কুতুবপুরে চৌকিদার’র দেখা নেই, তবুও দিতে হবে ট্যাক্স

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বাড়ির গেইট খুলেই আসলাম হোসেন দেখলেন ইউনিয়ন চৌকিদারসহ বেশ কয়েক জনকে। তাদের হাতে রশিদ বই। চাইছেন বকেয়া চৌকিদারী ট্যাক্স। শুনেই ‘কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ’।

একই ভাবে লোক মুখে ঘর প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স আদায়ের কথা শুনে চিন্তায় কথা জানিয়েছেন জেসমিন আক্তার নামের এক নারী।

শুধু আসলাম হোসেন কিংবা জেসমিন আক্তার নয়, কুতুবপুর ইউনিয়নে বসবাসরতদের কাছে এ ‘চৌকিদারী ট্যাক্স’ রিতিমতো চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আসলাম হোসেন বলেন, ‘দাদার পর বাবা, এখন আমরা এই ইউনিয়ন পরিষদে বাড়ির মালিক। কখনও শুনিনি ‘চৌকিদারী ট্যাক্স’র কথা। পূর্ব পুরুষরাও দেয়নি। এখন শুনছি, ‘চৌকিদারী ট্যাক্স’ আদায়ের নিয়ম বহু বছর আগের। তাও আবার ঘর প্রতি ২‘শ টাকা।’

আইন বলছে, চৌকিদারি কর আদায়ের মাধ্যমে চৌকিদারদের বেতন প্রদানের জন্য ১৮৭০ সালের গ্রাম চৌকিদারি আইন পাস হয়। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ ও স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধনী) আইন ১৯৯৩ এবং সরকারের নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদকে রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে ৬টি বিষয়ের ওপর কর, রেট, ফি ইত্যাদি আরোপ ও আদায়ের ক্ষমতা দেয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৭৪ সালে রফিকুল ইসলাম আশরাফী চেয়ারম্যান থাকাকালিন সময় থেকে শুরু করে গত ৪৬ বছরে কোন চেয়ারম্যানই এ চৌকিদারী ট্যাক্স আদায় করেনি ইউনিয়নটিতে। বর্তমানে ইউনিয়নের ৩১টি গ্রামে প্রায় ৬৫ হাজার পরিবারের বসবাস। সে হিসেবে প্রায় ১২ কোটি টাকা এ ক্ষাত থেকে আয় হওয়ার কথা।

ওই এলাকাটির বাসিন্দা জেসমিন আক্তার বলেন, এখন বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল দিতে দিতেই পাগল প্রায় অবস্থা। তারউপর আবার চৌকিদারী ট্যাক্স। ‘চৌকিদা’দের গল্প দাদা বাবাদের মুখে শুনেছি। ছোট থেকে বড় হয়েছি, এলাকায় চৌকিদার দেখিনি। এখন আমাদেরকেও সেই চৌকিদারী ট্যাক্স দিতে হচ্ছে।

এ দীর্ঘ সময় পর ‘চৌকিদারী ট্যাক্স’ আদায়ের ব্যাপারটি চালুর বিষয়ে চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু বলেন, ‘নিজেদের জনপ্রিয়তা নষ্ট হবে চিন্তা করে আমার আটারো বছরের চেয়ারম্যানি আমলে কোন দিনই চৌকিদারী ট্যাক্স আদায় করি নি। আমার আগের চেয়ারম্যানরাও উঠায়নি। এখন বাধ্যতা মূলক করে দিয়েছে সরকার। এখন না তুললে আমাকেই জরিমানা করা হবে।’

চেয়ারম্যানের ভাষ্যমতে, ‘মানুষের ট্যাক্স দিয়ে অভ্যাস নেই। যার কারণে সর্বনিম্ম ধরেছি। একটি রুম থাকলে ট্যাক্স ২‘শ টাকা, অনেকের ফ্যাট বাড়ি, ৪ ফ্যাট থাকলে ৮‘শ, এ ভাবে ধর্য করে একটি কোম্পানিকে দায়িত্ব দিয়েছি। ওরা ট্যাক্স সংরক্ষণ করে ইউনিয়ন পরিষদে জমা দিয়ে দেয়। এর তদারকি আমি নিজেই করি।’

0