কণ্যা শিশুর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে, পরিবর্তন আসেনি সমাজ ব্যবস্থায়

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ছেলের আশায় আশায় ৩ কণ্যা সন্তানের জনক নারায়ণগঞ্জের রিক্সা চালক আলাউদ্দিন। এখনও ভাবেন, ছেলে সন্তানই বংশের বাতি। জীবনের শেষ বয়সে ছেলে সন্তানরাই বাবা-মাকে দেখে রাখেন। মেয়েদের বিয়ে দিলে চলে যায়, পরের ঘরে। কয়দিন শ্বাশুর বাড়ি থেকে এসে এসে দেখবে বৃদ্ধ বাবা-মাকে।
তবে, শেষ বয়সে ভাবনা পাল্টেছে মুচি মরন সংকর দাসের। তিনি বলছেন, তিন সন্তানের জনক হয়েও বুড়ো বয়সে চন্দিপাত সেলাইয়ের কাজ করে চলতে হচ্ছে। আর ছেলেরা বিয়ে করে যার যার পরিবার নিয়ে থাকছে আলাদা। বুড়ো বাবা-মায়ের থাকা খাওয়াতো দূর থাক, একবার ফিরেও তাকায় না। তাই একটা সময় ছেলেকে বংশের প্রদীপ মানলেও বর্তমান যুগে ছেলে না থাকাকেই ভালো বলে মনে করেন তিনি।
কণ্যাশিশুর ব্যাপারে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গী পাল্টানোর জন্য সরকারী-বেসরকারি উদ্যোগে প্রচারণা চলছে গত কয়েক দশক ধরেই। পরিবর্তনও এসেছে, নারীরা প্রমাণ করে দিয়েছে ঘরে কিংবা বাহিরে ছেলেদের তুলনায় তারাও কোন অংশে কম নয়। তবুও পাল্টাচ্ছে না নারী ও কণ্যাশিশুদের প্রতি নির্যাতনের পরিসংখ্যান।
অনুসন্ধ্যান বলছে, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে কণ্যাশিশু জম্ম গ্রহন করেছে ২৮ হাজার ৫৬৬ জন। এ ছাড়া সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে নির্যাতন, ধর্ষণ ও গণধর্ষণ মামলা চলামন রয়েছে ২০৬৬টি। এর মধ্যে ধর্ষণ ও গণধর্ষণ মামলা সংখ্যা ৪৯৮টি ও শিশু ধর্ষনের মামলা রয়েছে ১০০টি।
কোর্ট পুলিশ পরিদশক মো. আব্দুল হাই বলেন, নির্যাতন ঠেকাতে হলে কণ্যাশিশুদের সামাজিক নিরাপত্তার জন্য যৌন সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। আইনের শাসন যথাযথ ভাবে প্রয়োগ ও শিশুদের সামাজিক নিরাপত্তায় বর্তমান প্রচলিত শিশু আইনের যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা আবসক।
এদিকে নির্যাতন ও কণ্যাশিশুর অধিকার নিয়ে অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল বলেন, সামাজিক অবক্ষয় ও মাদকের কারণে ধর্ষণসহ নানা অপকর্ম এখনও হচ্ছে। নারীদের সামাকি নিরাপত্তার স্বার্থে সামাজিক অবক্ষয় ও মাদকের অবক্ষয় প্রতিরোধ করতে হবে। তার জন্য সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বাবা-মা, সমাজ, প্রশাসন ও সকল ক্ষেত্রে মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, পারিবারি শিক্ষাবোধ ও ধর্মীও অনুসাশন কমে যাওয়ার ফলে দিন দিন ধর্ষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সচেতনতাবোধ বৃদ্ধি হলে ও মানুষ ধর্মীও অনুসাশন মতো চলা-ফেরা করলে ধর্ষণ নামক কলঙ্ক এদেশে আর থাকবে না। এছাড়া জায়গা ও সমান অধিকারের বিষয়ের ক্ষেত্রে আমাদের ইসলাম ধর্মে নারীদের গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমান যুগে কণ্যাশিশু ও ছেলে শিশুর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। একজন পুরুষ শিক্ষা-ধিক্ষা দিয়ে যতটুকু এগিয়ে গিয়েছে, একজন মেয়েও ততটুকু এগিয়ে গিয়েছে। ছেলেরাই বংশের বাতি এবিষয়টা এখন আর নেই। যেটুকু আছে ভবিষৎ‘তে আরও সচেতনতার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পাল্টে যাবে।
অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রেজা বলেন, ৫ বছরের শিশু থেকে ৬০ বছরের বৃদ্ধি মহিলা পর্যন্ত ধর্ষণ হচ্ছে। বর্তমান সমাজে মেয়েরা কোন ভাবেই নিরাপদ না। মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটা পরিবার, সমাজ, প্রশাসন, রাজনৈতিক মহল ও রাষ্ট্রপ্রধান থেকে কঠোর উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে।
সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষক আব্দুর রহমান বলেন, আমার চোখে ছেলে ও মেয়ে দুইজনেই সমান। ছেলেরাই বংশের প্রদীপ কিংবা বাতি আমাদের বর্তমান শিক্ষিত সমাজ এই কুসংস্কার প্রথা বা নিয়ম-নীতি মানে না। সমাজ ও মানুষ অনেক এগিয়ে এসেছে। পালাক্রমে আরও এগিয়ে যাবে।

0