করোনাকালে নারায়ণগঞ্জে জল আতঙ্ক

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: রাতে অন্য দশ দিনের মতোই স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন ১৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আফজাল হোসেন। সকালে ঘুম ভাঙ্গতেই দেখেন পানিতে তলিয়ে গেছে পুরো ঘরের মেঝে।

একই অবস্থা ১৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ওমর ফারুকের। সকাল থেকে তিনি ও তার স্ত্রী ইটের উপর ইট দিয়ে আসবাবপত্র রক্ষায় চেষ্টা করছেন। ডুবে গেছে রান্না ঘর, সৌচানাগারসহ পানির মটোর। তাই সকালে খাবারের সাথে পানিও বাহির থেকে কিনে আনতে হয়েছে।

মহামারী ভাইরাস করোনার নিয়ন্ত্রণে আসার কোনো লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না। অথচ, এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জের শহর ও শহর তলিতে দেখা দিয়েছে জল আতঙ্ক। গত দু’ দিনের বৃষ্টিতে পুরো নগরীরই নিম্নাঞ্চল গুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বাধঁ পরেনি প্রধান সড়কও।

সরেজমিনে শহরের বঙ্গবন্ধু রোড, মিশন পাড়া এবং নবাব সলিমুল্লাহ রোড ঘুরে দেকা গেছে, টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত নগরীর জনজীবন। কিছু যায়গায় এই পানিতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে বৈদ্যুতিক ক্যাবল। সড়কের পাশে দোকান, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মর্ডান ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বিভিন্ন ফোনের কম্পানির শো-রুমসহ আরো বেশ কিছু দোকানে উঠে গিয়েছিল। হাসপাতালে আসা রোগীদের হাতে থাকা ব্যাগ ভিজে যাচ্ছে নোংরা পানিতে। রাস্তায় বিভিন্ন অংশে ড্রেনের মুখ খোলা থাকায় রিশকা আটকে গেছে। রিকশা উল্টে পড়ার দৃশ্যও বিদ্যামান ছিলো। বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানিতে বাস, গাড়ি, রিকশার চাকা ডুবে যাচ্ছে।

স্থানীয় বলছেন, সিটি করপোরেশনের অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে এমন জলাবদ্ধতা দেখা গিয়েছে।

এ ব্যাপারটি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খোরশেদ লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ১০টি পাইপ দিয়ে পানি পড়ে। আর ১টি পাইপ দিয়ে বের হয়। আর সেই পাইপটিতেও আটকে রাখা হয় পলিথিন আর বালু দিয়ে। তাছাড়া অন্য সময় বঙ্গবন্ধু সড়কের ড্রেন দিয়ে পানি যেত। আজকের বৃষ্টিতে সেখানেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরেণের পরিস্থিতি বছরে দুই এক দিন হয়। তারপরেও আমরা দুঃখিত।

১৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজল লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, পূর্বে কাউন্সিলরাই এলাকার ড্রেন পরিস্কার করতেন। এখন সিটি করপোরেশনের সিদ্ধান্তে টেন্ডারের মাধ্যমে ড্রেন পরিস্কারও হয়েছে বহু দিন হলো। ফলে ড্রেন গুলো কিছুটা ভরাট হয়ে আছে। এছাড়া শীতলক্ষ্যা নদীর পানিও একটু বেশি। ফলে ড্রেন দিয়ে পানি কম সরছে। এতে বাসা বাড়ির রোমে পানি জমে গেছে।

নগরীর দীর্ঘ দিনের এই জলাবদ্ধতার সমস্যার সমাধানে নতুন করে কিছু ভাবছেন কি না? প্রশ্ন করতেই নারায়ণগঞ্জ নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মঈনুল ইসলাম লাইভ নারায়ণগঞ্জকে জানান, এ নিয়ে নতুন একটি মাস্টার প্লান করা করছি। সেই প্লানের আওতায় ড্রেন গুলো নিয়ে আসলে এ সমস্যা আর থাকবে না। কোভিড না থাকলে এতদিনে হয়তো কাজ ধরা হয়ে যেতো। তবে আমরা অচিরেই কাজ ধরে ফেলবো।

0