কর্মীরা খেয়েছেন কিনা আমরা খবরও নেই না: খোকন সাহা

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: এই দেশের সততার কিংবদন্তি ছিলেন একেএম সামসুজ্জোহা। ওনার সততার পরিচয় দিতে গেলে, এখানে অনেকে বক্তব্য দিতে পারবেন না। ১৯৭১ সালে যখন দেশ স্বাধীন হলো, তার পর অনেকেই আখের গুছানোয় ব্যস্ত ছিলেন। তখন বঙ্গবন্ধু তার ঘনিষ্ট সহচর শামসুজ্জোহা সাহেবকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পূনর্গঠন করার দায়িত্ব দিলেন। যুদ্ধে ৭টা মিল ধ্বংস হয়েছিলো নারায়ণগঞ্জে, তখন উনি বঙ্গবন্ধুর সাথে আলাপ করে মিলগুলোকে পুনরায় খোলার ব্যবস্থা করলেন।


আমাদের কর্মীরা খেয়েছেন কিনা তা আমরা জানি না, খোজ খবরও নেই না। আমাদের উচিত এই মহান নেতা থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিত।

একেএম সামসুজ্জোহার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) দুপুর ৩টায় চাষাড়া জিয়া হল প্রাঙ্গনে আয়োজিত এক স্মরন সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি এইচ এম রাসেলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল।

খোকন সাহা আরও বলেন, মোশতাক-জিয়ারা ওনাকে (সামসুজ্জোহা) অনেক কিছুর লোভ দেখিয়েছিলেন। তবুও তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হন নাই, এখানে অনেকেই এ কথা জানেন না। ১৯৭৫ সালে সামসুজ্জোহা সাহেব এত বড় নেতা হওয়ার পরেও ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে তার বড় ছেলে নাসিম ওসমানকে বিয়ে দেন। আমরা তার আদর্শের রাজনীতি করেছি। আমরা ওনার সামনে থাকলে কখনো ওনার মুখের দিকে তাকাতাম না, নিচের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। কেননা ওনার মুখের দিকে তাকানোর সাহস আমাদের ছিলো না!

প্রয়াত জননেতা একেএম সামসুজ্জোহার স্মৃতিচারণ করে খোকন সাহা বলেন, আমার এখনো মনে আছে, ১৯৮২ সাল ওনার টেলিফোন টা নষ্ট। নেতা (সামসুজ্জোহা) ডেকে তার মানিব্যাগ থেকে এক শত টাকার একটি নোট দিয়েছিলেন আমাকে। ওনার মানিব্যাগে ওই একশত টাকার নোটটাই ছিলো। সেই টাকা নিয়ে ১ টাকা ২০ পয়শা খরচ করে বিকেল ৪টার সময় আসলাম তার কাছে। এসে যখন বাকি টাকাটা ফেরত দিতে যাই তিনি বললেন, এটা রেখে দাও তোমার কাছে। যাওয়ার সময় উনি বললেন, দাড়াও। আমি তো চিন্তায় পরে গেলাম, দাড়াতে বললো কেন। তখন ওনার বারান্দায় রাখা ওনার খাবারটা দেখিয়ে আমাকে বললেন খেয়ে যাও। তিনি নিজে না খেয়ে ওই খাবারটা তার কর্মীর জন্য রেখে দিয়েছিলেন। পরে আমি খেয়ে এসছি শুনে তিনি নিজে খাবারটা খাওয়ার প্রস্তুতি নিলেন।

মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সভাপতি শান্ত রহমান, সদস্য সচিব জে আর রাসেল সঞ্চালনায়, এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি বাবু চন্দনশীল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন, নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামিউল্লাহ মিলন।

0