কমেছে নমুনা সংগ্রহ, আক্রান্তের সঠিক সংখ্যা নিয়ে থাকছে প্রশ্ন

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের পর সাধারণ মানুষসহ সকলেরই দাবি ছিল নমুনা পরীক্ষা বাড়ানোর। এরপর থেকে ক্রমশই সরকারি এবং বেসরকারিভাবে বেড়ে চলছিলো নমুনা সংগ্রহ। ফলে আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েই চলছিলো। হঠাৎই একাধিক করোনার টেস্ট রোধের লক্ষে ২৯ জুন নমুনা সংগ্রহের উপর ফি নির্ধারণ করে স্বাস্থ্য বিভাগ। এরপর থেকে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। এর পিছনের কারণ হিসেবে সাধারণ মানুষের মনে দু’ধরনের শঙ্কা কাজ করছে। এর একটি হতে পারে যেহেতু করোনা মহামারী আকার ধারণ করেছিলো তাই এটি থেকে মুক্তি লাভ করেছেন, অন্যদিকে অনেকেই ভাবছেন আর্থিক অভাবে পরীক্ষা করাতে যাচ্ছেন না।

তবে, জনমনের এই ধারণা অসত্য বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা.মোহাম্মদ ইমতিয়াজ।

ডা.মোহাম্মদ ইমতিয়াজ লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ফি নির্ধারন হয়েছে বলেন সংক্রমন কমেছে বিষয়টি মোটেও এমন নয়। সকলের সচেতনতার কারনেই করোনাকে মোকাবেলা করা গেছে। মহামারী তো আজীবন থাকবে না। আগে ১০০ টেস্ট করলে পজেটিভ পাওয়া যেত ২০ জনের এখন পাওয়া যায় ১০ জনের। মহামারী দিন দিন কমবে এটাইতো স্বাভাবিক। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় করোনার এই মহামারী অধিক অংশে মোকাবেলা করা গেছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় করোনার সংক্রমনের প্রায় ২ মাস পর মে মাস জুড়ে মোট নমুনা সংগ্রহ হয় ৯,৩৭০ টি। যা গড়ে প্রতিদিন নমুনা সংগ্রহ করে প্রায় ৩১৩ জনের। পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে নমুনা সংগ্রহ, বাড়তে থাকে আক্রান্ত। মে মাস জুড়ে নতুন আক্রান্ত বাড়ে ১,৮৫১ যা গড়ে দিন প্রতি আক্রান্ত হয় প্রায় ৬২ জনে।

বৃদ্ধির এই ধারাবাহিকতায় অব্যাহত রেখে জুন মাসে মোট নমুনা সংগ্রহ হয় ১২,২৬৯ জনের। এতে গড় প্রতি দিনে নমুনা সংগ্রহ করা হয় প্রায় ৪৩০ জনের। নমুনা সংগ্রহের সাথে পাল্লা দিয়ে ঊদ্ধ গতিতে আক্রান্তের সংখ্যা। মাস জুড়ে মোট আক্রান্ত হয় ২,২২৫ জনে যা গড়ে প্রতি দিন আক্রান্ত হয় প্রায় ৭৫ জন।

সরকারিভাবে করোনা পরীক্ষা বিষয়ে ২৯জুন (সোমবার) নির্ধারণ করা হয়েছে নমুনা পরীক্ষার ফি। এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। বুথে গিয়ে নমুনা দিয়ে পরীক্ষা করানোর জন্য জনপ্রতি ফি হিসেবে গুনতে হবে ২০০ টাকা। এবং বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য দিতে হবে ৫০০ টাকা ফি। মূলত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য ‘অপ্রয়োজনীয় কভিড টেস্ট’ পরিহার করার লক্ষ্যে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

ফি নির্ধারনের ঠিক পরবর্তি মাস জুলাই থেকেই কমতে থাকে নমুনা সংগ্রহ। তাল মিলিয়ে কমতে থাকে আক্রান্তের সংখ্যাও। জুলাই মাসে মোট নমুনা সংগ্রহ হয় মোট ৬,৮৫৪ জনের। গড় প্রতিদিন হিসেবে নমুনা সংগ্রহ হয় ২২৮ জনের। যা ফি নির্ধারনের আগে অর্থাৎ জুন মাসের থেকে প্রায় অর্ধ্যেক। জুলাই মাসে মোট আক্রান্ত হয় মাত্র ৭২৯ জন। গড় প্রতিদিনের হিসেবে আক্রান্ত প্রায় ২৪ জনের যার গত মাসে সংখ্যা ছিলো গড় প্রতিদিনে ৭৫ জন।

0