কাঁচপুরের পর মেঘনা ২য় সেতু, এ এক ভিন্ন ইতিহাস!

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: কাঁচপুর ২য় সেতুর পর নির্ধারিত সময়ের আগেই মেঘনা ২য় সেতু প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হতে যাচ্ছে। ‘কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ এবং বিদ্যমান সেতু পুনর্বাসন’ শিরোনামে প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে মেঘনা দ্বিতীয় সেতুর নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগে শেষ হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই তিনটি সেতু নির্মাণের জন্য যে টাকা বরাদ্দ ছিল, সেই অর্থের চেয়েও কম খরচে নির্মাণ কাজ শেষ করেছে নির্মাণকারী জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো।

এ বছরের ১৬ মার্চ কাঁচপুর দ্বিতীয় ব্রিজের উদ্বোধন করা হয়েছে। ঈদের আগে আগামী ২৫ মে মেঘনা দ্বিতীয় সেতুর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রকল্প সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ১ এপ্রিল শুরু হওয়া এই প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর। অর্থাৎ নতুন ব্রিজ গুলোর নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হলেও পুরো কাজ শেষ হতে আরও সময় লাগবে।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘নতুন দুটি ব্রিজ ২৫ মে থেকে চালু হয়ে যাবে এবং পুরাতন ব্রিজগুলো মেরামতের কাজ শুরু হবে।’

প্রকল্প পরিচালকের দেয়া তথ্য মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের ২৫তম কিলোমিটারে মেঘনা নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে মেঘনা দ্বিতীয় সেতু। সেতুটি নির্মাণে সময় লেগেছে ৪১ মাস। ২০১৬ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০১৯ সালের ২৫ মের মধ্যে শেষ হলো সেতুটি নির্মাণের কাজ। সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা।

মেঘনা দ্বিতীয় সেতুটির দৈর্ঘ্য ৯৩০ মিটার, প্রস্থ ১৭ দশমিক ৭৫ মিটার। এর মধ্যে যানবাহনের জন্য ১৪ দশমিক ৬০ মিটার, ফুটপাত ১ দশমিক ৫০ মিটার, ইন্সপেকশন প্যাসেজ দশমিক ৬০ মিটার, মিডিয়ান বেরিয়ার দশমিক ৬৫ মিটার এবং রেলিং দশমিক ২০ মিটার। এতে লেন সংখ্যা ৪টি।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মেঘনা দ্বিতীয় সেতুর জন্য বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার মধ্যে এই সেতু নির্মাণ কাজ শেষ করেছে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো। অর্থাৎ বাংলাদেশের সাশ্রয় হয়েছে এই সেতু থেকে ৫০০ কোটি টাকা।

আর কাঁচপুর সেতুর জন্য বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। তবে এই প্রকল্প কত টাকার মধ্যে শেষ করতে পেরেছে প্রতিষ্ঠানগুলা, তা জানা যায়নি।

প্রকল্প পরিচালক মো. নুরুজ্জামান জানান, এই প্রকল্প (নতুন ব্রিজ নির্মাণ+পুরাতন ব্রিজ সংস্কার) থেকে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের ইতিহাসে গড়াই ব্রিজ নির্মাণের কাজ (১৯৯০ সালে) নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করা হয়েছিল। এরপর নির্ধারিত সময়ের আগে পুরাতন মেঘনা ও গোমতী সেতুর কাজ শেষ করা হয়েছিল যথাক্রমে ১৯৯১ ও ১৯৯৫ সালে। সবগুলো কোম্পানিই ছিল জাপানের। বাংলাদেশে নির্ধারিত সময়ের আগে প্রকল্পের কাজ শেষ করার ইতিহাস একমাত্র জাপানিদেরই। আর কারও নেই। ১৯৯৫ সালের পর এই কাজটা তারাই করল।

0