ঔষধ জীবনের জন্য জীবিকার জন্য নয়: ড্রাগ সুপার ইকবাল হোসেন

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ জেলা বি সি ডি এস’র সভাপতি মো: শাজাহান খান বলেছেন, কমিশন বানিজ্যের কারনে ডাক্টাররা ভেজাল ও নগদ ঔষধ লিখে রোগীদের প্রতারিত করছে। ডাক্তাররা অর্থের লোভে পড়ে রোগীদের ফুডসাল্টিমেটাম লিখে দিচ্ছে। আর রোগীদের বলে দিচ্ছেন ঔষধ কিনে আমাকে দেখাইয়া নিয়েন। অনেক সময় রোগীরা ডাক্টারের লেখা প্রেসকেপশনের ঔষধ দোকানে না পেলে ব্যাগ নিয়ে বসে থাকা লোকদের দেখিয়ে দিয়ে সেখান থেকে কিনে নিতে। আর ডাক্টাররা এমন নকল ঔষধ লিখে শুধু মাত্র কমিশনের জন্য। এমনো ঔষধ আছে ৪ টি লিখলে দুই হাজার টাকা কমিশন পাচ্ছে ডাক্টাররা। ডাক্টাররা অর্থের লোভের কারনে রোগীরা প্রতারিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ফতুল্লার পঞ্চবটিস্থ এ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ডের চাই পাই চাইনিজ রেস্টুরেন্টে বি.সি.ডি.এস সমিতি মুসলিমনগর আঞ্চলিক শাখার উদ্দ্যেগে নকল, ভেজাল, মেয়াদউত্তীর্ণ ঔষধ এবং এন্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধে জনসচেতনতা মূলক মতবিনিময় সভায় প্রধান প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, অনেক সময় দেখছি একটি এলাকার একটি ঔষধের দোকানে এক দামে বিক্রি করছে পাশের আরেকটি দোকানে ৫/১০ টাকা কমে বিক্রি করছে। এতে ক্রেতাদের সাথে ঔষধ ব্যবসায়ীর মধ্যে মনকষাকষি হয়। এমনটা হয় এমআরপি মূল্যের কারনে। গুলোর বিষয় নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবসহ ঔষধ কোম্পানীর মালিকদের নিয়ে কেন্দ্রীয় ভাবে আলোচনা করা হয়েছে খুব শিগ্রই তার সমাধান হবে। এছাড়া ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়া কেউ ঔষধের ব্যবসা করতে পারবে না। আর ঔষধ বিক্রি করে বিভিন্ন ট্রেনিং দিয়ে নিজেদের ডাক্টার লিখে প্রেসক্রিপশন লিখতে কিছুতেই পারবে না।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি নারায়ণগঞ্জ জেলা ড্রাগ সুপার (ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর) মো: ইকবাল হোসেন বলেন, যারা বৈধ ভাবে ঔষধ বিক্রি করছে তারা ডাক্টার না হয়ে তাদেরকে মানুষ ডাক্টার বলছে। এ পেশাটা কতটুকু সম্মানজনক পেশা। এ পেশাটাকে অসম্মান করা যাবে না। আমরা চাই মানুষকে সেবা দিয়ে নিজের সম্মান ধরে রাখতে হবে। বেশি মুনাফার জন্য রোগীদের সাথে প্রতারনা করা যাবে না।

তিনি আরো বলেন, নকল ও ভেজাল ঔষধ বিক্রি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে মেয়াদউত্তীর্ণ ঔষধ কিছুতেই বিক্রি করবে না। প্রয়োজনে দোকানে মেয়াদউত্তীর্ণ ঔষধ রাখার আলাদা স্থানের ব্যবস্থা করে রাখবেন। যাতে করে রোগীরা বুজবে এখানে সব কিছু ভাল ব্যবস্থা রয়েছে। আর আগে ঔষধ ছিলো জীবনের জন্য এখন দেখছি ঔষধ হলো জীবিকার জন্য। ঔষধ কখনো জীবিকার জন্য হতে পারে না। ঔষধ হলো ক্যামিকেল। ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে ঔষধ দেয়া হয়। তাই আমাদের যারা ফার্মেসীর ব্যবসা করি তাদেরকে সচেতন হতে হবে এবং কোনটা বৈধ কোনটা অবৈধ তা বুজতে হবে।

মতবিনিময় সভায় বি.সি.ডি.এস সমিতি মুসলিমনগর আঞ্চলিক শাখার সভাপতি হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সংগঠনের সাধারন সম্পাদক ইদ্রিস আলী মিন্টুর পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বি.সি.ডি.এস সমিতির ফতুল্লা থানার সভাপতি ও জেলার সহসভাপতি নাসির উদ্দিন, জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক নেফাউল ইসলাম জুয়েল, ফতুল্লা থানা শাখার সাধারন সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সেতু প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন বি.সি.ডি.এস সমিতি মুসলিমনগর আঞ্চলিক শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মনির হোসেন, সহসভাপতি মো: বাবুল, মো: আলী রেজা মিয়াজী, জহিরুল ইসলাম মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা, সদস্য রিয়াজুল ইসলাম।

0