কদমরসূলে ঈদের দুটি জামাত, রয়েছে জীবন ঝুঁকি!

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রবি অথবা সোমবার মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদুল ফিতরের অন্যতম ইবাদত ঈদের নামাজ আদায় করা। সেই লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জে বন্দরের কদম রসূল দরগাহ শরীফের মোতওয়াল্লি কমিটির উদ্যোগে ঈদের দুটি জামাত হবে বলে জানা যায়। কদম রসূল দরগাহ শরীফ মসজিদের ২তলায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু, জানা গেছে মসজিদের ছাদে নামাজের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে করে হতে পারে ভয়াবহ দূর্ঘটনা। কেননা, উচ্চতার দিক থেকে দরগাহটি ৩তলার সমান এবং তারপর মসজিদ ২তলা মোট ৫তলা। এমতাবস্থায় বর্তমানে আবহাওয়া এবং এত লোকসমাগম হলে দরগাহে ধারণ-ক্ষমতা হারিয়ে যেকোন সময় দূর্ঘটনার সম্মুখীন হতে পারেন কদমরসূলে আগত মুসল্লীরা।

এদিকে, মসজিদে ঈদ জামাত আয়োজনের ক্ষেত্রে সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ধর্ম মন্ত্রণালয় দেয়া নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মোতয়াল্লি কমিটির সভাপতি খাদের মো. জামাল আব্দুল নাছের মিয়া (শাহীন) জানিয়েছেন।

মোতয়াল্লি কমিটির সাধারন সম্পাদক মুহাম্মদ ইউসুফ মিয়া জানান, এবার ঐতিহাসিক কদম রসুল দরগাহ শরীফ সমজিদে ২টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ঈদ জামাত সকাল ৭.৪৫ টায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন কদমরসুল দরগাহ্ মসজিদের ইমাম ও খতিব আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা মোঃ শরীফউল্লাহ শাহীন। দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮.৩০ টায় অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন নবীগঞ্জ ইসলামী আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মোঃ ছফিউল্লাহ।

মোতয়াল্লি কমিটির কোষাধ্যক্ষ গোলাম রসুল রনি জানান, এ বছর দরগাহে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। একটি পৌনে ৮টায় এবং অন্যটি সাড়ে ৮ঘটিকায়। দুটি জামাতের একটি দরগাহ মসজিদের ইমাম এবং অন্যটি নবীগঞ্জ ইসলামী আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক পড়াবেন। স্বাস্থ্যবিধির যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে এবং আমাদের ভোলান্টিয়াররা থাকবেন। আমরা ইতিমধ্যে পোস্টারেরও ব্যবস্থা করেছি। তবে, মসজিদে ২তলায় প্রায় ১২শ মানুষের জামাত সম্ভব। কিন্তু, মসজিদের ছাদে জামাতে নামাজ পড়ার জন্য কমিটির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মিলন ব্যবস্থা করছেন। যা মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে। আমাদের মসজিদে বর্তমানে দুটি জামাতে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে , প্রয়োজনে ৫টি জামাতের ব্যবস্থাও সম্ভব। বর্তমান আবহাওয়া এবং ধারণ-ক্ষমতা বিবেচনায় মসজিদের ছাদে জামাত বন্ধে আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মারাত্মক ঝুঁকি কদম রসূলের ঈদ জামাতে সৃষ্টি করতে পারে প্রসঙ্গে বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্লা সরকার জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি আজ সকালে অবগত হয়েছি। শুক্রবার আমি গিয়ে সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারবো ।

এব্যাপারে বন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, কদম রসূলের ঈদ জামাতে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তা আমার জানা নেই। তবে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক বাহিরে কোন নামাজের ব্যবস্থা তারা করতে পারবে না। মসজিদ প্রাঙ্গনেই জামাত সম্পন্ন করতে হবে, প্রয়োজনে একাধিক জামাত হবে। শুক্রবার কদম রসূল দরগাহে আমি লোক পাঠাবো, সেখানকার পরিস্থিতি জানার জন্য।

 

 

এলএন/এইচএস/০৫২১-১৩

0