কামাল প্রধা‌নের বিরু‌দ্ধে প্রবাসীর জ‌মি জা‌লিয়া‌তি ক‌রে বি‌ক্রির অভি‌যোগ, থানায় মামলা

0

স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: এক সৌ‌দি আরব প্রবাসীর জ‌মি জা‌লিয়া‌তি ক‌রে অ‌ন্যের কা‌ছে বি‌ক্রির অ‌ভি‌যোগ উ‌ঠে‌ছে এল‌ডি‌পি নেতা কামাল প্রধা‌নের বিরু‌দ্ধে। বন্দর উপজেলার কুশিয়ারা এলাকার এক‌টি জ‌মি নি‌য়ে ওই ঘটনায় বন্দ‌র থানায় মামলা দা‌য়ের হ‌য়ে‌ছে।

৩১ অক্টোবর সৌ‌দি আরব ফেরত আনিসুর রহমান বাদী হয়ে বন্দর থানায় ম মামলা‌টি দায়ের করেন। মামলা নং ৪৫।

মামলায় আসাসী করা হ‌য়ে‌ছে বন্দরের বাগবাড়ি এলাকার প্রধান বাড়ি এলাকার আবুল প্রধানের ছেলে কামাল প্রধান, ৮৯ নং উইলসন রোড এলাকার মৃত হাজী সদর উদ্দিনের ছেলে আক্তারুজ্জামানসহ আজ্ঞাত কয়েকজনকে।

প্রবাসী আনিসুর রহমান এর আগে পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের কাছে এ ব্যাপারে এক‌টি অভিযোগও দিয়েছিল। অভিযোগটি তদন্ত করতে পুলিশ সুপার নির্দেশ দি‌য়ে‌ছিল জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীরকে।

মামলা ও ভুক্ত‌ভোগী সূ‌ত্রে জানা যায়, সৌ‌দি আর‌বে চাকু‌রিকা‌লিন সময়ে আনিসুর রহমান বন্দ‌রে ১৬ শতাংশ জমি কিনেন। দীর্ঘদিন পর তিনি দেশে এসে নিজ জমিতে গিয়ে শুনেন বি‌ক্রি হ‌য়ে‌গে‌ছে অন্যত্র! কামাল প্রধান নামক এক ব্যক্তি অপর একজনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন!
পরে নানা ভাবে খোঁজাখুঁজির পর তিনি জানতে পারেন কামাল প্রধান একটি পাওয়ার অব অ্যার্টনীর মাধ্যমে তার জায়গাটি অন্য একজনের কাছে বিক্রি করেন।

এ‌বিষ‌য়ে আনিস ব‌লেন, কামাল প্রধানকে পাওয়ার অব অ্যার্টনী দেওয়াতো দূরের কথা, এই কামাল প্রধান কে, তা তিনি নিজেও চিনেন না এবং এতে যে স্বাক্ষর ও টিপ সই রয়েছে তা তার নিজেরও নয়।

খোজ নি‌য়ে জানা যায়, বন্দর উপজেলার কুশিয়ারা মৌজাস্থ পৃথক তিনটি দলিল মূলে ১০, ৪ এবং ২ শতাংশ জমি ক্রয় করে আ‌নিস ২০০৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সালের ২৯ জুলাই। এরপর সে সৌদি আর চলে যায়। ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে এসে আ‌নিস জানতে পারে জমিটি কামাল প্রধান নামক ব্যক্তি একটি ‘ভূয়া’ পাওয়ার অব অ্যাটর্নীর মাধ্যমে ২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিক্রি করে দিয়েছেন।

কামাল প্রধান বিষ‌য়ে আ‌নিস ব‌লেন, আমি তা‌কে চিনতে পারছিলাম না। পরবর্তীতে আক্তারুজ্জামানের কাছ থেকে কামালের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করি। কিন্তু দীর্ঘদিন তাকে খুঁজেও পাচ্ছিলাম না। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর কামাল প্রধানের বন্দর বাগবাড়ি এলাকার নিজ বাড়িতে গিয়ে এমন প্রতারণার কারণ কি, জানতে চাইলে তিনি আমাকে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে নি‌য়ে ভয়ভীতি ‌দেখায়। এবং মামলা মোকাদ্দমা করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

ভুক্ত‌ভোগী প‌রিবা‌রের সদস্যরা জানান, সম্প্রতি এই কামাল প্রধান নিজেকে তিনটি পত্রিকার প্রকাশ উল্লেখ করে গণমাধ্যমে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে দাবি করেছেন, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই আলমগীর তাকে ডিবি কার্যালয়ে জোরপূর্বক ডেকে নিয়ে হুমকি ধামকি প্রদান করেছেন!
তবে, ডিবি পুলিশর এসআই আলমগীর এ ব্যাপারটি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এসপি বরাবর আনিসুর রহমান নামক এক ব্যক্তি একটি অভিযোগ দেন। সেটির তদন্ত করতে দায়িত্ব দেওয়া হয় আমাকে। কিন্তু কামাল প্রধান কে, সেটি চিনতে পারছিলাম না। এরমধ্যে কোর্ট এলাকার একটি ক্যান্টিনে বাদি আনিসুর দেখিয়ে দেন উনিই কামাল প্রধান। তখন তাকে ঘটনাটা বলি এবং উভয় পক্ষকে বসে এর একটা সমাধান করার জন্য বলি। পরে তিনি নিজে সময় দিয়েছিলেন আসবেন বলে। কিন্তু তিনি না এসে পরের দিন পত্রিকাতে একটি সংবাদ প্রকাশ করান যার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

মামলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বন্দর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আজহারুল ইসলাম বলেন, কামাল প্রধানের বিরুদ্ধে এর আগেও বেশ কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি। এরমধ্যে প্রতারণার অভিযোগে একটি কোট পিটিশন রয়েছে। এছাড়াও আদালতে তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা রয়েছে।

0