কিছু ভুল থাকতেই পারে আমাদের: এসপি হারুন

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ থেকে বদলি হওয়া পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কাজ করতে গিয়ে সমালোচিত হয়েছি আমি। আসল ঘটনা তদন্তে বের হবে।

বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন অর রশীদকে বদলি করে পুলিশ সদর দফতরের পুলিশ সুপার (টিআর) করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়া হয়। বিদায়ী সংবর্ধনায় এসব কথা বলেন তিনি।

জেলা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এসপি হারুন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জে ১১ মাসের কর্মজীবনের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতে নারায়ণগঞ্জে ১১ মাসের কর্মজীবনে কতটুকু দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন, নারায়ণগঞ্জের মানুষকে শান্তিতে বসবাসের জন্য কতটুকু চেষ্টা করেছেন সেসব কথা তুলে ধরেন এসপি হারুন।

পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাশেমের ছেলে শওকত আজিজের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন হারুন।

পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাশেমের ছেলে শওকত আজিজের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে এসপি হারুন বলেন, ‘আমার কোনো সহকর্মীর দিকে কেউ পিস্তল তাক করবে, সেটা তো হতে পারে না। তাই ওই ব্যক্তি কত বড় সম্পদশালী বা শক্তিশালী সেটা আমি দেখিনি। কিন্তু বলা হয়েছে চাঁদা দাবি করেছি। মূল বিষয় হলো মামলা হয়েছে, পুলিশ রেইড দিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার (শওকত আজিজের) ছেলেকে আনা হয়েছিল, মা স্বেচ্ছায় এসেছে। এগুলো আপনারা জানেন। তবুও বিদায়বেলায় আমি বললাম।’

তিনি বলেন, ওই দিনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত নয়। কথায় নয়, মন থেকে যেটা ভালো মনে হয়েছে সেটাই করেছি। এতে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের ইমেজ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের সহযোগিতা করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের প্রসঙ্গে এসপি হারুন বলেন, ‘আমি নারায়ণগঞ্জে থাকা অবস্থায় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে কাজ করেছি। নারায়ণগঞ্জে দুই হাজার পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। কিছু ভুল থাকতেই পারে আমাদের। এরপরও যারা ভুল করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অ্যাকশন নিয়েছি। সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের পক্ষে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, এমপি-মন্ত্রী কেউ তদবির করেননি। এটা আমাদের ভালো লেগেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি কোনোদিন মাদক, সন্ত্রাস, ভূমিদস্যুসহ কোনো অপরাধীর সঙ্গে আপস করিনি, যতদিন বেঁচে থাকব অন্যায়ের সঙ্গে আপস করবও না। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কাজ করতে গিয়ে সমালোচিত হয়েছি। এরপরও মানুষকে শান্তিতে রাখার চেষ্টা করেছি, এটাই আমার দায়িত্ব ছিল।’

এসপি হারুন বলেন, ‘পুলিশ ভালো কাজ করতে গেলে এটা যদি কারও বিপক্ষে যায় অনেকের কাছে খারাপ লাগতে পারে। কেউ অপরাধ করলে বলে না আমি অপরাধ করেছি। একজন মানুষের নামে ওয়ারেন্ট কিংবা মামলা হলে তাকে গ্রেফতার করবে পুলিশ, এটাই স্বাভাবিক। এতে পুলিশের খারাপ হওয়ার কিছু নেই। পুলিশ অপরাধীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ভালো কাজ করলে সমালোচিত হওয়া স্বাভাবিক।’

বক্তব্যের একপর্যায়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এসপি হারুন। সেই সঙ্গে মঞ্চে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তার কান্না দেখে আবেগাপ্লুত হন পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা।

বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে এসপি হারুনের গাড়ি ফুল দিয়ে সাজিয়ে তাকে বিদায় দেয়া হয়। গাড়িতে ওঠার আগে পুরো পুলিশ লাইন্স ঘুরে দেখেন এসপি হারুন।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, ব়্যাব-১১ এর সিইও কর্নেল কাজী শামসের উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মামুন, নূরে আলম, সুবাস সাহা ও ইমরান মেহেদী সিদ্দিকী প্রমুখ।

0