করোনার এক বছর: দুই মাস বন্ধ ছিল গণপরিবহন, ৫ মাস ট্রেন

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: গতবছর দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর জনমনে ছড়িয়ে পড়েতে থাকে আতঙ্ক। করোনার প্রকোপ রুখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় নানা কর্মসূচি। এরই প্রেক্ষিতে সংক্রমণ প্রতিরোধে বন্ধ করে দেয়া হয় সকল গণপরিবহন। সে সময়  দুই মাসেরও অধিক বন্ধ ছিলো গণপরিবহন।


প্রায় এক বছর আগে ২৫ মার্চ (বুধবার) আনুষ্ঠানিক ঘোষনা আসলেও ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকেই কার্যকর হয় গণপরিবহন চলাচলের নিষেধাজ্ঞা। করোনার ভাইরাস প্রতিরোধে সে সময় নানা পদক্ষেপ গ্রহন করে প্রশাসন। ২০২০ সালের ২৪ মার্চ দুপুর পৌনে ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভা করে টহলে নামেন সেনা সদস্যরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ মার্চ প্রথম দিন হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সকল গণপরিবহন বন্ধ করা হয়।

খাবার ও ওষুধের দোকান ব্যতিত বন্ধ হয়ে যায় সব কিছু। বন্ধ হয় শহরের সকল মার্কেট, নগরীর মূল সড়কের প্রায় সব দোকান। নগরীর ফুটপাত ছিলো সম্পূর্ণ ফাঁকা। শহরে ছিলো না মানুষের আনাগোনা। ব্যস্ততম এই শহর যেন স্তব্ধ হয়ে যায়। সে এক অচিনপুরের চিত্র। সম্পূর্ণ ফাঁকা সড়কটিতে চলাচল করতে দেখা যায় হাতেগোনা কয়েকটি রিকশা।

সে সময় দফায় দফায় বাড়ানো হয় সাধারণ ছুটি, অবশেষে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ৩০ মে তারিখের পর সাধারণ ছুটি আর বাড়বে না। দুই মাসেরও বেশি দিন বন্ধ থাকার পর ৩১ মে থেকে আবার চালু হয় সকল গণপরিবহন, তবে সাথে জুড়ে দেয়া হয় কিছু নির্দেশনা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশে বলা হয়, ‘সীমিত আকারে অফিস খুললেও ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত মানতে হবে বেশ কিছু নির্দেশনা। এই সময়ে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় জনসাধারণের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। প্রতিটি জেলার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে চেকপোস্ট ব্যবস্থা থাকবে। রাত আটটা থেকে পরদিন সকাল ছয়টা পর্যন্ত অতিজরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না।’

খুলে দেয়ার পর আবার স্বাভাবিক হতে থাকে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা। সচল হয় বাসগুলো, চলতে থাকে রিক্সা। তবে আরও দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেল যোগাযোগ। অবশেষে প্রায় ৫ মাস পর ১০ সেপ্টেম্বর থেকে আবার শোনা যায় চিরচেনা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ট্রেনের হুইসেলের আওয়াজ।

উল্লেখ্য, দেশে প্রথম ৩জন করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ, যার মধ্যে ২ জনই ছিলেন নারায়ণগঞ্জের। আজ ৭ মার্চ (রবিবার) জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে (৮ মার্চ ২০২০ – ৭ মার্চ ২০২১) নারায়ণগঞ্জ জেলায় করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৮৯৪৭ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৮৬৯১ জন, চিকিৎসাধীন আছেন ২৫৬জন। এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে পুরো জেলায় মৃত্যু হয়েছে ১৫৬ জনের।

0