‘ওসি-ডিসি পকেটে, নিয়ন্ত্রণে হাজী সা‌হে‌বে’, কে এই মনির?

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: প্রতিবছরই গ্রামের মাদ্রাসা ও এতিমখানার মাহফিলে চাল-ডালের বস্তা দিতেন ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম। তাঁর মৃত্যুর কয়েক বছর পর ওই ব্যবসায়ীর ছেলে মনির সেই মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকেন। দাবী করে বসেন ৫০ লাখ টাকা। এরপর মনিরের সাথে দেখা করলে মারধর ও লাঞ্ছিত করেছেন অধ্যক্ষকে। হুমকি দিয়েছেন জঙ্গি বানিয়ে গ্রেপ্তার করানোরও।

এমন অভি‌যোগ যার বিরু‌দ্ধে সেই তি‌নিই আবার জামতলার বাসিন্দা শফিউদ্দিনের দুই ছেলে মেহেদী হাসান ও সুজন আহম্মেদ মহসিনের সাথেও একই ঘটনা ঘ‌টি‌য়ে‌ছেন, অভিযোগ ভুক্ত‌ভো‌গি‌দের।

ভুক্তভো‌গি‌দের সূ‌ত্রে জানা যায়, ড্রাইভারের মাধ্যমে বাড়িতে ডেকে নিয়ে মনিরুল ইসলাম ওই দুই ভাই‌য়ের কাছে দাবী করে বসেন ৫৮ লাখ টাকা। নির্যাতন করতে থাকেন অনবরত। পরে ছেলেকে বাঁচাতে নগদ ২৫ লাখ টাকা ও ৬ লাখ টাকার চেক দিয়ে মুক্ত করিয়ে আনেন ভূক্তভোগী দু’জনের বাবা।

তবে, শুধুই শফিউদ্দিনের দু’ ছেলে কিংবা অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সাথেই নয়, গত ডিসেম্বর মাসে আজাদ রিফাত ফাইবার্স লি: মালিক আবুল কাশেম এবং তাঁর পরিবারকেও হুমকি দিয়ে আসছেন। এছাড়া মনিরের আপন চাচাতো ভাইয়ের কাছেও দাবি করেছেন ৬ লাখ টাকা।

এ সব ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একে একে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ ৪টি অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা । এমনকি জন্মস্থান মাদারীপুরেও তাঁর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ভোক্তভোগী। কিন্তু বেপরোয়া মনির কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছে না। মামলা নেওয়ায় উল্টো ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম হোসেনের বিরুদ্ধেই পুলিশের বিভাগীয় কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন।

এ অবস্থায় ভুক্তভোগীরা তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে বেশ শঙ্কায় রয়েছেন।

মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মতিউর রহমান লাইভ নারায়ণগঞ্জকে জানান, ‘মনির আমার সাথে খুবই খারাপ আচরণ করছেন। আমাকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ওসি-ডিসি আমাদের পকেটে থাকে। আর এমপি শামীম ওসমান ও হাজ্বী সাহেবের লোকজন আমার নিয়ন্ত্রণে। তোর বংশ সুদ্দো খেয়ে ফেলবো।’

কে এই মনির?

মাদারীপুর শিবচরের বাহাদুরপুর এলাকার শফিকুল ইসলাম ও হোসনে আরা দম্পতির সন্তান মনিরুল ইসলাম। জন্ম মাদারীপুরে হলেও বাবার ব্যবসার সুবাদে স্বপরিবারে ছোট বেলা থেকেই বসবাস করে আসছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লার জামতলা এলাকায়। আর্থিক অবস্থা ভালো থাকায় ছোট বেলা থেকেই বেশ অহংকারী ও উগ্র ছিলেন তিনি। স্বজনদের কাছ থেকেও ‘বস’ ডাক শুনতেই পছন্দ করতেন। না ডাকলে মারধরও করতেন। বেশ লোকজন নিয়েই চলা ফেরা করতেন মনির। পিতার মৃত্যুর কয়েক বছর পূর্বে নিজেদের ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান ইসলাম গ্রুপ পরিচালনার দায়িত্ব পান তিনি।

আর তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক বছরের মধ্যে ধ্বস নামে তাদের ব্যবসায়। শিল্প কারখানা বন্ধ করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পাড়ি জমান সুদূর মালয়েশিয়ায়। সেখানে কয়েক বছর থাকার পর দু’বছর পূর্বে পুনারায় ফিরে আসেন নারায়ণগঞ্জ জেলায়।

প্রতিবেশীরা জানান, বিদেশ থেকে ফিরে উগ্রতা বেড়ে যায় মনিরের। চলা ফেরা বাড়তে থাকে ক্যাডার প্রকৃতির লোকজনের সাথে। কথা কথায় বলেন প্রয়াত এক এমপির পুত্রের নামও ভা‌ঙ্গা‌নোর অ‌ভি‌যোগ র‌য়ে‌ছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানও নাকি তার কাছে কোন বিষয় না।

একাধিক অভিযোগ ও মামলার পরেও অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, তবে কি সত্যিই ধুরন্ধর মনিরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন হাজী সাহেব, এমপি শামীম ওসমান, ডিসি ও ওসি!

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম হোসেন লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামের থানায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে সে পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত হয়েছে।’

0