদের নারায়ণগঞ্জের কিছুই উন্নয়ন হয়নি। একটি পার্ক বানিয়েছেন মানেই কি সব উন্নয়ন করেছেন। আমাদের হিন্দু সমাজের জন্য কি করেছেন? বরং আপনার পরিবার নিয়ে হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করেছেন। আমরা আশা করি অনতি বিলম্বে আপনারা এ সম্পত্তি ছেড়ে দেন। নয়তো আসন্ন দূর্গোপুজোতে আমরা কালো ব্যাস ধারণ করবো। আমরা আরো বেগবান আন্দোলন গড়ে তুলবো।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন বলেন, আমাদের দেশ একটি ক্লান্তিকারে এগিয়ে চলছে। পত্রিকা খুললেই বাংলাদেশের কোন না কোনো অঞ্চলে দেখা যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা হয়। আমাদের মন্দিরে হামলা চালায়। এগুলো কিন্তু শুভ লক্ষণ না। সামনে আমাদের শারদীয় দুর্গোৎসব। এ সময় একটি মহল হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্ক সৃস্টি করার অপচেষ্টা করছে। দেশের আইনশৃংখলা বাহিনী কয়েকজনকে আটক করলেও কোন পরিত্রাণ আমরা পাচ্ছি না। আজকে জুম্মন দাস কারাগারে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লেখাপড়া না জানা একজন রসরাজ ফেসবুকে ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগে কারাগারে যেতে হয়েছে। যেখানে তদন্তে প্রমাণ হয়েছে তিনি সে কাজ করেনি। আর যারা হামলা করে তারা জামিন পেয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, সরকারকে বলবো এই আতঙ্কময়ী একটি সময়ে আমাদের পাশে থাকুন। পাশাপাশি মুসলমান ভাইদের কাছেও আমার অনুরোধ থাকবে, আমাদের ধর্মীয় উৎসব পালনে আমাদের পাশে থাকবেন। ধর্ম যার যার রাষ্ট্র কিন্তু সবার। আমার অনুরোধ থাকবে সরকারের কাছে আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে যে আতঙ্ক বিরাজ করছে, তার জন্য আপনারা আমাদের সাথে থাকুন আমাদের নিরাপত্তা দেন। আমাদের যাতে আর কোনো মানববন্ধনে নিয়ে না নামতে হয়।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ফতুল্লা থানা কমিটির সভাপতি রঞ্জিত মন্ডল, বন্দর থানা সভাপতি শংকর দাস, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল বিশ্বাস, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সভাপতি শিশির ঘোষ অমর, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ দাস, মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি  লিটন পাল, গোপিনাথ স্মৃতি সংঘ সদস্য সচিব কৃষ্ণ আচার্য, গোপিনাথ স্মৃতি সংঘ আহবায়ক সঞ্চয় কুমার দাস, দেওয়ভোগ লক্ষী নারায়ণ আখড়া সাধারণ সম্পাদিকা এড. মনিকা দেবীসহ নেতৃবৃন্দ।

0