কাউন্সিলর দিনার ‘যন্ত্রনা’

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর আয়েশা আক্তার দিনা। দেশে করোনার পরিস্থিতির শুরু থেকেই এলাকায় কাজ করছেন যর্থাথ জনপ্রতিনিধি হিসেবেই। এ জন্য সবার কাছেই গ্রহনযোগ্যতার পাশাপাশি প্রশংসিত হচ্ছেন। হাতে গোনা যে কয়জন জনপ্রতিনিধি সব সয় জনতার পাশে আছেন তাদের একজন এ দিনা। ভয়াবহ করোনার এই দূর্যোগকালে রাত-দিন নিজ এলাকায় শ্রম দিচ্ছেন। সরকারী-বেসরকারী সহায়তার পাশাপাশি নিজের ব্যক্তি উদ্যোগেও খাদ্যসহযোগিতাসহ নানা বিষয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।

কাজ করতে গেলে নানা মানুষের নানা মন্তব্য কখন যেমন কাজের গতি বাড়ায়, আনন্দ দেয়। তেমনী অনেক সময় সেই মন্তব্য মনে যন্ত্রনাও বাড়ায়, উৎসাহে ভাটা ধরায়।

কাউন্সিলর আয়েশা আক্তার দিনা তেমনি এক কষ্টে-যন্ত্রনায় আছেন। মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টের মাধ্যমে কাউন্সিলর দিনা তা প্রকাশ করেন। পাঠকের জন্য হুবহু তা তুলে ধরা হলো-

“কিছু যন্ত্রণার কথা আজ শেয়ার করি,,,, আমি এ পর্যন্ত যতগুলি ব্যক্তিগত ত্রান দিয়েছি একজন মানুষের নাম বা ছবি কোথাও প্রচার করিনাই।কারন আমিও জানি ত্রান গ্রহিতাকে এতে লজ্জায় পরতে হয় কিন্তু অনেকেই তখন কমেন্টস করা শুরু করলো ” আপনি শুধু ত্রানের পেকেট এর ছবি দিয়েছেন কিন্তু ত্রানগুলি যে সত্যিই দিয়েছেন তার প্রমান কি??? আমি তাদের প্রমান দেওয়ার প্রয়োজনই মনে করিনাই।এরপর যখন সরকারী ত্রান আসলো তখন নির্দেশনা আসল ত্রানের কিছু ছবি তোলবেন পোস্ট করবেন হয়তবা সরকার যে ত্রান দিচ্ছে তার নিয়মেরই একটা অংশ আবার যাদের দিচ্ছি তাদের মাস্টর রোলের পাতায় স্বাক্ষর নিতে হচ্ছে নিয়ম অনুযায়ী। এখন ঐ সব লোকগুলিই আবার কমেন্টস করছে ত্রান দিচ্ছেন ভালো কথা তাই বলে আবার ছবি দেওয়া লাগে জানেননা এতে একটা মানুষকে ছোট করা হচ্ছে,,,,,কেও কেও লকডাউনে ঘরে বসে বসে এতটাই জ্ঞানী গুনী হয়েছে যে কমেন্টস এ নানান ধরনের উপদেশ মুলক বানী দেওয়া শুরু করে দিয়েছে।অনেকে আবার সামনে ভোট আসলে দেখিয়ে দেবার হুমকিও দিচ্ছে।যাইহোক ভোট ত অনেক দুরের বিষয় আগে এই করোনা থেকে আমরা বাঁচবো কিনা তারই কোন গ্যারান্টি নাই।মহামারী একা কারো জন্য আসে নাই।আপনারা যারা লকডাউনে ঘরে বসে নিরাপদে থেকে আমাদের উপদেশ দিচ্ছেন তারা উপদেশ দেওয়ার আগে একটু ভাববেন আমরা জনপ্রতিনিধিরা রক্তে মাংসের মানুষ,,,,আমাদেরও পরিবার আছে,,, আমরা যখন আপনাদের সেবা দেওয়ার জন্য বাহিরে যাই তখন আমাদের পুরো পরিবার আতঙ্কে থাকে আমরা আবার এই করোনা বহন করে নিয়ে আসছিনাতো। আমাদের মায়েরা সারাক্ষন আল্লাহর দরবারে আমাদের নিরাপত্তার জন্য দোয়া করতে থাকে।কিন্তু সারাদিন আপনাদেরজন্য পরিশ্রম করে বাসায় এসে ক্লান্ত হয়ে যখন দেখি আপনাদের কমেন্টস এ কটুক্তি তখন মনটা ভেঙ্গে যায়,,,, চোখে নিজের অজান্তেই পানি চলে আসে,,,,, নিজের জিবনের পরোয়া না করে পরিবারের চিন্তা না করে আমরা জনপ্রতিনিধিরা যখন আপনাদের সেবায় এতটা রিস্ক নেই তখন আপনারা কেউ কেউ আমাদের জিবনের জন্য দোয়া না করে উল্টা উপদেশ আর কটুক্তি করে যান।আসলে আমরা জনপ্রতিনিধিরা কি করলে যে আপনারা খুশি হবেন জানিনা।সেদিন যেই অটো রিক্সায় করে ত্রান নিয়ে যাচ্ছিলাম সে আমাকে স্বান্তনা দিয়ে বললো,,,, আপা যে আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করছে সেই আমাদের মন ভরাইতে পারেনা আর আপনে তো তার বান্দা আপনি কেমনে পারবেন।,,,,,,, ভালো থাকবেন সবাই,,,,,,,”

 

0