করোনায় নিরলস কাজ করছেন চার ইউএনও, জানালেন ক্ষোভের কথাও

0

শামীমা আক্তার, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যে দুটি উপায়কে অধিক কার্যকর বিবেচনা করা হয়, সেই রোগ পরীক্ষা ও কোয়ারেন্টিন—দুটোতেই বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। এদিকে নারায়ণগঞ্জে ২৬মার্চ দুপুর পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৪৯জন। এনিয়ে এখনও হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ২৩৬জন। স্বস্তির বিষয় হলো বাড়িতে ফিরে গেছেন ১৪জন।

আর বর্তমান সময়ের এই পরিস্থিতি নিয়েই কথা বলেছেন নারায়নগঞ্জের ৫উপজেলার ইউএনও। তুলে ধরেছেন তাদের কার্যক্রমের কথা, বলেছেন কাজ করতে গিয়ে সমস্যার কথা।

*আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সোহাগ হোসেন আড়াইহাজার উপজেলার করোনার পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, আমাদের উপজেলায় করোনা আক্রান্ত কোন রোগী নেই। যাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা তারা হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে। আমাদের উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি আল্লাহর রহমতে নিয়ন্ত্রণে আছে।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সর্ম্পকে তিনি বলেন, মোবাইল কোর্ট প্রতিদিন পরিচালনা করা হচ্ছে এবং আগামীতেও হবে।

ডিউটি পালন করতে গিয়ে কি কি সমস্যায় পরছেন প্রশ্নে উত্তরে তিনি বলেন, কোন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি না।

*বন্দর উপজেলার নির্বাহী অফিসার শুক্লা সরকার তার উপজেলার করোনার পরিস্থিতি সর্ম্পকে বলেন, এখন পর্যন্ত কোন করোনার রোগী পাওয়া যায়নি।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সর্ম্পকে বলেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সবসময়ই হচ্ছে এবং হবে।

ডিউটি পালন করতে গিয়ে কি কি সমস্যায় পরছেন প্রশ্নে উত্তরে তিনি বলেন, মানুষ কথা শুনে না। মানুষ সচেতন না। একদমই সচেতন না। কতক্ষণ আর মাঠে থাকা যাবে। দেখা গেছে মাঠে নেমে সচেতন করেছি ও বুঝিয়ে এসেছি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে আবার সেই চায়ের দোকানে গিয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছে। বন্ধু-বান্ধব নিয়ে মাঠে ও রাস্তাঘাটে দাড়িয়ে দাড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছে। বিভিন্ন রকমের অসচেতনতামূলক কার্যক্রম করছে। তারা যদি সচেতন হতো তাহলে এসকল কার্যক্রম করতো না। আমরা বন্ধ করে দিয়ে আসি কিন্তু আবার তারা দোকান পাঠ খোলে। লোকজনও চুপে-চাপে গিয়ে বসে। এসকল কাজ গুলা না করে বাসায় থাকলে আমাদের কাজ গুলো কমে যেতো।

* এব্যাপারে কথা বলার চেষ্টা করা হলে সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার নাহিদা বারিক তার স্বভাবসুলভক কোন কথা না বলেই ফোন রেখে দেন।

*রূপগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম তার উপজেলার করোনার পরিস্থিতি সর্ম্পকে বলেন, এখন পর্যন্ত কোন করোনার রোগী পাওয়া যায়নি। তবে, আমার উপজেলায় প্রবাসী আছে ৭২২ জন আর ১০ তারিখের পর থেকে এই পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইন হিসেবে যাদের নেওয়া হয়েছে ১৯২ জন।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সর্ম্পকে বলেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সব সময়ই হচ্ছে এবং হবে। গতকাল থেকে এখেনো পর্যন্ত কাউকে জরিমানা করছিনা। অনেকটা আমাদের নিয়ন্ত্রেণে আছে। এ কারণে খুব বেশি সমস্যা দায়ক না হলে আমরা জরিমানা করবো না।

ডিউটি পালন করতে গিয়ে কি কি সমস্যায় পরছেন প্রশ্নে উত্তরে তিনি বলেন, মানুষ সব সময় যা করে অব্যস্থ তা তো আর সহজে পরির্বতন হবেনা। একটু সময় লাগবে তাদের সচেতন করতে ও নিয়মাবলি অনুসরণ করে চলতে।

* সোনারগাঁও উপজেলার নির্বাহী অফিসার সাইদুল ইসলাম তার উপজেলার করোনার পরিস্থিতি সর্ম্পকে বলেন, এখন পর্যন্ত কোন করোনার রোগী পাওয়া যায়নি। আমাদের উপজেলায় বর্তমানে লোকজনের চলা-চল একদুমই সীমিত করে দিয়েছে। খাদ্য ও ঔষধের দোকান ছাড়া সবকিছু বন্ধ করে দিয়েছি। কাউকে রাস্তায় বেড় হতে দিচ্ছি না।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সর্ম্পকে তিনি বলেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সব সময়ই হচ্ছে এবং হবে।

ডিউটি পালন করতে গিয়ে কি কি সমস্যায় পরছেন প্রশ্নে উত্তরে তিনি বলেন, দিক-নির্দেশনা গুলো মানুষ মানতে চাচ্ছে না। বাসা থেকে মানুষ বেড় হয়ে যাচ্ছে তারপর তাদের জোর করে বাসায় পাঠাতে হচ্ছে।

0