কত লাভ আলীগঞ্জে, লাখের হাট কোটিতে!

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ:
সদর উপজেলার একটি অস্থায়ী হাটের ইজারা নিয়ে আলোচনা যেন থামছেই না। হাটের সিডিউল বিক্রি থেকে শুরু। ওই দিনের হাতাহাতি, এর পরের দিন জমা দেয়ার সময় ব্যপক মহিলা কর্মী উপস্থিতি এবং সর্বশেষে সবোর্চ্চ দরপত্র মূল্যের জন্য এক ‘নারী’ স্থানীয় থেকে শুরু করে জাতীয় মিডিয়ায় ব্যপক আলোচনা সৃষ্টি করেছেন।

ওই নারী সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান। সদর উপজেলার অস্থায়ী ১৭টি হাটের একটি আলীগঞ্জের পিডব্লিউডি’র খালি জায়গার অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট। যা সরকারী বিজ্ঞাপনে দরপত্রটির মূল্য ছিল ৩৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ হাটের শিডিউল বিক্রয় হয়েছিল ১৫টি। বিপরীতে দরপত্র জমা পড়ে ৫টি।

সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির। তিনি সরকারী দরের তিন গুণেরও বেশি মূল্যে (১ কোটি ১৫ লাখ ৫শ’ টাকা) ইজারা নেয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। প্রশ্ন উঠে একটি হাটে কত লাভ। আলীগঞ্জের ওই হাট সত্যি কী এতো টাকার?

হাটের ইজারা ব্যবসার সাথে জড়িত কয়েকজন জানান, একটি হাটের জন্য সরকারী দরপত্রের মূল্য, তার সাথে ভ্যাট পরিশোধ করতে হয়। রয়েছে হাটে বাশ খুটি আর প্যান্ডেল খরচ। সেই সাথে হাট পরিচালনায় রাখতে হয় অনেক সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক। আরও আছে প্রচার প্রচারণা, মাইকিং, বিদুৎ, স্থানী গণ্যমান্যদের অদৃশ্য খরচ, নিরাপত্তাকর্মী, প্রশাসন খরচ। এত্তা খরচের পর পর্যাপ্ত গরু হাটে উঠানোর চ্যালেঞ্জ। তার পর গরু বিক্রির উপর নির্ভর কতটুকু লাভ হবে। সেই হিসেবে আলীগঞ্জের ওই হাটের ইজারা মূল্য সত্যি রহস্যজনক।

সদর উপজেলা সূত্রে জানা গেছে, এবার ১৭ টি অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের জন্য বৃহস্পতিবার একটি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এই ১৭টি হাটের বিপরীতে ১শ’ ৪১টি শিডিউল বিক্রয় হয়। যার মধ্যে সোমবার (৫ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জমা পড়ে ৪৭ টি। জমাকৃত দরপত্র থেকে সর্বোচ্চ দরদাতা ১৬ জনকে ১৬টি হাটের জন্য বৈধ ইজারাদার হিসেবে ঘোষণা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক।

এছাড়া একটি হাটের জন্য তিনটি দরপত্র জমা পড়লেও সেটি সরকারি নির্ধারিত দরের থেকেও কম মূল্য আসায় তা স্থগিত রাখা হয়।

সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে যারা যারা হাট পেলেন:

কাশিপুর ক্লাব মাঠের হাটের জন্য সরকার দর নির্ধারণ করেছিলেন ৩১ হাজার টাকা। এই হাটের সর্বোচ্চ দরদাতা ৩৩ হাজার টাকায় আইয়ূব আলী ইজারা পান।

গোগনগর সৈয়দপুর পাঠাননগরের হাটের জন্য সরকার নির্ধারণ করে ৫৬ হাজার টাকা, সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৫৭ হাজার টাকায় এই হাটের ইজারা পেয়েছেন মো. শাকিল সরদার।

গোগনগর বাড়িটেক হাটের জন্য সরকার নির্ধারণ করে ৫৬ হাজার টাকা, সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৭০ হাজার টাকায় এর ইজারা পান দেলোয়ার হোসেন।

গোগনগর পলি ফ্যাক্টরী হাটের জন্য ৪০ হাজার টাকা সরকারি দর থাকলেও তা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৪২ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছেন আল মামুন।

এছাড়া গোগনগর চরসৈয়দপুর কাঠপট্টি খেয়াঘাটের হাটের জন্য সরকার ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা দর আহ্বান করলেও ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকায় এই হাটের সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা পেয়েছেন মো. আসলাম সরকার।

গোগনগর পুরান সৈয়দপুর হাটের জন্য সরকারি নির্ধারিত দর ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ছিলো, সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১ লাখ ১১ হাজার টাকায় এর ইজারা পেয়েছেন নাজির আহম্মেদ।

গোগনগর বাদশা মিয়ার নিজস্ব ভূমিতে অস্থায়ী হাটের জন্য সরকারি দর ৩৮ হাজার টাকা, এর সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৩৮ হাজার ৫শ টাকায় এস এম মোসলেহ উদ্দিন ইজারা পেয়েছেন।

আলীরটেক আমান মার্কেটে ২৬ হাজার টাকা সরকারি দরপত্র আহ্বান করলেও সর্বোচ্চ দর ২৬ হাজার ৫শ টাকায় এর ইজারা পেয়েছেন জামাল উদ্দিন।

বক্তাবলী ৪ নং রাজাপুর সরকারি দর ৫২ হাজার টাকার বিপরীতে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৫২ হাজার ৫শ টাকায় সাব্বির আহমেদ ইজারা পেয়েছেন।

বক্তবলী চর বয়রাগাদির ২২ হাজার টাকা সরকারি দরের বিপরীতে ২৩ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে সিদ্দিকুর রহমান ইজারা পেয়েছেন। বক্তবলী সমিরনগর আদর্শ বাজারে ২৪ হাজার হাজার টাকা সরকারি দরের বিপরীতে ২৪ হাজার টাকাতেই আবুল কাশেম দেওয়ান পেয়েছেন।

এছাড়া রামনগর সরকারি ইজারা ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দরপত্র আহ্বান করা হয়। তবে এই হাটটিতে বিবেচনাধীন টাকা আসেনি তাই স্থগিত রাখা হয়।

অন্যদিকে ফতুল্লার তল্লা আজমেরীবাগ জানে আলমের নিজস্ব ভূমিতে হাটের জন্য সরকারি দর আহ্বান করা হয় ৭০ হাজার টাকা এর বিপরীতে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৭১ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছেন জানে আলম বিপ্লব।

ভুইগড় রূপায়ন টাউন সংলগ্ন হাটের জন্য সরকার ৫৯ হাজার টাকা দরপত্র আহ্বান করলে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৬০ হাজার ৫শ টাকায় মানিক চান ইজারা পেয়েছেন।

কুতুবপুর তালতলা প্যারাডাইস সংলগ্ন হাটের জন্য সরকারি নির্ধারিত ৮৫ হাজার টাকা দরপত্র আহ্বান করলে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৯০ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছেন টেনু গাজী।

কুতুবপুর শান্তিধারার হাটের জন্য সরকার ৫০ হাজার টাকা দরপত্র আহ্বান করলে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৬১ হাজার টাকায় এর ইজারা পায় রাজ্জাক বেপারী।

0