এবার সরকারিভাবেই চলবে না.গঞ্জের ১৩ জোড়া ট্রেন

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচলে লোকসানের কারণে এবার সরকারিভাবেই চলবে প্রাইভেটে চলাচলরত ২৬টি (১৩ জোড়া) ট্রেন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই বেসরকারি (প্রাইভেট) থেকে রেলের (সরকারি) পরিচালনায় এসেছে ২৬ ট্রেন। উক্ত রুটে চলাচলরত ট্রেনগুলো লোকসানের কারণেই পরিচালনার দায়িত্ব ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।

সোমবার থেকে সরকারিভাবে চলাচলের এ আদেশ (প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তার (পূর্ব) স্মারণ নং-৫৪.০১.১৫০০.১০৭.১৮.০০২.১৪) মূলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের ১৩ জোড়া (দুই রেক) লোকাল ট্রেন প্রাইভেট অপারেট থেকে রেলওয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নেয়া হয়। এর আগে ইজারা গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান ট্রেনগুলো পরিচালনায় অপারগতা দেখালে ২৬ আগস্ট থেকে কার্যকরের জন্য সব দফতরে জানিয়ে দেয়া হয়।

তবে, রেলে দীর্ঘবছর ধরেই লোকসানে চলে আসলেও কিছু ট্রেন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করে আসা সেই ট্রেনগুলোও দ্রুত সময়ে লোকসানের পাল্লায় আসা শুরু করবে বলে মন্তব্য করেন একাধিক রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারি। সরকারকে বির্তকিত করতে রেলের কয়েকজন কর্মকর্তা মন্ত্রীসহ উর্ধতন দায়িত্বশীলদের বিভ্রান্তিকর পরিবেশ তৈরি করে আসছে। যা ট্রেন চলাচলে রেল মন্ত্রী সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমাও চাইতে হয়েছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (সিসিএম) মুরাদ হোসেন বলেন, রেলওয়ের সাথে এস আর ট্রেডিংয়ের চুক্তির আরও বেশ কিছুদিন সময় ছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ট্রেনগুলোর ইজারা পরিচালনায় অপারগতা দেখালে রেলওয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিয়েছে। সোমবার থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটের ২৬টি (১৩ জোড়া) ট্রেন অন্যান্য ট্রেনের মতোই সরকারিভাবে চলাচল করবে।

এস আর ট্রেডিং এর স্বত্তাধীকারী মো. সালাউদ্দিন রিপন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ১৩ জোড়া ট্রেন পরিচালনা করে এসেছি। স্বল্প দূরত্বের হলেও ঢাকার যানজট-সহ নানান কারণে এসব ট্রেন হলেও গুরুত্বপূর্ণ চাহিদামত পর্যাপ্ত কোচ সরবরাহ দিতে না পারা, ইঞ্জিন বিকল-সহ একই রুটে রেলের নিজস্ব ৩টি কমিউটার ট্রেনের কারণে ব্যবসায়িক ভাবে ট্রেনগুলো পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য রেলের সাথে চুক্তির শর্তানুসারে, ২৬ আগস্ট থেকে ট্রেনগুলো রেলের কাছে হস্তান্তর করেছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ২২ জুন থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটে প্রথমবারের মতো বেসরকারি মালিকানায় ট্রেনগুলো ইজারা দেয়া হয়। দুই বছরের চুক্তিতে ট্রেনগুলো চুক্তিভিত্তিক বাণিজ্যিক পরিচালনার জন্য দেয়া হলে রেলের আয়ও বেড়ে যায়। রেলের লোকবল সংকট-সহ নানান কারণে দীর্ঘদিন ধরে ধুঁকতে থাকা ট্রেনগুলো থেকে নিয়মিত অর্থ প্রাপ্তির কারণে এস আর ট্রেডিং নামের প্রতিষ্ঠানকে দুই দফায় চুক্তিমূল্য বাড়িয়ে ইজারা নবায়ন করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই রুটে তিনটি ডেমু ট্রেন সংযোজন ছাড়াও নিয়মিত লোকোমোটিভ সংকট ও বিকল হওয়ার ঘটনায় ক্রমাগত লোকসানের কারণে রেলের বাণিজ্যিক পরিচালনার ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, উক্ত রুটে ইজারা চুক্তির আওতায় থাকা ট্রেনগুলোর নম্বর হচ্ছে ২১১-২২২ (৬ জোড়া) এবং ২২৫-২৩৮ (৭ জোড়া)। রেলের নিজস্ব লোকো মাস্টার, গার্ড ছাড়াও অন্যান্য লোকবল দিয়ে পরিবহন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্রেন পরিচালনা করতো। অপর দিকে ইজারা গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী ট্রেনের টিকিট সরবরাহ ছাড়াও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্রেন সার্ভিস চলাচল তদারকি করতো। ঢাকা থেকে স্বল্প দূরত্বের পথ হলেও রাজধানীতে অফিসগামী মানুষের কাছে এসব ট্রেন সর্বাধিক জনপ্রিয় ছিল। তবে রেলের দ্বিতীয় শ্রেণীর কোচ সংকট ছাড়াও পুরনো ইঞ্জিনের কারণে প্রতিমাসেই কোন না কোন ট্রেন বিকল হয়ে নির্ধারিত যাত্রা বিলম্বিত হতো। এতে করে স্বল্প দূরত্বের পথ হওয়ায় যাত্রীরা বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছতে চেষ্টা করতো। এতেই ইজারা গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান গত কয়েক মাস ধরে লোকসানে রয়েছে বলে দাবি করে আসছিল।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরত্ব নারায়ণগঞ্জের। এ দূরত্বে ২৬টি ট্রেনের জন্য এস আর ট্রেনিং দৈনিক ২ লাখ ৫ হাজার ৭৮৮ টাকা পরিশোধ করতো। সরকারি ভ্যাট-ট্যাক্স-সহ এ অর্থ প্রতি ৫ কর্ম দিবসের মধ্যে রেলের কোষাগারে জমা দেয়া হতো। ট্রেনগুলোতে যাত্রী চাহিদা বেশি থাকলেও মাত্র ৮টি কোচ দিয়ে সার্ভিস পরিচালনা করতো রেলওয়ে। ইজারা গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র রেলের টিকিটিং-সহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রম দেখভাল করতো। রেলের নির্ধারিত ভাড়া-ই আদায় করতো প্রতিষ্ঠানটি। রেলের নিজস্ব জনবল কাঠামোর সংকট ছাড়াও সরকারি খাতে অনিয়ম রুখতে ২০১১ সালে এসব ট্রেন বেসরকারি খাতে পরিচালনার জন্য ইজারা দেয়া হয়েছিল।

0