কে এই সিমু?

0

হাসিনা রহমান সিমু। রাজনীতির পাশাপাশি একাধিক সমাজসেবামূলক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত আছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন অটিজম শিশুদের নিয়ে একটি স্কুল। আরও প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘সিমু আনন্দধাম বৃদ্ধাশ্রম’। তবে, তার এসব কাজের আড়ালে প্রতরণার নানা তথ্য ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন জেলা শ্রমিক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদ বাগিয়ে নিয়েছেন নানা চতুরতায়। তবে, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হলেও তার নানা ছিলেন জামায়াতের নেতা। তার নানা জাফর সাদেক ভূইয়া ছিলেন বন্দর থানা জামায়াতের আমির। নিজের পরিচয় গোপন রেখে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন তিনি।

বছর খানেক আগে আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো যে, যুদ্ধাপরাধী কেউ বা জামায়াতে ইসলামীর কেউ যেনো তাদের দলে যোগ দিতে না পারে। জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এমন কোন নেতার পরিবারের সদস্যদের আওয়ামী লীগের যোগদানের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। শেখ হাসিনা বার বার এসব সুবিধাবাদীদের সম্পর্কে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। ২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিএনপি-জামায়াত থেকে কাউকে দলে নিতে নিষেধও করেন।

জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর পূর্বে মারা যান বন্দরের কদম রসূল এলাকার জাফর সাদেক ভূইয়া। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার বাড়িতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের নিয়মিত মিটিং হতো।

এদিকে জামায়াত নেতার নাতনি হয়েও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন হাসিনা রহমান সিমু। জেলা শ্রমিক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদকের পদে দায়িত্ব পালন করছেন। আবার সপরিবারে থাকেনও নানা বাড়িতে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সামাজিক সংগঠন আনন্দধামের নির্বাহী চেয়ারম্যান হাসিনা রহমান সিমু। হাসিনা অটিজম চাইল্ড কেয়ার নামে একটি স্কুলও চালান তিনি। মূলত সমাজসেবী হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সাথে পরিচয় হয় তার। আওয়ামী লীগের জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতার সাথে সখ্যতার কারণে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা সমাবেশে উপস্থিত থাকেন তিনি। গত রমজানে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার পার্টিতেও দেখা গেছে তাকে।

চার বছর পূর্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদের হাত ধরে শ্রমিক লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। গত বছরের ১৫ জানুয়ারি জেলা শ্রমিক লীগের নতুন কমিটিতে মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেন। এই কমিটির সভাপতি কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মাঈনুদ্দিন আহমেদ বাবুল।

জাফর সাদেক ভূইয়া জামায়াত নেতা ছিলেন বিষয়টি স্বীকার করে জেলা ও কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ বলেন, ‘জাফর সাদেক জামায়াত নেতা ছিল এটা সঠিক। আমি যদি মুক্তিযোদ্ধা হই কিন্তু আমার বাপে যদি রাজাকার হয় সেক্ষেত্রে তো তুলনা দিলে চলবে না।’

জামায়াতের রাজনীতির কাউকে দলে নেওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে শুক্কুর মাহমুদ বলেন, ‘আমি একটা মিটিংয়ে আছি। এ বিষয়ে এখন কিছু বলতে পারবো না।’ এই বলে কলটি কেটে দেন তিনি।

এ বিষয়ে হাসিনা রহমান সিমুর মুঠোফোনের নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তার নানা জামায়াতের নেতা ছিলেন বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। তবে আর কোন কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

0