ওয়াসার পর এবার রাজউকের দায়িত্ব নিতে চায় এনসিসি

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: শুক্রবার (১ নভেম্বর) খানপুর ব্রাঞ্চ রোডে একটি ভবন হেলে পড়ায় এখনও চাঁরপাশের বসবাসকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইতোমধ্যেই ভবনটিসহ পাশের ভবনের বসবাসকারিরাও অন্যত্র চলে গেছেন। এখন ভবনটি বসবাসের উপযোগী কি না? সেটাও পরীক্ষার আগে বলতে পারছে না কেউ।
একই অবস্থা নগরীর রিভারভিউ মার্কেটের। নিয়ম ও নকশার বাহিরে গিয়ে মালিক কর্তৃপক্ষ স্থাপনা নির্মান করেই চলেছেন। দোকান মালিকরা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কাছে অভিযোগের পর অভিযোগ দিলেও যেন দেখার কেউ নেই।
শুধু খানপুর ব্রাঞ্চ রোডের হেলে পড়া ভবন কিংবা রিভারভিউ মার্কেটেই এ অবস্থা নয়, নগরীর বেশির ভাগ ভবনের একই অবস্থা। আর এ কারণে অনেকেই দায়ি করছেন, সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, রাজউকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও লোকবলের অভাবকে। তাই ওয়াসার দায়িত্ব নেওয়ার পর আলাদা করে নারায়ণগঞ্জে রাজউকও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অধিনে আনা জরুরী বলে মনে করছেন তারা। তাতে এনসিসি নিজস্ব ভবনে ও জনবল বৃদ্ধিতে নিজেদের মতো করে প্রশাসনিক দক্ষতায় সেবা বাড়াতে পারবে বরে মনে করছেন অনেকেই।
ঢাকার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার, কেরানীগঞ্জ এলাকার ১৫২৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তন নিয়ে গঠন করা হয় রাজউক। প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও জনবলের অভাবে রাজউককে পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া এক প্রতিষ্ঠান অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয়হীনতাও রয়েছে। তাই গত সপ্তাহে রাজউক থেকে বিচ্ছিন্ন করে গাজিরপুর রাজউক জোন এর দায়িত্ব গাজিপুর সিটি করপোরেশনের অধিনে দেয়া হয়েছে। এখন নারায়ণগঞ্জক রাজউক জোনওি এনসিসির অধিনে নেয়া সময়ের দাবি মাত্র।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ নাগরীক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, রাজউক পরিচালনা করা হয় এক ধরণের আইনে। আর সিটি করপোরেশন পরিচালিত হয় অন্য ধরনের আইনে। এতে সিটি করপোরেশনের সাথে রাজউকের স্বমনয়হীনতা তৈরি হয়। তাই সরকারের উচিৎ যে সকল স্থানে সিটি করপোরেশন রয়েছে, সেখানে রাজউককের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তাস্তর করা। আর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র খুবই কর্মদক্ষ একজন মানুষ। তার কাছে রাজউকের দায়িত্ব আসলে আগামীতে সকল ভবনই বিল্ডিং কোর্ড অনুযায়ী নির্মাণ হবে।
নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, রাজউক নারায়ণগঞ্জ থেকে শুধু নিয়েই যাচ্ছে। বিনিময় কিছুই দিচ্ছে না। বিগত সময় নারায়ণগঞ্জে ১ ইঞ্চি রাস্তা করেছে; এমন নজিরও নেই। তাই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনকে রাজউকের কার্যক্রম হস্তাস্তর করার জোড় দাবি জানাচ্ছি।
নারায়ণগঞ্জের সস্তান প্রকৌশলী ও সিম্পল থার্টি নাইন এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহের উদ্দিন দেওয়ান বলেন, রাজউকের নিয়মনীতিতেই জটিলতা রয়েছে। আর এটাই ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে; মানুষ এ নিয়মনীতি না মানলে দিতে হচ্ছে পারসেন্টিজ। তবে রাজউকের কর্মকান্ড পারিচালনার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন দায়িত্ব নিলে খুবই ভালো হবে। এক্ষেত্রে দৃষ্টি রাখতে হবে সক্ষমতার দিকে। সিটি করপোরেশন নিলেও ওই রকম দক্ষ লোকজন নিয়ে তারপর দায়িত্ব নেওয়া উচিৎ।
সেই সাথে প্রকৌশলী সাহের উদ্দিন প্রতিটি অফিসই ঢাকা কেন্দ্রীক না করে আঞ্চলিক ভাবে করার আহব্বান জানান।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মঈনুল ইসলাম জানান, এতদিন আমরা সড়ক নির্মাণ করলে ওয়াসা এসে সেখানে উন্নয়নের জন খনন করতো, ওয়াসা সিটি করপোরেশনের আওতায় আসায় এখন থেকে রাস্তা নির্মাণের আগেই ওয়াসার পাইপ লাইনের বিষয়টি আমরা দেখতে পারবো। একই ভাবে রাজউকও যদি সিটি করপোরেশনের অধিনে আসে। তাহলে আমরা উন্নয়নের আগে একটি সম্বনিত উদ্দ্যোগ নিতে পারবো। তাই পরিকল্পিত উন্নয়নের সার্থে আমরাও ওয়াসার দায়িত্ব ইতোমধ্যেই পেয়ে গেছি। এখন রাজউকের দায়িত্বও নিতে চাইছি। পূর্ত মন্ত্রণালয়কে আমরা চিঠি দিয়ে জানিয়েছি কিন্তু কোন সাড়া পাইনি।

0