করোনা শঙ্কায় পিতা-পুত্রের লাশ দাফনে বাধাঁ, জানতেন না কাউন্সিলর

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: করোনা শঙ্কায় চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যু হয়েছে ছেলের, খবর শুনে মৃত্যু হয়েছে বাবারও। এমন পরিস্থিতিতে যখন এলাকাবাসীর পাশে থাকার কথা; তখন কাউন্সিলরের নির্দেশে কবরস্থানে দাফন করতে দেয়নি স্থানীয় কবরস্থান কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (১২ মে) এমনটাই অভিযোগ উঠেছে মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে। অথচ, মৃত ব্যক্তির করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না। এদিকে, অভিযুক্ত কাউন্সিলর বলছেন, লাশ বাঁধার খবরই তিনি জানতেন না।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৫নং ওয়ার্ডের সরদারপাড়া এলাকায় ইয়ার হোসেন (৬০) ও তার ছেলে রিমন সাউদ (২৭)। ৩ বোন ১ ভাইয়ের মধ্যে রিমন দ্বিতীয়। তার স্ত্রী এবং ৬ মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ললাটি এলাকার এমআরবি নামের ইটভাটা রয়েছে। ওই ব্যবসা তারা বাবা-ছেলে দেখাশোনা করতো।

কয়েকটি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের দাফন করা হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত পাইনাদি কবরস্থানে। এটিকে ওই এলাকার কেন্দ্রীয় কবরস্থান বলা হতো। সে অনুযায়ী রিমনের লাশও নিয়ে যাওয়া হয় কবরস্থানটিতে।

ইয়ার হোসেনের ছোট ভাই সানিক হোসেন জানান, আমার ভাই ও ভাতিজার লাশ দাফনের জন্য আমরা সিদ্ধিরগঞ্জ মিজমিজি পাইনাদী ঈদগাহ কবরস্থান গেলে সেখানে আমার ভাতিজা রিমন সাউদের লাশ দাফন করতে দেবে না বলে জানিয়ে দেন কবরস্থান কর্তৃপক্ষ। কবরস্থানের সাধারণ সম্পাদক মজু হোসেন স্থানীয় কাউন্সিরের নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়ে আমাদেরকে লাশ দাফন করতে দেয়া হয়নি। তবে আমার ভাই হাজী ইয়ার হোসেনের লাশ দাফন করতে দিতে সম্মত হয় তারা। এতে আমরা হতবাক হয়ে পড়ি। পরবর্তীতে আমরা সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলো রোড মহিউদ্দিন ইমদাদুল উলুম কওমী মাদরাসায় নামাজে জানাজা শেষে পার্শ্ববর্তী কবরস্থানে তাদের লাশ দাফন করি।

এদিকে, রিমনের লাশ সিদ্ধিরগঞ্জের ওই কবরস্থানে দাফন করতে না দেয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার দিনভর বিভিন্নস্থানে এ নিয়ে সমালোচনা করতে দেখা গেছে এলাকাবাসীকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিদ্ধিরগঞ্জ বাজারের এক ব্যবসায়ী জানায়, করোনা আক্রান্ত হলেও লাশগুলোতো দাফন করতে হবে। এছাড়া আমরা জানি মৃত্যুর ৩ ঘণ্টা পর লাশের শরীরে করোনাভাইরাসের জীবানু থাকে না। সেখানে কবরস্থান কর্তৃপক্ষ কিভাবে লাশ দাফন করতে বাধা দেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। লাশ দাফন না করতে দেয়াটাও অমানবিক।

গত ১১ মে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. সাঈদ আল-মামুন স্বাক্ষরিত দেয়া রিপোর্ট রিমনের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

এ ব্যাপারে ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওমর ফারুক লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, সিটি করপোরেশন থেকে নির্দেশ রয়েছে যদি কোন করোনা রোগীর লাশ আসে, নিজে থেকে দাফন কাফনের ব্যবস্থা করা। সেখানে কবরস্থান কমিটির পক্ষ থেকে রিমনের লাশ এসেছে, এটা জানানোও হয়নি। ব্যাপারটি আমি পুরোপুরি জানতাম না। বিষয়টি অমানবিক হয়েছে, যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, এর তীব্র নিন্দা জানাই।

এদিকে, লাশ দাফনে সরাসরি বাধাঁদান কারি হিসেবে অভিযুক্ত কবরস্থানের সাধারণ সম্পাদক মজু হোসেন লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমাদের এখানে করোনায় মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন করতে দেওয়ার সিটি, থানা কিংবা ডিসি অফিস থেকেও নির্দেশ নেই। তারপরেও কেউ যদি দাফন করতে চায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের ক্লিলারেস নিয়ে দাফন করতে হবে। তবে, এ ব্যাপারে কাউন্সিলর ফারুক কিছুই জানে না।

 

এলএন/জিআর/০৫১২-০৬

0